জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণ

জয়যাত্রা ডট কম : 13/04/2018

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের এই অর্জনটা ধরে রাখতে পারব যদি দেশের জনগণ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করে। যদি ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, বিএনপি-জামায়াত জোট বা অন্য কেউ ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে না। পারবে একমাত্র আওয়ামী লীগ, এটা আমরা প্রমাণ করেছি।’

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সমাপনী ভাষণে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাপনী অধিবেশনে সংসদের বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদও অংশ নেন। সর্বশেষ স্পিকার অধিবেশন সমাপ্তিসংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শোনান।

প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমরা যদি সরকার গঠন করে দেশসেবার সুযোগ পাই আর এই অর্জনটা যদি ধরে রাখতে পারি, তাহলে আগামী ছয় বছরে উন্নয়নশীল দেশ অবশ্যই অর্জন করব।’ তিনি বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে আমাদের পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হয়েছে। যে তিন শর্ত পূরণ করলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া যায়, আমরা সেই তিনটি শর্তই পূরণ করেছি। শুধু শর্ত পূরণ নয়, আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। আগামী ছয় বছরে যতটুকু অর্জন করতে হবে, সেটা আমরা এর মধ্যেই পূরণ করে ফেলেছি। কাজেই আগামী ছয় বছরেও হিসাব-নিকাশে আমাদের পেছনে ফেলা যাবে না। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে এবং স্বাধীনতার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। সব সময় আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করা। যখনই সরকার গঠন করেছি, তখনই জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেছি। নিজে কী পেলাম, কখনো সেই হিসাব করিনি। হিসাব করি মানুষ কতটুকু পেল। সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বিবেচ্য বিষয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের অর্জনকে আরো এগিয়ে নিতে পারব, যদি ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে। দেশের জনগণের ওপরই আমরা সব কিছু ছেড়ে দিয়েছি। জনগণ যদি ভোট দেয়, তাহলে আমরা ক্ষমতায় আসব। আর এটাও বলতে চাই, আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে শর্তগুলো পূরণে এমন পর্যায়ে করে দিয়েছি যদি অন্য কেউ ক্ষমতায় আসে, তারাও যাতে উন্নয়নের এই ধারাটা অব্যাহত রাখতে পারে। তাহলে কিন্তু আমাদের কেউ পেছনে হটাতে পারবে না। তবে এখানে আমাদের সন্দেহ আছে।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে আমাদের গৃহীত বেশির ভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে রেখে এসেছিলাম। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর আবারও দেশ খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সাক্ষরতার হার কমিয়েছে। যদি ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, বিএনপি-জামায়াত জোট বা অন্য কেউ আসে, তবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে না, পারবে একমাত্র আওয়ামী লীগ।’

সংসদ নেতা বলেন, অতীতে সংসদে যে নোংরামি হতো, সে অবস্থা আজ নেই। বিরোধী দল এখন সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে। সত্যিকারের পার্লামেন্ট প্র্যাকটিস এখনই হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের দেশ সেবার সুযোগ দিয়েছে বলেই বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে পেরেছি। আমাদের এ অর্জন জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেছি। কারণ তারা আমাদের প্রতি আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে। ১৬ কোটি জনগণকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারে না, আমরা তা প্রমাণ করেছি। অনেক ষড়যন্ত্র, বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়েই আমরা এ অর্জন করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারব।’

সমাপনী বক্তব্যে অংশ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘রাজধানী ঢাকাকে তিলোত্তমা শহর করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু হয়েছে আবর্জনার শহর। রাজধানীতে আবাসিক এলাকা বলে কিন্তু কিছু নেই। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে অপরিকল্পিত শহর হচ্ছে এখন ঢাকা। সেবাখাতগুলো যদি সমন্বিতভাবে কাজ করত, তবে জনগণকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। যানজটের কারণে প্রায় প্রতিদিনই ঢাকা স্থবির হয়ে থাকে। যানজট থেকে ঢাকাকে মুক্ত করা গেলে প্রবৃদ্ধি আরো অনেক বৃদ্ধি পেত। এভাবে চললে দ্রুত ঢাকাকে পরিত্যক্ত নগরী ঘোষণা করতে হবে। এ থেকে উত্তরণে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করে সমাধান করতে হবে।’

রওশন এরশাদ বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত এখন নড়বড়ে হয়ে গেছে। খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। ছাতার মতো বেসরকারি ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার কারণে অনেকগুলোই এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ব্যাংকগুলোতে নৈতিকতার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ব্যাংকগুলো এখন পরিবারতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকির দুর্বলতায়ই এসব হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে প্রশ্ন ফাঁস না হয়, সে জন্য শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। আর ১৬ কোটি জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। উন্নয়নশীল দেশ অর্জনের সফলতা ধরে রাখতে হলে অবশ্যই এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে।’




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - শরিফা নাজনীন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019