মালয়েশিয়ায় গিয়ে ভাগ্য খুলেছে বাদলের

জয়যাত্রা ডট কম : 05/10/2017


তোফাজ্জল হোসেন মালয়েশিয়া থেকে ফিরে  : রাখে আল্লাহ মারে কে, এই প্রত্যয় নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি বাদল সরদার নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে শ্রমের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্টিত করতে কাজকে কখনো ছোট ভাবেনি। এ কারণে বাদল সরদার এখন ফল ব্যবসায়ী থেকে কোটিপতি হিসাবে সমাজে স্থান করে নিয়েছেন। আল্লাহ মানুষকে কখনো ফকির থেকে বাদশা আবার বাদশা থেকে ফকির ফকিরে পরিণত করে তারই দৃষ্টান্ত মালয়েশিয়া প্রবাসী বাদল সরদার।
জীবনের ভাঙ্গা-গড়া খেলায় বিজয়ী হয়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি বাদল সরদার। একসময় ঢাকার কল্যাণপুরে ফুটপাতে ফল বিক্রি করতেন। এখন মালয়েশিয়ায় বাদল প্রিন্টিং ফ্যাক্টরির মালিক হয়েছেন। পুরো মালয়েশিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বাদল প্রিন্টিং ফ্যাক্টরির নাম। তিনি মালয়েশিয়ায় প্রতিমাসে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছেন প্রায় ১০ লাখ টাকা। আর এই কোম্পানির মূলধন বর্তমানে ৩ কোটি টাকার উপরে। যার শুরু হয়েছিল মাত্র ৮০ হাজার টাকা দিয়ে।
বাদল সরদার, মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলায় বড় হয়েছে। এসএসসি পাস করার পর জীবীকার তাগিদে ঢাকার কল্যাণপুরে ফলের ব্যবসা শুরু করে। এতে জীবন চলছিল অতিকষ্টে। ভাগ্যের চাকা ঘুড়াতে নানা ভাবে ফন্দি ফিকির করতে হয় তাকে। কিন্ত এই বেঁচে থাকার অবলম্বনও যেন কেড়ে নেওয়া হলো। ২০০৭ সালে তত্ত্ববধায়ক সরকারের সময় সরকার ফুটপাতে অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এই উচ্ছেদ অভিযানে বাদল সরদার তার জীবীকার চালিকা শক্তি ফলের দোকানটি উচ্ছেদের আওতায় পড়ে। এক প্রকার দিশেহারা হয় বাদল।
অবশেষে বাদল সরদার মালয়েশিয়ায় চলে যান টুরিস্ট ভিসায়। ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে দালালের মাধ্যমে। যেহেতু টুরিস্ট ভিসায় তাই ফেরার উপায় নেই। এরপর পরিচিত এক বড় ভাইয়ের কল্যাণে প্রিন্টিং ফ্যাক্টরিতে কাজ পান বাদল সরদার। শুরু হলো মালয়েশিয়ায় জীবন সংগ্রাম। এক চাইনিজ কোম্পানির বসের অধীনে কাজ শুরু করেন তিনি। কাজ গেঞ্জিতে বিভিন্ন ধরনের প্রিন্টিং করা। একই সঙ্গে অন্যান্য কাপড়েও প্রিন্টিংয়ের কাজ। ২০০৯ সালে বেতন নিয়ে তার সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। এরপর একই ধরনের কাজ করেন এক ইন্ডিয়ান মালিকের অধীনে। এখানে কাজ করার সময় অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়। পেতে থাকেন ছোট খাটো কাজের অর্ডার। কাজের ফাঁকে এসব কাজও করে দেন তিনি। এটা মালিক পক্ষ জেনে গেলে বাদলকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় চাকরি অবস্থায় তিনি একাজ করতে পারবেন না।
