বাংলাদেশের পরাজয়

জয়যাত্রা ডট কম : 08/03/2018

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ধীর গতির উইকেট। বল ব্যাটে আসছিল থেমে থেমে। উইকেট দেখে দুই দলেরই চাওয়া ছিল টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া। আশা পূর্ণ হয়েছিল রোহিত শর্মার। টসের পাশাপাশি ম্যাচও জিতলেন ভারতীয় অধিনায়ক। নিদাহাস ট্রফিতে জয়ে ফিরেছে ভারত। আর বাংলাদেশ হার দিয়ে শুরু করল ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট।

ভারতের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে স্কোরবোর্ডে ১৩৯ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ৮ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে টিম ইন্ডিয়া।

এমন উইকেটে শুরু থেকে প্রয়োজন ছিল বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ের। কিন্তু টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই তাড়াহুড়ো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। ফলে ভালো শুরু পেলেও কোনো ব্যাটসম্যানের ইনিংস ডালাপালা মেলতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশও পায়নি বড় সংগ্রহ। অন্যদিকে ভারতীয় বোলাররা ছিল দারুণ। শর্ট বল, স্লো বল করে ব্যাটসম্যানদের বড় শট খেলা থেকে বিরত রাখছিলেন তারা। মূলত ভেরিয়েশন থাকায় ভারতের বোলাররা ছিলেন অসাধারণ। বোলারদের অসাধারণ নৈপূণ্য ও ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ইনিংসে নিদাহাস ট্রফিতে প্রথম জয় পেয়েছে ভারত। হারতে থাকা বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের তালিকায় আজ যোগ হলো আরেকটি পালক।

দুই দলের জয়-পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে ডট বল। বাংলাদেশের ইনিংসে ডট বল ছিল ৫৫টি। আর ১৮.৪ ওভার ব্যাটিংয়ে ভারতের ইনিংসে ডট বল ছিল ৩৪টি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিছুদিন আগেও বলেছিলেন, টি-টোয়েন্টিতে যারা ডট বল কম খেলে তাদের রান এমনিতেই বেড়ে যায়।’ ১২০ বলের খেলায় ৫৫ ডট বলের অর্থ ইনিংসের প্রায় অর্ধেক বলেই কোনো রান পায়নি বাংলাদেশ। অতিরিক্ত খাত থেকে পাওয়া ১৫ রান বাদ দিলে তো ব্যাটসম্যানদের কোনো অর্জনই নেই।

ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন লিটন কুমার দাস। ৩০ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। ইনিংসটি সাজাতে ভাগ্যকে পাশে পেয়েছেন তিনবার। সুরেশ রায়না, ওয়াসিংটন সুন্দর তার ক্যাচ ছাড়েন। আর টপ এজে বেঁচে যান একবার। সাব্বির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন ২৬ বলে। ৩ চার ও ১ ছক্কা ছিল তার ইনিংসে। জীবন পেয়েছিলেন সাব্বিরও। ৯ রানে তার ক্যাচ ছাড়েন বিজয় শংকর। সৌম্য (১৪), তামিম (১৫), মুশফিক (১৮) সবাই শুরুটা ভালো করেছিলেন। কিন্তু কেউই টিকে থাকতে পারেননি।

বাঁহাতি পেসার জয়দেব উনদাকাট ৩৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ২ উইকেট নেন বিজয় শংকর। আর ১টি করে উইকেট পেয়েছেন শার্দুল ঠাকুর ও যজুবেন্দ্র চাহাল।

লক্ষ্য তাড়ায় ভারতের ছিল না কোনো তাড়াহুড়ো। কিন্তু বাজে বোলিংয়ে লোভ সামলাতে পারেনি তারাও। রোহিত শর্মা তাসকিনকে যেভাবে পুল করে আর স্কয়ার কাটে চার মেরেছেন তাতে মনে হয়েছে ব্যাটিং কতটা সহজ কাজ। তবে সেই আত্মবিশ্বাস ভেসে যায় মুস্তাফিজের এক স্লোয়ারে। একটু ভেতরে ঢোকানো বলে প্লেড অন হন রোহিত (১৭)। এক চার মেরে আতবিশ্বাস দেখিয়েছিলেন রিসভ পান্তও। কিন্তু রুবেলের গতির তোপে বোল্ড হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ভারতকে। জয় থেকে ৩২ রান দূরে থাকতে সুরেশ রায়নাকে ফিরিয়ে রুবেল তৃতীয় সাফল্য দিয়েছিলেন। হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া শেখর ধাওয়ানকেও (৫৫) ফিরিয়েছিলেন তাসকিন। কিন্তু তাতেও পথ হারায়নি ভারত। মনিশ পান্ডে (২৭) ও দিনেশ কার্তিক (২) জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

এর আগে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ টি-টোয়েন্টি খেলে একটিও জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। ভারতের সাফল্যপাতায় যোগ হলো আরেকটি জয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কবে ভারতকে হারাতে পারবে বাংলাদেশ? আরেকটি পরিসংখ্যান তো আরও ভয়াবহ। শেষ ১৩ টি-টোয়েন্টিতে জয় মাত্র ১টিতে। আজ কলম্বোর আর প্রেমাদাসায় আরেকটি জয়হীন রাত কাটাল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019