ভোলায় অগ্নিকা- ও খালের নাব্যতাকে কেন্দ্র করে পৌর মেয়রের সাংবাদিক সম্মেলন

জয়যাত্রা ডট কম : 30/04/2018

নুরে আলম ফয়জুল্লাহ ভোলা প্রতিনিধি : ভোলা খালসহ ৫টি খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষে ইতোমধ্যে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে খালগুলো খননের কাজ চলছে। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে ভোলায় ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা নিয়ে ভোলা খালকে কেন্দ্র করে বিএনপির একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে মিথ্যা অপপ্রচারে নেমেছে। সোমবার দুপুরে পৌরভবনের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে পৌরমেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এ অভিযোগ করেন। এ সময় মেয়র অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে বিনা খরচে তাদের দোকানের ভবন নির্মাণের জন্য প্লান পাশ ও অনুমোদন দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি মেয়র বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকগণ ইচ্ছা করলে পৌরসভার সাথে অংশীদারীর ভিত্তিতে ভবন নির্মাণ করতে পারবেন।
ভোলা পৌর মেয়র আরো বলেন, স্বাভাবিক পানি প্রবাহ না থাকায় এবং দীর্ঘদিন ধরে ময়লা আবর্জনা ফেলায় ভোলাখালটি পানি শূন্য হয়ে আছে। এমন অবস্থায় গত ২৯ এপ্রিল মধ্যরাতে আগুন লেগে শহরের চকবাজার, মনিহারিপট্টি এবং খালপাড় রোডের অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে শতাধিক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। মেয়র বলেন, খালে অত্যাধিক ময়লা আবর্জনা আর পলিথিন থাকায় পানির অভাবে আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদেরকে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল খালের নাব্যতার সাথে অগিাœকা-ের ঘটনাকে যুক্ত করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। যা কোনভাবেই যুক্তি সংগত নয়।
মেয়র জানান, সাড়ে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ভোলা খালের মধ্যবর্তী সাড়ে ৪ কিলোমিটার পৌরসভার তত্ত্বধানে রয়েছে। খালের বাকি অংশ পানিউন্নয়ন বোর্ডের অধিনে রয়েছে। পৌরসভার অধিনে ভোলা খালের যে অংশটুকু রয়েছে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য জলবায়ু ফান্ডের একটি প্রকল্পের আওতায় ৫ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে অপর একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া ভোলা পৌরসভার মধ্যে চরজংলার খাল , বালিয়াকান্দির খাল, আলিনগর খাল এবং আন্দিরখাল এই ৪টি খাল পূনরুজ্জীবিত করার লক্ষে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ চলছে। চলতি বছরের মধ্যে এসব কাজ শেষ হলে ভোলা পৌরসভার আওতায় থাকা সকল খাল নাব্যতা ফিরে পাবে। আর তখন আগুন লাগার মত দুর্যোগ মোকাবেলা সহজতর হবে। তিনি আরও বলেন, ভোলা খালের বর্তমান অবস্থা আজকের কোন বিষয় নয়। এটি শুরু হয়েছে বিএনপির আমলে। ৯৬ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত খালের দুই পাড়ে গাইড ওয়াল দিয়ে খালটিকে সংকুচিত করা হয়। এ ছাড়া ওই সময় বাংলাস্কুল ব্রিজ, যুবদল নেতার বাসায় যাওয়ার ব্রিজ, টাউনস্কুল ব্রিজ খুব নিচু করে নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া অপর এক যুবদল নেতা ভরাট করে খাল দখল করেছে বলেও অভিযোগ করেন পৌরমেয়র। তিনি আরও বলেন, বিএনপির আমলে ভোলায় পনিসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু তখন ভোলা খাল রক্ষায় কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কিন্তু বর্তমানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের নির্দেশনায় ভোলার খালগুলো পূনরুজ্জীবিত করতে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভোলা পৌরসভার কাউন্সিলর মঞ্জুর আলম, শাহে আলম, সালাউদ্দিন লিংকন, আতিকুর রহমান, এরফানুর রহমান মিথুন, ওমর ফারুক, নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন আরজু প্রমুখ।




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - শরিফা নাজনীন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019