• প্রচ্ছদ » রাজনীতি » মহানগরে ছাত্রলীগের প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী গড়তে চাই: মিজানুর রহমান


মহানগরে ছাত্রলীগের প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী গড়তে চাই: মিজানুর রহমান

জয়যাত্রা ডট কম : 31/12/2017

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বাংলাদেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। ছাত্রলীগের ইতিহাস গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যে মন্ডিত। দেশ ও জনগণের স্বার্থরক্ষার্থে প্রত্যেকটি আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয়। রাজপথে সক্রিয় সংগঠনের সক্রিয় তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ হচ্ছে ‘ঢাকা মহানগর উত্তরের ছাত্রলীগের সভাপতি ডা. সৈয়দ মিজানুর রহমান’। যিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন। দলের বিপদের সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন। সামনের দিনগুলোতেও রাজপথ থেকে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নির্দেশনা অনুসরণ রাজনীতি করতে চান। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই ‘ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের’ রাজনীতি কোন পর্যায়ে রেখে যেতে চান এ বিষয়ে ‘জয়যাত্রা’র সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন সৈয়দ মিজান। সম্প্রতি সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জয়যাত্রা নিউজ পোর্টালের চিফ রিপোর্টার।

জয়যাত্রা: আপনি ছাত্রলীগে কখন জড়িয়ে পড়লেন?

সৈয়দ মিজানুর রহমান : আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের নান্দাইলে। বয়স যখন সাড়ে চার বছর, তখনই জয় বাংলা সেøাগান শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। তবে ছাত্রলীগের হাতেখড়ি ঘটেছে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে। তেজগাঁও এসএসসি পড়া অবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যোগ দেই। ২০০২ সালে তেজগাঁও ছাত্রলীগ থানার প্রচার সম্পাদক হই। ধীরে ধীরে তেজগাঁও রেলগেট ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ইউনিটের সভাপতির দায়িত্ব পাই। সেখান থেকে ২০০৫ সালে ৩১ ডিসেম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক। তখন অবশ্য বিএনপির শাসন আমল। এরপর থানা ছাত্রলীগের আহ্বায় কমিটির মেম্বার, থানা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। ২০১১ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে সম্মেলনের মধ্যদিয়ে ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হই।

জয়যাত্রা: পরিবারে কেউ রাজনীতি করতেন কি না…?

সৈয়দ মিজানুর রহমান : না, সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাবা করেননি। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সুস্থ, সুন্দর মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। সরাসরি রাজনীতির মাঠে ময়দানের খবর রাখতেন। সুস্থ রাজনীতি করেন, এমন মানুষকে উৎসাহ দিতেন। সে কারণেই বোধহয় আমার ছাত্রলীগে জড়িয়ে পড়া সহজ হয়ে পড়ে। এ ছাড়া স্থানীয় কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য যতটুকু কাজ করা যায় ততটুকু কাজ তিনি করেছেন।


জয়যাত্রা: বিএনপি ক্ষমতায় থাকাবস্থায় আপনি কি প্রত্যক্ষভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন?

সৈয়দ মিজানুর রহমান : জি। নানা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যদিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ২০০১ সালে যখন জয় বাংলা সেøাগান দেওয়ার লোক খুঁজে পাওয়া যেতো না তখন জয় বাংলার সেøাগান বুকে ধারণ করে রাজপথে মিছিল করেছি। দেশরতœ শেখ হাসিনার নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী রাজপথে আন্দোলন করেছি।

জয়যাত্রা: রাজনীতির পাশাপাশি ‘শিশু প্রতিভা বিকাশ’ কেন্দ্রের সঙ্গে আপনি সম্পৃক্ত . . . .

