সেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুটি এখন আমলা !

জয়যাত্রা ডট কম : 14/08/2017

জিকরুর রেজা খানম। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন শাখা)। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শখের বশে লেখালেখি করেন। ইতমধ্যে ‘মিসকা পুষির ঝুলি’ ‘অদ্ভুতুড়ে ভূতের গল্প, জানু পাগল, ‘কাহানি হিল্লি দিল্লিকা, ‘বাঙালের বিলায়েতনামা’সহ কয়েকটি বই লেখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৮০ সালে বিএসএস (অনার্স) পরীক্ষায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রথম শ্রেণী অর্জন করেন। ১৯৮১ সালে একই বিভাগ হতে এমএসএস ডিগ্রী অর্জন করেন তিনি। ছোট বেলায় স্কুল জীবনের সময়টুকু কিভাবে অতিবাহিত করেছেন তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধারাবাহিকভাবে লেখছেন তিনি। এর একটি অংশ আমাদের সময় ডটকমের পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হল।

ছোট বেলার কথা। সাতক্ষীরাতে আমার অক্ষরজ্ঞান আর পড়ালেখায় হাতেখড়ি। পেটুকতো আর কম ছিলাম না, লজেন্সের লোভে আমার উত্তরণ ঘটছিল জ্যামিতিক হারে। সারা জীবন যত পড়ালেখার হাত থেকে বাঁচতে চাইতাম তত সেটা আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরত। পরবর্তীকালে কে এই পড়া লেখা নামের বিদঘুটে জিনিস আবিস্কার করেছে ভেবে ভেবে আমার মেজাজ গরম হত আর তার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতাম।

যাই হোক স্যারের কাছে আমার উন্নতির সংবাদ পেয়ে আমাকে স্কুলে ভর্তি করা হল। কিন্তু এই অবিচারের বিরুদ্ধে মন এমনই বিদ্রোহ করেছিল যে রাগে দুঃখে স্কুলে পথে পা দিয়ে আমার জবান টোটালি বন্ধ হল। বড়বোনদের সাথে স্কুলে গেলাম বটে, ক্লাসেও বসলাম, কিন্তু স্যার যতই নাম জিজ্ঞেস করেন, জবাবে কিছুই বলি না। চুপতো চুপ, একেবারে চুপের চৌদ্দগুষ্ঠি যারে কয়। বিশ্বব্রম্মান্ডের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মে গেছিল, কোন অপরাধ করলাম না, তবু আমাকে স্কুল নামের জেলখানায় কেন পাঠানো হয়েছে, এটা ঘোড়তর অন্যায়! কাজেই মনের ভাবটা ছিল এমন, কথা কমু নাতো কমুই না, কেমনে কওয়াবি দ্যাখ! অনেকক্ষণ চেষ্টার পর কথা বলাতে না পেরে স্যার সোজা বেঞ্চের উপর কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখলেন। তাতে আমার রাগ বাড়লো বৈ কমলো না। স্যারতো আর জানেন না, কেবলমাত্র আদর করে বললেই আমাকে দিয়ে সবকিছু করানো সম্ভব, অন্যথায় আমি গোঁয়ার নাম্বার ওয়ান, চ্যাম্পিয়নও বলা যায়। বেঞ্চের উপরে কান ধরে প্রথমদিনই দাঁড় করানোর জন্য পিত্তি চটে গিয়েছিল। যাই হোক, আমার এই কথা বন্ধ করার খবর আমার ক্লাস আর আমি ছাড়া কেউ জানতেও পারল না। ছোটবেলায় এমনিতেই আমি একা একা ঘুরতাম, কথা কম বলতাম (বড় হয়ে সেটা পুষিয়ে নিয়েছি) কাজেই বিষয়টি গোপনই থেকে গেল।

