• প্রচ্ছদ » জাতীয় » ব্যবহৃত ১০ কোটি মোবাইলের আইএমইআই ডাটাবেজ হচ্ছে না!


ব্যবহৃত ১০ কোটি মোবাইলের আইএমইআই ডাটাবেজ হচ্ছে না!

জয়যাত্রা ডট কম : 06/12/2017

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১৪ কোটির বেশি। আর মোবাইল ফোন সেট ব্যবহার হয় ১০ কোটির মতো। এর প্রতিটিতেই রয়েছে আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর। সরকার আইএমইআই-এর যে ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে তাতে ব্যবহার হওয়া প্রায় ১০ কোটি মোবাইল ফোনের আইএমইআই সংরক্ষণ করা হবে না।
ডাটাবেজ চালুর পর যেসব মোবাইল ফোন বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে এবং দেশে তৈরি হবে সেসবের ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে চালুর পরও দেশের ১০ কোটি মোবাইল ফোন এই ডাটাবেজের বাইরে থেকে যাবে। এতে করে মোবাইল ফোন কেন্দ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে চলে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
জানতে চাইলে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ডাটাবেজ তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। আগামী এক মাসের মধ্যে ডাটাবেজ চালু হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, সফটওয়্যারের সমস্যার কারণে ডাটাবেজ চালু করা সম্ভব হয়নি। পুরনো যেসব মোবাইল ব্যবহার হচ্ছে সেসব মোবাইল ফোনের আইএমইআই ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে না। এটা সম্ভবও নয়। যেসব মোবাইল নতুন আসবে সেগুলোই ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে। এর মধ্য দিয়ে মোবাইল ফোন সেট নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা হবে।
প্রসঙ্গত, মোবাইলের আইএমইআই নকল না আসল তা পরীক্ষার জন্য একাধিক পদ্ধতি আছে। কিন্তু দেশে আইএমইআই বিষয়ক ডাটাবেজ না থাকায় তা পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেই। ফলে যাচাই করলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই করতে হয়। ডাটাবেজ থাকলে অবৈধভাবে আমদানি করা বা নকল আইএমইআইয়ের ফোন সেটের প্রবেশ বন্ধ করা সহজ হবে।
ডাটাবেজ থাকলে চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া নকল আইএমইআই-এর কোনও মোবাইল সেট চালু হলে তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপারেটরদের ডাটাবেজে চলে যায়। ওই নম্বরটি সংরক্ষিত থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোন সেট আমদানি করতে হলে আমদানিকারকদের সমান সংখ্যক আইএমইআই নম্বর বিটিআরসিতে জমা দিতে হয়। কখনও তা এক্সেল শিটে, কখনও বা ফাইলে করে জমা দেওয়া হয়। বিটিআরসি সেখান থেকে কিছু নম্বর নিয়ে এবং র্যা ন্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে কিছু সেট নিয়ে পরীক্ষা করে আইএমইআই নম্বর মিলিয়ে দেখে ছাড়পত্র দেয়। ডাটাবেজ চালু হলে যে সার্ভারের মাধ্যমে বিটিআরসিকে অ্যাপ্লিকেশনটা দেওয়া হবে সেই এনওসি অটোমেশন হবে। এটি একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিটিআরসি’র কাছ থেকে অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হবে।
এনওসি অটোমেশনের অর্থ হলো, যত সংখ্যক আইএমইআই নেওয়া হচ্ছে তার তথ্য ডাটাবেজে থেকে যাচ্ছে। ফলে এর একটা সেন্ট্রাল ডাটাবেজ হচ্ছে যাতে বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ একসেস (ব্যবহার বা ঢুকতে পারা) পাবে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি আইএমইআই দেখতে চায় বা বুঝতে চায় যে এগুলো কোথা থেকে আসে, কোথায় ব্যবহার হচ্ছে- তার সবকিছুই দেখা সম্ভব। একজন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীও চাইলে দেখতে পাবেন তার আইএমইআই নম্বরটি ‘ভ্যালিড’ কিনা।
টেলিকম শিল্পে কর্মরত একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় । নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, কয়েক কোটি মোবাইল ফোন এখন দেশে ব্যবহার হচ্ছে। সেগুলোর ডাটাবেজ না করে কেবল নতুন আসা মোবাইল ফোনের ডাটাবেজ করলে এ সংক্রান্ত যে সমস্যা বর্তমানে রয়েছে তা ভবিষ্যতেও থেকে যাবে। যারা এগুলো ব্যবহার করছে এবং এগুলো দিয়ে অনিষ্ট সাধন করতে চায় তারা এখনও যে প্রক্রিয়ায় করছে, তখনও তাই করবে। ফলে এই ডাটাবেজ কতটা সুখবর বয়ে নিয়ে আসবে সে বিষয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ডাটাবেজটি তৈরি করে দিচ্ছে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ)।
এর আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, আইএমইআই নকল না আসল তা পরীক্ষার জন্য অনেকগুলো পদ্ধতি রয়েছে। আমরা সেসব পদ্ধতি অনুসরণ করব। এতোদিন আমাদের এ সংক্রান্ত কোনও ডাটাবেজ ছিল না। এ কারণে দেশে মোবাইল ফোন প্রবেশের ক্ষেত্রে আইএমইআই পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা ছিল না। ফলে দেশে কোনওভাবেই অবৈধ এবং নকল আইএমইআই নম্বরের মোবাইল ফোন সেটের প্রবেশ বন্ধ করা যাচ্ছে না। ডাটাবেজ চালু হলে অবৈধভাবে দেশে আসা বা নকল মোবাইল ফোন সেট বন্ধ হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বেসরকারি উদ্যোগে চালু হলেও এ ডাটাবেজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি সংরক্ষণ করবে। কোনও মোবাইল সেট চালু হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপারেটরদের ডাটাবেজে চলে যায়। ফলে ওই নম্বরটি সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু একসঙ্গে সব নম্বর না থাকায় কোনও ধরনের সমস্যা হলে সমাধানের কোনও পথ খোলা ছিল না।




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - শরিফা নাজনীন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019