সৈয়দ মিজানুর রহমান : একজন মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশের ক্ষেত্রে সমাজিক কর্মকা- সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আমি এদেশের শিশুদের মাঝে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা লক্ষ্যেই ‘শিশু প্রতিভা বিকাশ’ কেন্দ্র চালিয়ে যাচ্ছি। সব মিলিয়ে আমি মনে করি রাজনৈতিক কর্মকা- তো থাকবেই, সেই সঙ্গে নিজেকে সামাজিক কর্মকা-ে জড়ালে রাজনৈতিক কর্মকা- সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ‘শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর (২০১৭) এই সংগঠনের মাধ্যমে ১১টি সেন্টারে ৭৪০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছি। নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবাও দিচ্ছে সংগঠনটি। গরীব ও অসহায় শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ‘শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র’র এই কার্যক্রম। প্রতিমাসে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের।


জয়যাত্রা: আবার ছাত্রলীগের প্রশ্নে আসি। মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের বর্তমান চ্যালেঞ্জ কী ?

সৈয়দ মিজানুর রহমান : মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছে। সেটি হচ্ছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জয়ী করে আবারও ক্ষমতায় নিয়ে আসা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া সংগঠন পরিচালনার যে ভার প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিয়েছেন, সে আদর্শ বাস্তবায়নে আমি দিনরাত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

জয়যাত্রা: মহানগর ছাত্রলীগকে সামনে এগিয়ে নিতে আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?

সৈয়দ মিজানুর রহমান : পরিকল্পনা তো অবশ্যই আছে। ইতোমধ্যে আমরা বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। যারা ছাত্রলীগ করবে তারা অবশ্যই জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের যত সমস্যা আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করবে।


জয়যাত্রা: বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মহানগর উত্তরের ছাত্রলীগের রাজনীতিতে কি রেখে চান ?

সৈয়দ মিজানুর রহমান : মহানগর উত্তর ছাত্রলীগে এমন কিছু দৃষ্টান্ত ও কাঠামো রেখে যেতে চাই- যা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ইতিহাসের সেরা সাহসী সন্তানেরাই ছাত্রলীগ করে। সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ চাই। আর ছাত্রলীগ হচ্ছে সোনার মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান। ছাত্রলীগ না করলে আমি আজকের এ অবস্থানে আসতে পারতাম না। আমাকে কেউ চিনতো না-জানতো না। আমার রাজনীতির জন্ম হয়েছে ছাত্রলীগ থেকে। ছাত্রলীগ আমার শৈশবের ভালোবাসা, কৈশরের উচ্ছ্বাস এবং প্রথম যৌবনের প্রেম। ছাত্রলীগ আমার অহঙ্কার, আমার গৌরব, গর্ব এবং অলঙ্কার। আমি আমার ঢাকা উত্তর মহানগর ছাত্রলীগকে সোনার মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান রূপে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এখান থেকেই সত্যিকারের সোনার মানুষ সৃষ্টি হবে। প্রত্যেক ওয়ার্ড এবং ইউনিটে সত্যিকারের দক্ষ, প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী গড়ে উঠবে। বাংলাদেশের যেকোনো দূর্যোগ ও আওয়ামী লীগের যেকোন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে নিজেদেরকে বিলিয়ে দিতে একটুও দ্বিধা করবে না। এটি হচ্ছে উত্তর মহানগর ছাত্রলীগের প্রতি আমার প্রতিজ্ঞা। এটি করতে কিছু প্রতিবন্ধকতা আসবে, সেগুলো অতিক্রম করেই এগিয়ে যেতে হবে-এটাই স্বাভাবিক।

জয়যাত্রা: কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গেই ছাত্রলীগে আপনার কাজের সুযোগ কমে যাবে ?