পরদিন ক্লাসে গেলাম, একই কিচ্ছার পূনরাবৃতি হল, ফের কানে ধরে বেঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকলাম। কয়েকদিন ধরে একই ঘটনা ঘটতে থাকায় মধ্যবয়সী শিক্ষকের ধৈর্য্যচ্যুতি হল। এবার ক্লাস থেকে বাইরে স্থান হল আমার, ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকি। তারপর নিল ডাউন। তাতেও আমাকে কথা বলাতে না পেরে স্যার হাল ছেড়ে দিলেন। ক্লাসের সহপাঠিদের কাছে জিজ্ঞেস করে জানলেন আমি তাদের কারো সাথেই কথা বলি না, কেউ আমার নাম পর্যন্ত জানে না। এ ছাড়া অন্য কোন অভিযোগ নাই আমার বিরুদ্ধে। স্যার ধরে নিলেন আমি বোবা এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। কিন্তু কাউকে জ্বালাই না, গোলমাল করি না, ঝগড়া মারামারি এসব কিছুই করি না, কাজেই আমি অতি নিরিহ এক পাগল, কাউকে ঘাটাই না, উনারাও আমাকে ঘাটালেন না। ক্লাসে চুপচাপ বসে আমার দিন কাটতে লাগল। তাতে অসুবিধা হচ্ছিল না, বাসায় স্যার প্রতিদিন ক্লাসে কি পড়া হয়েছে জিজ্ঞেস করেন এবং সেই অনুযায়ী পড়ান এবং পেটুক আমি দুইটা লজেন্স বাগানোর জন্য দ্রুতই শিখে ফেলি। অবস্থা এমন দাঁড়াল যে মেজবোন দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেই লজেন্স পাবার আশা চিরতরে পরিত্যাগ করল। বেচারা বুঝে গিয়েছিল জীবনেও সে আর ঐ লজেন্স পাচ্ছে না।

যেহেতু স্কুলের পথে পা বাড়িয়েই আমি সবার সাথে কথা বন্ধ করতাম, কাজেই স্কুলে আমার কোন বন্ধু নেই, হবারও কোন আশা ছিল না। কারণ আমার ছিল কথা না বলার ধর্ণূরভাংগা পণ। টিফিনের সময় বাচ্চারা গেটের বাইরে গিয়ে আঁচার আইস্ক্রিম বাদাম কিনে আনতে পারত। দারোয়ান ছিল, সে খেয়াল রাখত বাচ্চারা ফের স্কুলে ঢুকছে কিনা। ছোটবেলায় আমাদের হাতে কখনও পয়সা দেয়া হত না। বাইরের কিছু কিনে খাওয়া ছিল ঘোরতর বারণ। টিফিনের সময় আমি গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে চুপচাপ তামাশা দেখি। খুব ইচ্ছে হত আঁচার খাই, আইসক্রিম খাই, কিন্তু পয়সা কে দেবে! তাই ¯্রফে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকাই ছিল আমার কাজ। প্রথম প্রথম আইসক্রিম ওয়ালা ডাকে, খুকি, আইসক্রিম খাবে? এদিক ওদিক মাথা নাড়ি, কথাতো বলব না, তাই এই ব্যবস্থা। তারপর আচার ওয়ালা, শনপাপড়ি ওয়ালা, বাদামওয়ালা সবার সাথেই এভাবে ইশারায় বাৎচিত হল। খেতে ইচ্ছে করেতো সবই। কিন্তু পয়সাটা দেবে কে! বেশ কিছুদিন কেটে গেল, প্রতিদিন গেটের সামনে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকি। একদিন এক কান্ড ঘটল। শনপাপড়িওয়ালা হঠাত কাগজে করে খানিকটা শনপাপড়ি বাড়িয়ে ধরল। আমি মাথা নাড়লাম, নেব না। জানতাম কেউ দিলে কিছু খেলে, তাও বিনে পয়সায়! জানতে পারলে বাসায় আস্তো রাখবে না। কিন্তু শনপাপড়িওয়ালা জোর জবরদস্তি করতে লাগল, মুখে বলল, পয়সা লাগবে না, আমি তোমাকে এমনি দিচ্ছি খাও। আমারতো মাথা নাড়া বৈ আর কিছু করার নাই। হাতদুটো পেছনে নিয়ে রাখলাম। তখন সেই ফেরিওয়ালা নিজেই উঠে এসে আমার হাতে জোর করে গুঁজে দিয়ে বলল খাও। বোধকরি আমাকে বোবা ভেবে তার মায়া লেগেছিল। কি আর করি খেয়েই ফেললাম। খেয়ে মুখ টুখ ভাল করে মুছে সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাট করে ফেললাম। এরপর থেকে রোজই এই ঘটনা ঘটতে লাগল। কেউ জানতেও পারল না। কারণ শুধু আমি না, বড় বোনদেরও কোন পয়সা দেয়া হত না। আব্বা আম্মার ধারণা ছিল এতে বাচ্চারা গোল্লায় যাবে। কাজেই কেবলমাত্র টিফিন খেয়েই আমাদের প্রায় সবার স্কুল জীবন কেটেছে।

