পার্বতীপুরে মোটা ধানের পরিবর্তে সুগন্ধি ধানের চাষ

জয়যাত্রা ডট কম : 05/12/2017

সোহেল সানী, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আমন মৌসুমে সুগন্ধি জাতের ব্রি-ধান ৩৪ ধানের চাষ ব্যাপকভাবে বাড়ছে। এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাতের চাহিদাকে উপেক্ষা করে মোটা ধানের পরিবর্তে ব্রি-ধান ৩৪ জাতের সুগন্ধি ধান চাষাবাদে কৃষকেরা ঝুঁকে পড়েছেন। এতে উৎসাহ যোগাচ্ছেন পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় একটি বে-সরকারী সাহায্য সংস্থা। ফলে উপজেলার প্রায় ৪ লাখ অধিবাসীর বার্ষিক মোটা চালের চাহিদা পুরনে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে মোটা চালের বাজার দর নি¤œআয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
পার্বতীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গত চার বছরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালে উপজেলায় আমন চাষাবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ২৭ হাজার ২৪০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে ৮ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ধান চাষ হয়েছিল। ২০১৫ সালে উপজেলায় আমন চাষাবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ২৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে ৮ হাজার ৮শ’ ৪৭ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ধান চাষ হয়েছিল। ২০১৬ সালে উপজেলায় আমন চাষাবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ২৭ হাজার ৯শ’ ৬০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৪শ’ ১৫ হেক্টর জমিতে ব্রি-ধান ৩৪ জাতের সুগন্ধি ধানের চাষ করা হয়েছে। যা’ ছিল মোট ধানি জমির শতকরা ৫৯ ভাগ। ২০১৭ সালে উপজেলায় আমন চাষাবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ২৭ হাজার ৯শ’ ৬০হেক্টর জমি। এর মধ্যে ১৩ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে ব্রি-ধান ৩৪ জাতের সুগন্ধি ধানের চাষ করা হয়েছে। যা’ ছিল মোট আমন চাষের জমির শতকরা ৪৭ ভাগ।

উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের দুধিপুকুর গ্রামের কৃষক একরামুল হক বলেন, আগোত হারা দেখি নাই বাহে এ্যাতো জমিত চিকন চাউল আবাদ হইছে। এ্যালা ক্যান মোটা ধান থুইয়া খালি চিকন ধানের আবাদ হওছে!

চন্ডিপুর ইউনিয়নের কালিকা বাড়ী ডাঙ্গা পাড়া গ্রামের কৃষক জুলফিকার আলী বাবু বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাতের চাহিদাকে উপেক্ষা করে মোটা ধানের পরিবর্তে ব্রি-ধান ৩৪ জাতের সুগন্ধি ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহ দিচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় একটি বে-সরকারী সাহায্য সংস্থা। অথচ কৃষকের কষ্টে উৎপাদিত ধান চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে।
পার্বতীপুরের স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীরা জানালেন, সুগন্ধি ও চিকন চাল বিদেশে রপ্তানী হওয়ায় বাজারে রয়েছে প্রচুর চাহিদা। এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান খাদ্য মোটা চাল এর চাহিদা উপেক্ষা করে চিকন ও সুগন্ধি ধান চাষ করা মানে বাজারে মোটা চালের ঘাটতি সৃষ্টি করা।
জানা গেছে, চলতি বছরের বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন কর্মসুচিতেও পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ ৪০ হেক্টর জমিতে রোপনের জন্য বন্যাায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে মোটা ধানের চারার স্থলে সুগন্ধি ধানের চারা বিতরন করেন।

পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ফাত্তাহ মোঃ রওশন কবির বলেন, সুগন্ধি জাতের ধানের আবাদ পরিবেশ সম্মত এবং অপেক্ষাকৃত কম উর্বর জমিতে ভাল ফলে। উৎপাদন খরচও অনেক কম হওয়ায় এ ধান চাষে কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই ধানের চাষ করে অনেকেই লাভবান হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, এলাকার মানুষের মোটা চালের চাহিদার কথা মাথায় রেখে অন্যান্য জমিতে সুগন্ধি ধানের চাষ করছে কৃষকরা।




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - শরিফা নাজনীন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019