স্বর্ণ চোরাচালান করছে অসংখ্য বাংলাদেশি প্রবাসী

জয়যাত্রা ডট কম : 19/11/2017

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে বসে বাংলাদেশে স্বর্ণ চোরাচালান করছে অসংখ্য বাংলাদেশি প্রবাসী। এ ধরনের একটি সিন্ডিকেটকে শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এ তিন দেশ থেকে চোরাচালানের একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন পাঁচজন। তারা হলেন- মোহাম্মদ আলী, মাসুদ করিম, মিন্টু, হামীম ও দিনাজ। এ চোরাচালানে তারা প্রবাসী শ্রমিকদের

সম্প্রতি বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের তিন কর্মচারীকে পৃথক দিনে হাতেনাতে গ্রেফতার করে শুল্ক গোয়েন্দা ও পুলিশ। এরপর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও বেশ কজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণ চোরাচালানের নিয়ন্ত্রক ওই পাঁচজনের আওতায় কর্মরত কিছু প্রবাসী শ্রমিকের নাম পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন আজমীর, রিয়াজ, মো. শাহিন, মো. রেজা, মানিক, মাসুদ, করিম রানা, রহমত বারী, মুরাদসহ আরও কয়েকজন।

এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম বলেন, স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন বিদেশে বসে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০১৪ সালে পল্টনের একটি বাড়ি থেকে আটক ৬১ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার মামলার অন্যতম আসামি মোহাম্মদ আলী এখন দুবাইয়ে বসবাস করছেন। আরও অনেকে বিদেশে বসে স্বর্ণের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাগো নিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে ২২ ক্যারেটের একভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৫০ হাজার ১৫৫ টাকা। তবে সিঙ্গাপুরে সমপরিমাণ স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ৪০ হাজার ১০০ টাকা। বাংলাদেশের একজন ব্যক্তি ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৮ ভরি (১০০ গ্রাম) পর্যন্ত স্বর্ণালঙ্কার বাংলাদেশে আনতে পারেন। আর সিঙ্গাপুর থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণ যে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনতে পারলেই প্রতি ১০০ গ্রামে কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকা লাভ হয়। আর একসঙ্গে পাঁচ থেকে ছয়টি স্বর্ণের বার আনতে পারলে লাভ সাত থেকে আটগুণ বেড়ে যায়। তাই প্রবাসীদের টার্গেট করে তাদের হাতে স্বর্ণের বার ধরিয়ে দেন চোরাচালানের হোতারা। বহনের পারিশ্রমিক হিসেবে কখনো ঢাকার বিমান টিকিট কখনো ৩০ থেকে ৪০ হাজার নগদ টাকা দেয়া হয়।

গোয়েন্দা পুলিশ ও শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে থাকা পাঁচ ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে চলছে নতুন ওই সিন্ডিকেট। শুধু তাই নয় স্বর্ণ চোরাচালানে সহায়তা দিয়ে দেশের বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার অসাধু কর্মকর্তারা পাচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। স্বর্ণের চালান বিমানবন্দরের বাইরে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিতে তারা সহায়তা করেন। যে কারণে কখনো চালান ধরা পড়ে কখনো পড়ে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড় চালান ছেড়ে দিয়ে ছোট চালান আটকে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ নভেম্বর স্বর্ণ চোরাচালানকালে সিভিল এভিয়েশনের সিকিউরিটি স্টাফ রেজাউল করিম ও কুদ্দুস নামে দুজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে শুল্ক গোয়েন্দা।

ওইদিন বিকেলে রিয়াদ থেকে বিজি-০৪০ ফ্লাইটে করে যাত্রী কুদ্দুস (৩০) অবতরণ করেন। কাস্টমস হলের পাঁচ নং বেল্টের কাছে টয়লেটের ভেতর সিভিল এভিয়েশন স্টাফ রেজাউল করিমের কাছে ওই যাত্রী পাঁচটি স্বর্ণের বার হস্তান্তর করেন। ওঁৎপেতে থাকা শুল্ক গোয়েন্দার সদস্যরা দুজনকেই হাতেনাতে আটক করেন। জব্দকৃত পাঁচ স্বর্ণের বারের ওজন ৫৮০ গ্রাম।

ব্যবহার করছেন। বিনিময়ে শ্রমিকদের দেয়া হচ্ছে বিমানভাড়া অথবা ৩০ থেকে ৪০ হাজার নগদ টাকা।

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - শরিফা নাজনীন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019