নেই মূল্য তালিকা, নেই কোন নির্দেশনা পার্বতীপুরে তৈরী পোশাকের দাম আকাশচুম্বি

জয়যাত্রা ডট কম : 12/06/2018


সোহেল সানী, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ঈদের বাজার এখন তুঙ্গে। বস্ত্র বিপণিগুলোতে মালিক ও কর্মচারীদের দম ফেলার ফুরসত নেই। হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতা সামলাতে। রমযানের ৫ দিন যেতে না যেতে শুরু হয়েছে এ অবস্থা। সবচেয়ে বেশী পরিলক্ষিত হচ্ছে তৈরী পোশাক, জুতা-সেন্ডেল, কসমেটিক সামগ্রীর দোকানগুলোত। তৈরী পোশাকের দাম এত বেশী নেয়া হচ্ছে যে, সেখানে ছিন্নমুল ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যরা তাদের সাধ্যের মধ্যে কোন কিছু কিনতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে তারা ফুটপাতের দোকানগুলোতে ছুটছেন। মাছের বাজার ও কাঁচাবাজারে দ্রব্যমূল্য টানানোর নির্দেশ থাকলেও এসব কাপড়ের দোকানে কোনটিতে মূল্য তালিকা নেই। তালিকা টাঙ্গানোর জন্য তথা যৌক্তিক মূল্যে কাপড় বিক্রির কোন নির্দেশনাও নেই। এসব দেখার জন্য রয়েছে ভোক্তা অধিদপ্তর, কিন্তু নেই তাদের তৎপরতা।

মর্জিনা খাতুন (৫০), বাড়ী উপজেলা হাবড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে। এ গৃহিনী তার দুই নাতিকে নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে পার্বতীপুর শহরে এসেছিলেন। সকাল ১০টায় এসে বেলা ২টা পর্যন্ত দোকানে দোকানে ঘুরে বেড়ান। দুই নাতির জন্য প্যান্ট, শার্ট আর চামড়ার স্যান্ডেল কিনবেন। ১৩ ও ১৫ বয়সী দুই নাতিকে নিয়ে ওভারব্রীজ জামে মসজিদ সংলগ্ন সড়কের এক পাঁেশ দাড়িয়ে কথা বলছিলেন তারা। নানি বলেন, তোরা বললি ( বলেছিস) ৩ হাজার টাকায় দু’জনের প্যান্ট, শার্ট আর চামড়ার স্যান্ডেল হয়ে যাবে। এখনতো দেখছো, একজনেরই হওচ্ছে না (হচ্ছে না)। ছোট নাতি রফিক বলেন, আসলে দোকানদাররা সব জিনিসের দাম বাড়ে (বাড়িয়ে) দিছে। ৩শ টাকার জিন্সের প্যান্ট ১২শ টাকার কমে মিলছে না। শার্ট ও ৮শ’ থেকে ৯ শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে। চামড়ার স্যান্ডেল সারা বছর ৫শ’ টাকায় পাওয়া যায়, এখন তা ৯শ’ টাকায় মিলছে না। বড় নাতি মোস্তাফিজার বলেন, এসব দেখার কেউ নাই।
আরেক ক্রেতা মনসুর আলী (২৮), বাড়ি উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের দ্যাগলাগঞ্জ। তিনি বলেন, আমরা কৃষকেরা যা কিছু বেচতে আসি তার কোনটার উপযুক্ত মূল্য পাই না। আর যা কিছু কিনতে আসি তার কোনটাতে হাত দেওয়া যায় না।

ফাহমিদা হক (১৮) ও অনামিকা (১৬) এ দুই বোন এসেছেন ভবেরবাজার থেকে। এদের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, দুই মন ধান বিক্রি করে বড়জোড় সূতির থ্রী-পিস পাওয়া যায়। কিন্তু তার দাম চাওয়া হচ্ছে দুই হাজারের বেশি। তাও আবার মানসম্মত না। এছাড়া ভারতীয় থ্রী-পিসে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে বলে তিনি উলে¬খ করেন।
বাজার মনিটরিং নিয়ে কথা হয়েছে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানুল হকের সাথে। তিনি বলেন এগুলো দেখার জন্য ভোক্তা অধিদপ্তর আছে। তবু তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে উল্লে¬খ করেন।




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - শরিফা নাজনীন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019