• প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » টার্কি খামারীরা ঋণ পাচ্ছেন মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি


টার্কি খামারীরা ঋণ পাচ্ছেন মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি

জয়যাত্রা ডট কম : 16/04/2018

তোফাজ্জল হোসেন : টার্কি চাষ করে লাখোপতি হওয়া কিংবা অল্প পুঁজিতে অমুক এলাকার অমুক যুবক টার্কি মুরগী/মোরগ চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন। মিডিয়ায় প্রকাশিত এসব খবরে বেকার যুবকদের অনেকেই ঝুঁকেছেন টার্কি চাষে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে ‘টার্কি পাখি পালন’ কে অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। আর এটি হলে টার্কি চাষে কৃষি ঋণের মতো বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ পাবেন চাষীরা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লেখা বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মনোজ কান্তি বৈরাগী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরে বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে ‘টার্কি পাখি পালন’ অন্তুর্ভুক্তির নিমিত্তে টার্কি পাখি পালনের বাজার সম্ভাবনা/বাজার যাচাইপূর্বক সর্বোচ্চ এক হাজার টি টার্কি পাখি পালনের জন্য সম্ভাব্য খরচ এবং ঋণ গ্রহীতার জন্য সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করে অত্র বিভাগে সরবরাহের জন্য অনুরোধ করা হলো।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মনোজ কান্তি বৈরাগী বলেন,.কৃষি খাতের আওতা বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য প্রতিটি বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা এবং কর্মসূচীতেই কৃষি, মৎস ও প্রাণী সম্পদ খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম বিভিন্ন বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচীতে ‘টার্কি পাখি পালন’ অন্তর্ভুক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্রিয় বিবেচনা রয়েছে।

চিঠিতে মনোজ কান্তি বৈরাগী উল্লেখ করেন, ‘‘মানব স্বাস্থ্যো জন্য টার্কির মাংস অত্যন্ত উপযোগী। টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিঙ্ক, লৌহ, পটাশিয়াম, ভিটামিন ডি, ই এবং ফসফরাস থাকে। এ উপাদানগুলো মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। টার্কির মাংসে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় বাড়ায়। এছাড়া টার্কি তৃণভোজী পাখি হওয়ায় এর মাংস অত্রন্ত সুস্বাদু…।’
দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে টার্কি চাষ

উৎপাদন ব্যয় কম এবং অল্প বিনিয়োগে স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফার কারণে ইতোমধ্যে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে টার্কি লালন পালন। শুধু গ্রামে-গঞ্জেই নয়, রাজধানীর আশেপাশেও টার্কি মুরগী/মোরগ লালন পালন করছেন। যাদেও অধিকাংশই যুবক।ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে বাড়িতেই টার্কির খামার করে সাবলম্বী হচ্ছে। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের বেকারত্ব দূর হওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় যুক্ত হচ্ছে স্বাস্থ্যসম্মত সুস্বাদু টার্কির মাংস।
কোথা থেকে এলো টার্কি :

উইকিপিডিয়াসহ অন্যান্য মাধ্যমগুলো বলছে,টার্কি এক সময় বন্য পাখি ছিল। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বে টার্কি গৃহে লালনপালন হচ্ছে। গবেষণা থেকে জানা যায়, বাড়িতে প্রথম টার্কি পালন শুরু হয় উত্তর আমেরিকায়। পরে ১৫৫০ সালে উইলিয়াম স্টিকলেন্ট নামে এক ইংরেজ নাবিক প্রথম তুরস্ক থেকে এ মুরগী মধ্য ইউরোপে নিয়ে আসেন। ফলে তুরস্কের নাম অনুসারে এ পাখিটির নামকরণ করা হয় টার্কি। স্বল্পসময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বর্তমানে বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে টার্কির লালন পালন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবওে বলা হচ্ছে-গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা টার্কির খামার করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পুঁজির দ্বিগুন তিনগুন লাভ গুনছে।

টার্কি সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য

টার্কি মুরগী মোরগ মাত্র ৬ মাসে ডিম দেওয়া শুরু করে। এক বছরেই একটি টার্কির ওজন হয় ১০-১২ কেজি। পুরুষ টাকির্র ওজন ১২-১৪ কেজি পর্যন্ত হয়। এ হিসাবে একটি ছাগল থেকে যে পরিমাণ মাংস পাওয়া যায় তার থেকেও বেশি মাংস পাওয়া যায় একটি টার্কি থেকে। টার্কি লালন পালনে এক বছরেই পুঁজির দুই-তিন গুণ মুনাফা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকার সাভার, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নওগাঁ, খুলনা, চট্টগ্রাম, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলায় ছোট বড় অসংখ্য খামার গড়ে উঠেছে।
জানা যায়, একটি টার্কি তাদের জীবনকালে চার বছর পর্যন্ত ডিম দেয়। ৬ মাস থেকে ডিম দেওয়া শুরু করে একটি টার্কি তিন মাস টানা ডিম দেয়। তিন মাস পর একদিন পরপর ডিম দেয় বিশেষ জাতের এ পাখি। বছরে ডিম পাওয়া যায় ২০০টি। চার বছরে দেয় ৮০০ ডিম। বর্তমানে টার্কির একটি ডিম ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম থেকে বের হওয়ার পরই টার্কির বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকায়। ২ সপ্তাহের বাচ্চার দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। দুই মাসে প্রতিটি টার্কি বিক্রি করা যায় ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টাকায়। ৩ মাস বয়সী টার্কি বিক্রি করা যায় সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। ডিম দেওয়ার সময় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় প্রতিটি টার্কি বিক্রি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,টার্কির জন্য কৃত্রিম খাবারের প্রয়োজন পড়ে না। এ কারণে টার্কির খাবারের ব্যয়ও খুব কম। সাধারণ প্রাকৃতিক সবুজ ঘাস ও লতা-পাতা এবং শাক-সবজি টার্কির পছন্দের খাবার। পাশাপাশি দানাদার খাবারও রাখতে হয়। সুবিধা হলো-দেশীয় মুরগির মতো ঘরেও টার্কি লালন পালন করা যায়। যে কেউ এক জোড়া টার্কি কিনে লালন পালন করতে পারেন। দেশী মুরগির মাধ্যমেও টার্কির ডিম ফুটানো যায়। পোল্ট্রি মুরগির জন্য যেভাবে কৃত্রিম খাবার প্রয়োজন হয়, টার্কি লালন পালনে তার প্রয়োজন পড়ে না। তাই টার্কি লালন পালনে ব্যয় কম হওয়ায় লাভ হয় বেশি। গ্রাম পর্যায়ে টার্কি চাষ ছড়িয়ে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। পিকেএসএফের সহায়তার চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, খুলনা, যশোর, জয়পুরহাটসহ মোট ১৭ জেলায় টার্কি উৎপাদন ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থর্নীতিবিদ ও পিকেএসএফের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, টার্কি পালনে স্বল্প ব্যয়, স্বল্প পরিশ্রম ও স্বল্প সময়ে অধিক আয় নিশ্চিত করা যায়। টার্কির মাংস স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু। ফলে বাজারে এর চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। টার্কি লালন পালনের মাধ্যমের নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণে অবদান রাখার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019