• প্রচ্ছদ » অডিও » শেয়ার বাজার ধসের জন্য অর্থমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ করা উচিত (ভিডিও)


শেয়ার বাজার ধসের জন্য অর্থমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ করা উচিত (ভিডিও)

জয়যাত্রা ডট কম : 30/05/2016

abu-ahmed-550x370এম এ আহাদ শাহীন : ১৯৯৬ সালে শেয়ার বাজার ধসের পর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এস এম কিবরিয়া দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু ২০১০ সালে বাজারে মহা ধসের পরেও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত দুঃখ প্রকাশ করেননি বরং শেয়ার বাজার নিয়ে নানা মন্তব্য করেছেন। বাজারে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর ক্ষতির জন্য তার দুঃখ প্রকাশ করা উচিত। একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ।

তিনি বলেন, ৯৬ সাল ও ২০১০ সালের দুটি বড় ধসের সময় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। সরকার এ ধস চায়নি কিন্তু কিছু লোক সেই ক্ষেত্র তৈরি করেছে এবং তা বাস্তবায়ন করেছে। ২০১০ সালের ধসের সময় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ৩৩ লাখ। অথচ তার আগের বছরেও অর্ধেক লোক ছিল। চারদিকে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল যে এসব লোক অল্প সময়ের মধ্যে মার্কেটে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। সেজন্যই মার্কেটে শেয়ারের দাম অতি মূল্যায়িত হয়েছে। আর যেহেতু সুবিধাবাদীরা জানে যে এসব শেয়ারের দাম এত হবে, তখনই তারা শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে কেটে পড়েছে।

অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, শেয়ার বাজার দেশের অর্থনীতির দর্পন। বাজার নি¤œ থাকলে অর্থনীতি নি¤œমুখী ও ঊর্ধ্বে থাকলে অর্থনীতির সূচক ভালো বলে মনে করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ শেয়ার বাজারমূখী না। তারা জায়গা জমির উপর নির্ভরশীল। শেয়ার বাজার রুটকে যেভাবে ব্যবহার করার দরকার ছিল সেভাবে ব্যবহার করা যায়নি।

তিনি বলেন, ২০১০ সালের ধসের ক্ষতি থেকে সরকার বা সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিনিয়োগকারীদের কাটিয়ে তুলতে পারেনি। এক্ষেত্রে ব্যর্থতা বেশি সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের। সেসময় বাজারে ডিমান্ড ও সাপ্লাইয়ের মাঝে গ্যাপ সৃষ্টি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে শত শত কোটি টাকা বাজার থেকে নিয়ে গেছে। ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীর বাজারে এখন খুব বেশি হলে ৪ থেকে ৫ লাখ বিনিয়োগকারী সক্রিয় রয়েছেন।

বাজারে এখনো ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়ে নাই অভিযোগ করে অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বিভিন্ন কায়দায় বিভিন্ন উদ্যোক্তা তাদের জাঙ্ক শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নিয়ে গেছে। সিকিউরিসি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন তা প্রতিহত করতে পারে নাই। এসব কারণে একটি আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। বলতে গেলে শেয়ার বাজারে জুয়া খেলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মৌল ভিত্তিক শেয়ার ক্রয়ের জন্য বলা হয় এজন্য যে, খারাপ শেয়ার ক্রয়ে যে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে এখানে তা থাকে না। যখন দাম কমে তখন মৌল ভিত্তিকসহ সব শেয়ারের দামই কমে। এখন যা হচ্ছে। কিন্তু মৌল ভিত্তিক শেয়ার ক্রয় করলে দাম কমলেও দীর্ঘ মেয়াদে সে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব।

ধনঁ ধযসবফআবু আহমেদ বলেন, আমাদের শেয়ার বাজারের খারাপ দিক হচ্ছে শর্টটার্ম বিনিয়োগ প্রবণতা। পৃথিবীর কোথাও ৯৯ ভাগ শর্টটার্ম বিনিয়োগকারী পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমাদের এখানে তা হচ্ছে। সবাই দুই এক মাসের মধ্যে ধনী হতে চায়। কিন্তু সেটাও ওভারকাম করা যেতো। যদি বছরে ১০টা ভালো শেয়ার সরবরাহ করা যেতো। কিন্তু যেসব শেয়ার আসছে তা ৬ মাসের জন্যও কিনে রাখার মতো নয়।
তিনি বলেন, বাজারকে অতি মূল্যায়িত করে অনেক উদ্যোক্তাই বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বলবো, যারা বাজার থেকে প্রতারণা করে টাকা তুলে নিয়ে গেছে তাদের শেয়ার যেন ক্রয় না করে। তারা যে ফাঁদ সৃষ্টি করে বিনিয়োগকারীরা তাতে ঝাপিয়ে পড়ে। এটাতো বিনিয়োগকারীদের দোষ।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019