সৈয়দ মিজানুর রহমান : এটি সঠিক বলেছেন। পদে থাকলেই কাজ করার সুযোগ থাকে। কাজ করার জন্যই তো পদ দেওয়া। কিন্তু পদ নিয়ে যদি কাজ না করি, সেটির অপব্যবহার করি কিংবা একই পদে বসে থাকি তাহলে এটি সংগঠনের প্রতি একপ্রকার বিশ্বাস ঘাতকতা করা। কারণ সংগঠন অনেক আশা করেই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে, সংগঠনকে গতিশীল ও শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য দিনরাত বিভিন্ন কর্মকা-ে নিজেকে নিয়োজিত রাখি, কর্মীদের মাঝে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ করি। একজন ছাত্রলীগ নেতার একটাই উদ্দেশ্য হওয়া উচিত- তৃণমূলে ছাত্রলীগের ভিত্তি মজবুত করা। তৃণমূল হচ্ছে আমাদের সংগঠনের প্রাণ শক্তি। তৃণমূলে ছাত্রলীগ শক্তিশালী হলে কেন্দ্রের ছাত্রলীগ শক্তিশালী হবে। তখনই জননেত্রী দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে সহজ হবে।


জয়যাত্রা: দেখা যায়, দলের বিপদে একজন নেতা বা কর্মী দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করলেও পরে মূল্যায়ন পায় না ?

সৈয়দ মিজানুর রহমান : আপনার এ কথার সঙ্গে আমি একমত নই। সত্যিকার অর্থে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করলে সংগঠন অবশ্যঈ মূল্যায়ন করে। প্রয়োজনে সংগঠন সেই ত্যাগী নেতা বা কর্মীকে খুঁজে বের করে মূল্যায়ন করে। তবে সেটি সময় সাপেক্ষ। দেখা যায়, কোন ত্যাগী নেতা বা কর্মী একটু দ্রুত মূল্যায়ন পায়, কেউ দেরিতে মূল্যায়িত হয়। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এ রকম হাজার হাজার উদাহরণ রয়েছে। যেমন- আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। তিনি একসময় ছাত্র রাজনীতি করতেন। ছাত্রলীগের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। এরপর দীর্ঘদিন তার খোঁজ ছিল না। তিনি গ্রামে চলে গিয়েছিলেন। সেই গ্রাম থেকে তাঁকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় এনে মূলধারার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে নিয়ে আসেন। আওয়ামী লীগের মত সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদের দায়িত্ব দিয়েছেন।


জয়যাত্রা: ছাত্রলীগের পদ পেতে লবিং লাগে, এটি কি সত্য?

সৈয়দ মিজানুর রহমান : কথাটি মোটেও সত্য নয়। সংগঠনের জন্য ত্যাগ করলে, শ্রমের যে মূল্যায়ন হয় সেটার জ্বলন্ত উদাহরণ ‘আমি’ (মিজানুর রহমান)। কারণ আমার এমন কোন লবিং, তদবির, বড় ভাই কিংবা প্ল্যাটফর্ম ছিল না যে আমাকে ধরে এনে সভাপতি বানাবেন। আমার একটাই শক্তি ছিল- সেটা হচ্ছে পরিশ্রম, পরিশ্রম এবং পরিশ্রম। আর দলের প্রতি প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা। আমি কখনও দলের সঙ্গে বেঈমানি করিনি বা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি। দলের যেকোন সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে পালন করার চেষ্টা করেছি। যার জন্য দল আমাকে মূল্যায়ন করছে। তা না হলে বিভিন্ন সময়ে শুনি যে সিন্ডিকেট-মিন্ডিকেট, নেতামেতা আমার তো কোন কিছুই ছিল না। আমার তো নেতা হওয়ার কথা নয়। পরিশ্রম করেছি, মাঠে ছিলাম। আমাকে দল মূল্যায়ন করছে। আমি নিজেই জ্বলন্ত উদাহরণ। ত্যাগ করলে, পরিশ্রম করলে কখনও ব্যর্থা যায় না। তবে অনেক সময় নিজের গাফলতির কারণে ভুল হয়। সঠিক পথে পরিশ্রম করতে পারি না। নিজেকে উপস্থাপন করতে পারি না। সেটা নিজেদের ব্যর্থতা তবে দল কখনও পরিশ্রমীদের অবমূল্যায়ন করে না।




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019