এ অবস্থায় চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় সিদ্ধান্ত নেন বাদল। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছেড়েও দিলেন চাকরি। ২০১০ সাল নিজের হাতেই কাজ শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় তার কাজের পরিধি। বাড়তে থাকে অর্ডারও। বদলে যায় তার জীবন চাকা। ২০১২-১৩ সালে পুরো মালয়েশিয়ায় বাদল প্রিণ্টিং ফ্যাক্টরির নাম ছড়িয়ে পড়ল। দিন দিন কর্মচারীও বাড়ল। এখন প্রায় ৩০ জন কর্মচারী ফ্যাক্টরীতে কাজ করেন। তাদের বেতন ১০ লাখ টাকার উপরে। বর্তমানে কুয়ালালামপুরের আমপাংয়ে বাদল প্রিণ্টিং ফ্যাক্টরি অবস্থিত। এটি নিয়ে বাদল বেশ ভালো আছেন। ফ্যাক্টরিতে চাকরি করে এখন নিজেই মালিক হয়েছেন। ১০ বছরে হয়েছেন কোটি পতি। এক প্রকার ফকির থেকে বাদশাহ বলা চলে।
বর্তমানে স্ত্রী, সন্তানসহ মালয়েশিয়ায় থাকেন বাদল সরদার। চলাচলের জন্য তার ব্যক্তিগত গাড়ীও আছে। তার সোজাসফটা কথাÑকর্মচারী ছিলাম ভালো ছিলাম কিন্ত অভাব ছাড়েনি। এখন মালিক হয়েছি। অভাব নেই কিন্ত ব্যস্ততা, টেনশন বেশি। দেশে ফিরে আসার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি। দেশে ফিরে তিনি ব্যবসাই করবেন। অর্থাৎ মালয়েশিয়ায় যেভাবে শুরু করেছিলেন সেভাবেই। এক সঙ্গে অনেক পুজি বিনিয়োগ করে নয়। নিজ হাতে একেবারে ছোট থেকে। যেমন শুরু করেছিলাম ৮০ হাজার টাকা দিয়ে। বাদল এখন বাংলাদেশ থেকে কোন বাঙ্গালী বেড়াতে মালয়েশিয়া গেলে তাদের জন্য যতেষ্ট সময় দিয়ে থাকেন। নিজের গাড়ীতে করে ঘুড়ে নিয়ে বেড়ান। একটু নিজে গৌবব বোধ করেন না। গত ২৫ অক্টোবর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বুকিত বিংতাংন এলাকায় সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় হয়। কথার শুরুতেই বলতে থাকেন ভাই কবে এসেছেন। আর কয়দিন থাকবেন। আমরা দু’জন এক সঙ্গে ছিলাম। বললাম ভাই আগামীকাল চলে যাব। বাদল বললেন ভাই কোথায় কোথায় ঘুড়েছেন। বলা হলো ভাই বেশী জায়গায় যেতে পারি নাই। কারণ অনেক জায়গা চিনি না। একারণে যেতে পারি নাই।
সঙ্গেসঙ্গে বাদল বললো ভাই এখনি চলেন। আমার গাড়ীতে করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পুত্রজায়া নিয়ে গেল বাদল।এতোই সুন্দর পুত্রজায়া প্রতিটি রাস্তা ঘুড়েঘুড়ে দেখালেন। রাত আনুমানিক ২টার সময় একটি মালয়েশিয়ান হোটেলে নিয়ে বিশাল একটি আত্মা কুড়াল মাছসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ার সময়। বাদলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভাই আমি দেশী ভাইবেড়াদার পেলে খুব ভাল লাগে। কাজের চাপের কারণে অনেককে সময় দিতে পারিনা। আপনারা সাংবাদিক মানুষ আমি আপনাদের সময় দিবো। বলতে থাকে জীবনের কাহিনী চলার পথে নিজেকে প্রতিষ্টিত করতে এখন মালয়েশিয়ার সরকারের বড় বড় কাজের অর্ডার পেয়ে থাকেন। ব্যবসা কেমন হচ্ছে। খুব ভাল নিজেকে এখনি বেশী বড় মাপের ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচয় দিতে চায় না। তিনি বলেন, আমি বড় হয়ে দুখি মানুষের পাশে থাকতে চাই। আপনার গ্রামে গরীব দু:খিদের কোন সহযোগিতা করেন কি? জবাবে তিনি বলেন, নিশ্চই। আগামীতে গ্রামগঞ্জ ছাড়িয়ে দেশের দুখি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী তিনি।




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - শরিফা নাজনীন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019