কথায় আছে না, চোরের দশদিন সাধুর একদিন। আমার হল সেই দশা। একদিন বামাল ধরা। যেই সেই ধরা নয়, একেবারে পড়বি পড় মালির ঘাড়ে। একদিন শন পাপড়ি খাচ্ছি, মেজবোন তার এক বান্ধবীর সাথে গেটের বাইরে এলো। বাইরে এসেই আমাকে শণপাপড়ি খেতে দেখে তার চোখ বিস্ময়ে ছানাবড়া নয় একেবারে পোয়াপিঠার আকার ধারণ করল। আমি ততক্ষনে মুখ টুখ মুছে এভিডেন্স গায়েব করার চেষ্টায় ব্যস্ত। মেজবোন না হয়ে বড়বোন হলে চিন্তার তেমন কিছু ছিল না, তার মধ্যে মাতৃত্বসুলভ গুণাবলী বেশি ছিল। কিন্তু মেজবোনের নৈতিকতাবোধ ছিল মারাত্মক। সেখানে পানের থেকে চুন খসার উপায় নেই। আসামি বমাল ধরে ভয়ানক মুখে ভুরু কুচকে সে শুধালো, পয়সা পেলি কই? আমি নিশ্চুপ। শণ পাপড়িওয়ালা তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে বলল, আমি এমনি দিয়েছি, খুকি নিতে চায়নি।

এটা যে আগেরটার চাইতেও মারাত্মক অপরাধ মেজপার কাছে, সেটা বেচারি গরিব ফেরিওয়ালা কোত্থেকে জানবে! বিনে পয়সায় খেয়েছি শুনে তার চোখ কপাল ছাড়িয়ে মাথায় উঠার উপক্রম করল। হাত ধরে ভেতরে নিতে নিতে যা বলল তার সারমর্ম হচ্ছে, আজ তোমার হবে! বাসায় যাও, তারপর! আমার ভয়ানক বুক ধুকপুক শুরু হল, কিন্তু করার কিছু ছিল না। আব্বা অফিস থেকে আসতেই মেজপা ছুটে গিয়ে সকল বিত্তান্ত বাতাতে একমুহুর্ত দেরি করল না। আমি কাঁদো কাঁদো মুখে পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। একপলক তাকিয়ে আব্বা বললেন, আচ্ছা পরে বিচার হবে। আমি আগে কাপড় ছাড়ি, খাওয়া দাওয়া করি, তারপর।

