টিআর/কাবিটা প্রকল্পে ইডকলের অসাধু কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা

জয়যাত্রা ডট কম : 15/05/2018

নিজস্ব প্রতিবেদক :

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাসট্রাকচার ডেভেলোপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড ইডকল। যার মাধ্যমে সরকার দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান-উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প সম্পাদন থাকে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকেই এসব প্রকল্প দরিদ্র মানুষের সহায়ক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চার দশকে বিভিন্ন সময়ে দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও এসব প্রকল্প কখনো বন্ধ হয়নি। এগুলোর মধ্য টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। আর এপ্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেদুর্যোগ মন্ত্রণালয় ইডকলকেদ্বায়ীত্ব প্রদান করে।
২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নে ইডকল তাদের কর্মসূচীর অধীনে ৪৭টি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে সক্ষমতা যাচাই বাছাই সাপেক্ষে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলাতে একটি করেসহযোগী পার্টনার বা পিও’র মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করে।
ইডকল ২০০২ সাল থেকে গনপ্রজান্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রালয়ের অধীনে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করে আসছে। ৪৫ লক্ষ পরিবারের সৌর বিদ্যুত স্থাপন সহ সোলার ইরিগেশন পাম্প, সোলার মিনি গ্রীড, বায়ুগ্যাস, উন্নত চুলা, অটো ব্রিকস এবং টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরে ব্যাপক অর্থায়ন ও উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে।
২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে গত বছরের ন্যায় পুনরায় দুর্যোগ মন্ত্রাণালয় ও ইডকলের মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষর হয়। চলতি বছরে গ্রামীন শক্তির নামে কোন উপজেলা বরাদ্দ না দেওয়ার জন্য বিশেষ পক্ষ থেকে বলা হয়।তাই ৪৬টি সহযোগি সংগঠনের মাধ্যমে এবারেও ৪৯০টি উপজেলা বরাদ্দ দেওয়ার কথা। এ সুযোগে ইডকলের নবায়নযোগ্য জ¦ালানী প্রধান কর্মকর্তা এনামুল করিম পাভেল ও ভাইস প্রেসিডেন্ট সিরাজুল ইসলাম দুজন মিলেনিজের স্বার্থ সিদ্ধি আদায় করেতাদের পছন্দ কিছুসংস্থার নামে বেশি করে উপজেলা বন্টন করে অন্য সংগঠনের নামে কম উপজেলা বরাদ্দ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কিছু সংস্থা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প টিআর/কাবিটা ক্ষতির হওয়ার আশংকা করছে বলে প্রতিয়মান হচ্ছে।চলতি বছরে পাভেলও সিরাজুল দুজনে কোন বাছ-বিচার না করেইস্বার্থের বিনিময়ে একক সিদ্ধান্তে উপজেলা বন্টন করার প্রমান পাওয়া গেছে। চলতি বছরে গ্রামীন শক্তির বরাদ্দকৃত ৪৬টি উপজেলা বাতিল হওয়ায় সকলের উপজেলা বাড়ার কথা থাকলেও পাভেল ও সিরাজুলের সঙ্গে যাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ কেবলমাত্র তাদেরই উপজেলা বাড়ার খবর পাওয়া গেছে।
একাধিক সুত্রে জানা যায়, এনামুল কবীর পাভেল প্রথমে সহকারী সচীব হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ডেপুটেশনে ইডকলে নবায়নযোগ্য জালানীর প্রধান হিসেবে বদলী নিয়ে আসেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ডেপুটেশনে থাকার পর ইডকল উক্ত পদে লোক নিয়োগ করলে এনামুল কবীর পাভেল সহকারী সচীব থেকে ইস্তফা দিয়ে ইডকলে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি বিলাশবহুল বাড়ি গাড়ি সহ টাকার পাহাড় জমিয়েছে।

২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর কাবিখা কর্মসূচীর নির্দেশিকায় প্রকল্পের কাজের পরিধিতে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর/কাবিখা খাদ্যশস্য/ নগদ টাকা) বাজেটের ৫০ শতাংশ সৌর বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস স্থাপপনের মাধ্যমে খরচের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফলে হাট বাজার, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও রাজধানী পর্যায়ের সৌর বিদ্যুত এবং ষ্ট্রিট লাইটের ব্যবহার বেড়ে যায়। বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুত ব্যবহার বৃদ্ধির কারনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ প্রদত্ত পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে প্লানেট অব দ্য আর্থ পুরস্কারে ভূষিত হন। অথচ দেশের একটি স্বার্থান্বেষী চক্র প্রধানমন্ত্রীর সৌর বিদ্যুৎ বিস্তার সম্পর্কিত এই দূরদর্শী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
টেকসই ও নবায়ণযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা), বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড (ইডকল) পারসপেকটিভ প্ল্যান (২০১০-২০২১) অনুযায়ী দেখা গেছে, গত ২০১৫ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ শতাংশও (৮০০ মেগাওয়াট) বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মধ্যে হবে ১০শতাংশ (২০০০ মেগাওয়াট) এবং ২০৩০ সালের মধ্যে হবে ১০ শতাংশ (৪০০০ মেগাওয়াট)। আগামী দিনে এভাবে এই শিল্পকে কিছু সীমাবদ্ধ কোম্পানি কিংবা সংস্থার হাতে জিম্মি রাখলে কখনোই সরকারের লক্ষমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের এই বিপুল পরিমাণ কাজের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ বাজেটের অর্থ আত্মসাৎ করার প্রক্রিয়ায় জড়িত ইডকলের কিছুঅসাধু কর্মকর্তাদের সনাক্ত করতে পারলেই প্রধানমন্ত্রীর সৌর বিদ্যুৎ বিস্তার প্রকল্প সফল হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019