৭১ লাখ টাকার অবৈধ আয় গোপনের অভিযোগ দুদকের

জয়যাত্রা ডট কম : 10/07/2018


নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নিশাত তামান্না রিতার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রীর জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদের বিবরণ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। নির্দেশনা পেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী দুদকের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, অনুসন্ধান শেষে কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নিশাত তামান্না রিতার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে করণীয় ও নির্দেশনার জন্য দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এদিকে সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে বারবার ফোন দেয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

দুদক সূত্র জানায়, কামরুজ্জামানের ৪৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ও তার স্ত্রী রিতার ২৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকাসহ ৭১ লাখ টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক।

এছাড়া ঢাকায় একটি দামি ফ্ল্যাট, রাজশাহীতে একটি বাড়িসহ আরও সম্পত্তির হিসাব দেননি এই কর্মকর্তা। সূত্রটি আরও জানায়, রাজশাহী নগরীতে নিজের বাড়ি থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা হলফনামা দিয়ে রাজশাহীর চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় চার কাঠার প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন কামরুজ্জামান।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে দুদক।

এদিকে আয়কর বিবরণী থেকে জানা গেছে, বিপুল সম্পদ ও সম্পত্তি থাকার পরও কামরুজ্জামান শুধু তার বৈতনিক আয়কর পরিশোধ করেন। এর পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকা। দুদকের মতে, কামরুজ্জামান বিপুল সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করলেও তা সরকারের কাছে গোপন করেছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সম্পদের বিবরণী প্রকাশ না করায় তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে।

দুর্নীতি সংক্রান্ত অপর এক মামলায় প্রকৌশলী কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জানুয়ারি মাসে চার্জশিট দাখিল করেছে দুদক। চার্জশিট দাখিলের পরও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রহস্যজনক কারণে কামরুজ্জামানকে স্বীয় পদে বহাল রেখেছেন। আরডিএর চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের দাবি কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট সম্পর্কে কেউ তাকে অবহিত করেনি। ফলে আরডিএ কর্তৃপক্ষ তার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি নিয়ে সহকারী প্রকৌশলী পদে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে কর্মজীবন শুরু করেন কুষ্টিয়ার কামরুজ্জামান। দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সালে আরডিএর তৎকালীন চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদারকে ম্যানেজ করে সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত এস্টেট অফিসার হিসেবে পদায়ন লাভ করেন।

এরপর থেকে কামরুজ্জামান ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। আরডিএর বিভিন্ন মার্কেট উন্নয়ন ও প্লট বরাদ্দে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ অর্জন করেন। এভাবে মাত্র কয়েক বছরে কামরুজ্জামান ১০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

দুদক সূত্র জানায়, আরডিএ মার্কেটের ফুটপাতে দোকান নির্মাণের অনুমতি দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন কামরুজ্জামান। এছাড়া আরডিএর পূবালী ও গোধূলি মার্কেট, নওদাপাড়া বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করেছেন। এতে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

সূত্র:যুগান্তর




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019