সন্ধ্যের পর বিচার বসল। আব্বা বললেন, এবার বল, কেন বিনে পয়সায় শন পাপড়ি নিতে গেছ। বারণ করেছিলাম না! আব্বাকে ভয়ানক ভয় পেতাম, ঢোক গিলে কোনমতে বললাম, আমি নিতে চাইনি, শনপাপড়িওয়ালাই জোর করে দিয়েছে।
কেমনে, বলি কথা কই না, এইজন্য তাকে বুঝিয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়েছি! আব্বা যেই চোখ পাকিয়ে বললেন, কেন বলনি আমি খাব না! আর যাবে কোথায়, গগনবিদারি ভ্যা সহযোগে কেঁদে ফেললাম, একেবারে হাপুস নয়নের কান্না। দুই চোখে গংগা যমুনা বইতে লাগল। আম্মা এসে আস্তে করে ছাড়িয়ে নিয়ে বললেন, আচ্ছা হয়েছে। আর খাবে না, কিরে খাবি? আমি প্রবল বেগে মাথা এপাশ ওপাশ নাড়াচ্ছি। কান্নার ঠেলায় তখন হেঁচকি উঠা শুরু হয়েছে, মেজবোন প্রতিবাদ করেছিল এই বিচারহীনতায়। আম্মা কান দিলেন না। পরদিন আমাদের আব্বার সাথে স্কুলে যেতে হল। গাড়ি থেকে নামতে দেখেই ফেরিওয়ালাতো ফেরিওয়ালা, দারোয়ান অবধি তটস্থ হয়ে গেল। কারণ ঐ সময় গোটা মফশ্বলে হাতে গোনা গাড়ি ছিল মাত্র তিনটি। গাড়িওয়ালা কেউ ছিল সাধারণ মানুষের কাছে বিরাট কিছু। দেখতে তেমন সুন্দর ছিলাম না, ইম্প্রেসিভও না। তার উপর বোবা ভাবত সবাই, কাজেই আমার অবস্থান কোথায় এটা কেউই আন্দাজ করতে পারেনি। মেজবোন অগ্রণী হয়ে দুস্কর্মের সহযোগিকে দেখিয়ে দিল। আব্বা অবশ্য শনপাপড়িওয়ালাকে কিছু বলেননি। কি কথা বলেছিলেন মনে নাই, তবে এটা মনে আছে যে কিছু টাকা দিয়ে তাকে এই কাজ করতে মানা করেছিলেন। এখন পরিনত বয়সে বুঝতে পারি সেই সামাণ্য ফেরিওয়ালার অন্তরে ছিল অচেনা এক ছোট বাচ্চার প্রতি অসামাণ্য স্নেহ ভালবাসা। যা কোন প্রতিদানের আশায় নয়। দারোয়ানের উপর আদেশ জারি হল আমাকে যেন গেটের বাইরে আসতে দেয়া না হয়।

আমার দুর্ভাগ্য না সৌভাগ্য জানি না পড়ালেখা নিয়ে নানান বিদঘুটে ঘটনার জন্ম আমি জীবনভর দিয়ে গেছি, এমনকি বিসিএস বা চাকরিতে ঢুকে ডিপার্টমেন্টাল পরিক্ষা, ট্রেইনিং অবধি চালু ছিল। এখন আর পড়ালেখার সাথে কারবার নাই, থাকলে মনে হয় এখনও হত। ক্রমে ক্রমে সেগুলো বাতাবো। বেশিরভাগই ছিল আচমকা দারুণ রেজাল্ট করে সবাইকে হতভম্ভ করে দেয়া। শুধু তাই না, নিজেও হতভম্ভ হয়ে ভাবতে বসতে হত এটা কি হল বলে। তার শুরু হয়েছিল এই সাতক্ষীরায় শিক্ষাজীবন শুরুর সাথে সাথেই।

