দুই হাত হারানো, তবুও এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে সেই সিয়াম!

জয়যাত্রা ডট কম : 02/04/2018

অনলাইন ডেস্ক:
দুই হাত কাটা, তবুও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে দুই হাত হারানো সেই সিয়াম।

সোমবার নড়িয়া উপজেলার মশুরা গ্রামের ফারুক আহাম্মেদ খানের ছেলে সিয়াম আহম্মেদ খান নড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। তাকে পরীক্ষার খাতায় লিখে দিতে সাহায্য করছেন কমপক্ষে ১০ জন শিক্ষার্থী। পর্যায়ক্রমে সহায়তাকারীরা প্রতিটি বিষয়ে লেখার কাজে সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছে পরীক্ষার্থী সিয়াম।

পরিবারের পক্ষ থেকে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করার পরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমীন সিয়ামের পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। নড়িয়া সদরের বিহারীলাল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ভেন্যুতে সিয়াম পরীক্ষা দিচ্ছে। ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল বাড়ি থেকে জোহর নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বিঝারী এলাকায় ইরিবোর মাঠে মাটিতে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে তার দুই হাত পুড়ে যায়।

চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হাতে পচন ধরে। তাকে বাঁচাতে চিকিৎসক তার দুটো হাতই কেটে ফেলে। হাত দুটো হারিয়ে ও সিয়াম থেমে যায়নি। সে তার লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। তার স্বপ্ন সে লেখাপড়া করে অন্যের ঘাড়ে বোঝা না হয়ে বড় হয়ে দাঁড়াতে চায় প্রতিবন্ধীদের পাশে।

মানুষের মতো মানুষ হবে এ স্বপ্ন তার। সেখানে তার হাত দুটো হারিয়ে জীবনের তার স্বপ্ন থমকে গেলে ও সিয়ামের মনের জোর থামেনি। তার এ অদম্য চেষ্টা সফল হোক এটাই কামনা করছে সবাই। সিয়াম আহম্মেদ খান বলেন, অন্যের ঘাড়ে বোঝা না হয়ে লেখাপড়া শিখে বড় হয়ে প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াব। মানুষের মতো মানুষ হবে এ স্বপ্ন আমার। আমি অন্যের সহায়তায় পরীক্ষা দিচ্ছি।

পরীক্ষার খাতায় পুরোপুরি উত্তর দিতে পারছি না। আমি বলে দেই আর লেখক আমারটা শুনে লিখে। এটা আমার জন্য অনেক কষ্ট। আমি হাইকের্টের রায়ের ৫০ লাখ টাকা পাইনি। এ টাকা পেলে আমার জন্য অনেক উপকার হতো।

সিয়াম আহাম্মেদ খানের মা নাজমা বেগম বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলেকে লেখাপড়া করাতে হচ্ছে। হাত অকেজো হওয়ার কারণে অনেক কষ্ট হয়। আমার ছেলেকে যেন সমাজে অবহেলা না করা হয় সে জন্য যতদূর পারব তাকে লেখাপড়া করাবো।

বাবা ফারুক আহাম্মেদ খান বলেন, পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে গুরুতর আহত হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার আমার ছেলের দুহাতের কবজির ওপর থেকে কেটে ফেলে। আমি গরিব মানুষ। ধারদেনা করে ছেলের চিকিৎসা করতে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আমি আর পারছি না।

এত কষ্টের পরেও ছেলেকে পড়ালেখা করাচ্ছি। উচ্চ আদালত থেকে পল্লী বিদ্যুৎকে ৫০ লাখ টাকা দিতে বললেও এখনও কোনো টাকা পাইনি। নড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুল খালেক বলেন, সিয়াম মেধাবী ছাত্র। পল্লী বিদ্যুৎতের গাফিলতির কারণে বিদ্যুতের তার জড়িয়ে তার দুটো হাতই নষ্ট হয়ে যায়। তার পরেও সে লেখাপড়া ছাড়েনি।

তিনি বলেন, সে অদম্য চেষ্টা করে পড়াশোনা করছে। আমরা চাই পড়াশোনা শেষ করে সে ভালো একটি চাকরি করে জীবনটা গড়ে তুলে নেবে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া উচ্চ আদালতের রায়ের ৫০ লাখ টাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সিয়ামের পরিবারকে এখনও দেয়নি। এ টাকা পেলে সে একটা বড় সহায়তা পেত।

সূত্র:যুগান্তর




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019