ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া

জয়যাত্রা ডট কম : 11/06/2018

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরে যেতে ঢাকা এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাসে ১৫ দিন আগে ভাড়া নেওয়া হয়েছে যাত্রী প্রতি ২৫০ টাকা। রবিবার একই বাসে হেলাল উদ্দিন টিকিট কিনেছেন, দিতে হয়েছে যাত্রী প্রতি ৭০০ টাকা। ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুর চলাচলকারী কমপক্ষে ১০টি কোম্পানির বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা ছাড়াও আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পথেও ভাড়া বেড়েছে। সোমবার চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে বরিশালের ভোলা যাবার জন্য তোফা এক্সপ্রেস, মেঘনা এক্সপ্রেস ও সীমান্ত পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। এ পথের নিয়মিত যাত্রী মিজানুর রহমান জানান, আগে এ পথে বাস ভাড়া ছিল ২৫০ টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা।

বিভিন্ন পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন সুত্রে জানা গেছে, দেশের ৩৮০টি রুটেই ঈদযাত্রায় যাত্রীদের পকেট কাটা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যান সমিতির সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ট্টেনের টিকিট না পেয়ে রাজধানীর বিভিন্ন কাউন্টারে গিয়ে আগাম টিকিট না পেয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে এভাবেই ঈদ বোনাস নেওয়া হচ্ছে। ঢাকার সায়েদাবাদ, মহাখালি ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ঈদের বোনাস হিসেবে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে সর্বনিম্ম ৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

কাল থেকে মহাসড়ক, রেলপথ ও নৌপথে যাত্রী আরো বাড়বে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে বেশ কয়েকটি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ না হলেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা অংশ আজ খুলে দেওয়া হচ্ছে। চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত গোয়াল বাজার সেতু, কানসূত্রাপুর, কালিয়াকর বাইপাস, গোড়াই বাসস্ট্যান্ড, সোহাগপাড়া, মির্জাপুর লেভেলক্রসিং, বাইপাস উড়ালসেতু, সুবল্লা সেতু, জামর্কি সেতু ও আমলা পাড়ায় গাড়ির গতি কমে যাচ্ছে।

এদিকে, কাল ঢাকা -চট্টগ্রাম চার লেনের মেঘনা সেতু অংশে বিকল্প যাতায়াতের জন্য মেঘনা ফেরি চালুর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পরিবহন কর্মীরা বলছেন, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত চাপ ক্রমেই বেড়ে যাবে। শুধু ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে কমপক্ষে ৩৫ লাখ পোশাক শ্রমিক বাড়ি যাবেন। এ কারনেই চাপ সামলাতে কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা অংশ খুলে দেওয়া হচ্ছে আজ।

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করা না গেলে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী পরিবহনে নিম্ন আয়ের লোকজনের যাতায়াত ঠেকানো যাবে না বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। আজ রাজধানীসহ সারাদেশে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় তদারক কর্মসুচিতে অংশগ্রহণকারী সেচ্ছাসেবক ও গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সমিতির মতে, দেশে তিন লক্ষাধিক যানবাহন ফিটনেসবিহীন, ১০ লাখ নছিমন-করিমন, ইজিবাইক সড়ক মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গণপরিবহন সংকটের কারণে ও কম ভাড়ার আশায় নিম্ন আয়ের লোকজন ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহন, পণ্যবাহী যানবাহন, বাস ট্রেন ও লঞ্চের ছাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হবেন প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিআরটিএ এর তদারক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি সর্বত্র তদারকি করতে পারছে না।

সভায় উপ-কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর ঈদ আনন্দযাত্রায় দেশের যাত্রী সাধারণ অতিরিক্ত ভাড়া নৈরাজ্যের শিকার হয়। বিগত ঈদুল ফিতরে অনেকটা লম্বা ছুটি থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে যাতায়াতের সুযোগ পেয়েছেন। এবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে গণপরিবহন কমে যাওয়ায়, ব্যক্তিগত পরিবহন ও ছোট পরিবহণ বিশেষ করে রিকশা, অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত রিকশা, নছিমন-করিমন, হিউম্যান হলার, পিকআপভ্যানের সংখ্যা দ্রুত গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক-মহাসড়কে যানজট বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি মহাসড়ক বেদখল মুক্ত করা, জাতীয় মহাসড়কে এখন থেকে অটোরিকশা, ব্যটারি চালিত রিকশা, নছিমন-করিমন ও মোটর সাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়।

সূত্র : কালের কন্ঠ




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019