অর্ধ বার্ষিক পরিক্ষা শুরু হল। তখন স্কুলের প্রতি আমার বিতৃষ্ণা চরমে পৌছেছে। একটূ ভাল বিষয় ছিল বিনে পয়সায় শণপাপড়ি খাওয়া, সেটাও বন্ধ হয়েছে। পরিক্ষার হলে খাতা নিয়ে বসে আছি, নামটা পর্যনত লিখছি না দেখে টিচার নিজেই তা লিখে দিলেন। ঘন্টা পড়লে সাদা খাতা জমা দিয়ে বাসায় ফিরলাম। বাসায় বিকেল বেলা সেই একই প্রশ্নের দ্বিতীয় বার পরিক্ষা দিতে হল বাসার স্যারের কাছে। উনি সেই খাতা পরিক্ষা হয়ে খুব খুশি হলেন। প্রতিদিন এই একই কারবার হতে লাগল। কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি স্কুলের পরিক্ষায় আমি কিছুই লিখিনি। পারমানবিক বোমাটা ফাটলো যেদিন রেজাল্ট কার্ড নিয়ে বাসায় ফিরলাম। বাসায় হুলুস্থুল লেগে গেল। সবার সব রাগ গিয়ে পড়ল বাসার টিচারের উপর। এতোদিন ঘোড়ার ডিম কি শিখিয়েছেন যে সব বিষয়েই লাড্ডু মেরে বসে আছি। সন্ধ্যেবেলা স্যার এসেই তোপের মুখে পড়লেন। প্রথমেতো বুঝতেই পারছিলেন ঘটনা কি, শেষে যখন বুঝতে পারলেন তখন তার চোয়াল ঝুলে পড়ল, এতোই তাজ্জব হয়েছিলেন যে তোতলাতে লাগলেন। পরে জোর দিয়ে বললেন, এটা হতেই পারে না। কোথাও কিছু একটা গন্ডগোল হয়েছে। ও ফার্স্ট হওয়ার মত পরিক্ষা দিয়েছে। ফার্স্ট যদি নাইই হয় সেকেন্ড হওয়া কেউই ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। বলে আমার বইপত্র ঘাটাঘাটি করে বাসায় নেয়া পরিক্ষার খাতাগুলো মেলে ধরলেন আব্বার সামনে।ইসেগুলো দেখে আব্বা স্বীকার গেলেন যে হ্যাঁ, কোথাও কিছু একটা ঘাপলা নির্ঘাত হয়েছে। পরদিন আব্বা সেই খাতাগুলো আর আমাকে নিয়ে হেডস্যারের কাছে হাজির হলেন। উনি সব শুনে ক্লাস টিচারকে ডাকলেন। ক্লাস টিচার এসে বললেন, কিচ্ছুই লেখেনি, নাম্বার পাবে কোথা থেকে! অসম্ভব গাধা ছাত্রি, কিছুই পারে না, সেই সাথে যোগ করলেন, কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধীও বটে। তাকে যখন আমার বাসার খাতাগুলো দেখানো হল তখন উনি বিশ্বাস করতেই চান না যে এগুলো আমার লেখা। হেড মাস্টারের কথায় উনি আমার জমা দেয়া সেই সাদা খাতাগুলো হাজির করলেন । এটাও বাতাতে ভুললেন না যে স্কুলে আমি কারো সাথেই কথা বলি না, এমন কি নামটা পর্যন্ত না!

এত যে নাটক হচ্ছিল, আমি নির্বিকার বসে ছিলাম। এই বিচিত্র কারবারে হেড স্যার খুবই বিস্মিত হয়েছিলেন। ক্লাস টিচারকে বিদায় দিয়ে আমাকে কাছে ডাকলেন। গুটি গুটি পায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু ঐ পর্যন্তই! উনি আদর করে নাম জিজ্ঞেস করলেন, আমি লাজওয়াব। অনেক অভয় দিয়ে, অনেক চেষ্টা করেও আমাকে দিয়ে একটা শব্দও উচ্চারণ করাতে পারলেন না। এদিকে আমার কারণ ছাড়াই এইসব আচানক ব্যবহারে আব্বা রাগে ফুঁসতে লাগলেন, কিছু ধমক ধামকও দিয়েছেন, তাতেও আমার মুখ ফুটেনি। বোবা দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে থাকা ছাড়া তেমন কোন ভাবান্তরও হয়নি। সবকিছু অবজার্ভ করে হেড স্যার বললেন, বয়সে ছোট আছে, আপনারা মনে হয় কোন প্রস্তুতি ছাড়াই স্কুলে দিয়েছেন, তাই ভয় পেয়ে এমন করছে। কিছু বলবেন না, আপনাতেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আমি জানি ভয়ে নয়, আমি রাগের ঠেলায় কথা বলতাম না। স্কুলে যেতেই চাইনি।

আমি আগের মত স্কুলে যেতে লাগলাম। স্কুলে গিয়েই বোবা হয়ে যেতাম আগের মতই। এটা কতদিন চলত জানি না, তার আগেই এমন এক মারাত্মক ঘটনা ঘটলো যে শাপে বর হয়ে আমার স্কুলে যাওয়াই গেল বন্ধ হয়ে। আমিতো মহাখুশি হয়ে গেলাম।




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - শরিফা নাজনীন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019