সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: টিআইবি

জয়যাত্রা ডট কম : 31/08/2018


নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের দুর্নীতিগ্রস্ত সেবা খাতগুলোর শীর্ষে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর পর রয়েছে পাসপোর্ট ও বিআরটিএ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) খানা জরিপ-২০১৭তে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানম-িতে সংস্থার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে জাতীয়ভাবে প্রাক্কলিত ঘুষের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। টিআইবির সব শেষ ২০১৫ সালের খানা জরিপে এটি ছিল প্রায় ৮ হাজার ৮২২ কোটি টাকা, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটের (সংশোধিত) ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং জিডিপির শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। দুই বছরের ব্যবধানে ঘুষের পরিমাণ বেড়েছে ২১ দশমিক ২ শতাংশ। তবে ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে বিভিন্ন খাতে সরকারের ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা,

তদারকি বৃদ্ধি এবং স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ব্যবস্থার বাস্তবায়নের কারণে ঘুষের শিকার হওয়া খানার হার হ্রাস পেয়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই জরিপ করেছে টিআইবি। জরিপে ১৫ হাজার ৫৮১টি খানা অংশ নেয়।

জরিপের তথ্য তুলে ধরে টিআইবি বলছে, ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত খাত তিনটি হলো যথাক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, পাসপোর্ট ও বিআরটিএ। শুধু ঘুষ নেওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে আছে বিআরটিএ। দুর্নীতিগ্রস্তের তালিকায় এর পর রয়েছে বিচারিক, ভূমি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সেবাগ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ খানা দুর্নীতির শিকার হয়েছে। পরিসংখ্যানগত তাৎপর্যের নিরিখে এই হার ২০১৫ সালের খানা জরিপে প্রাপ্ত হার (৬৭.৮ শতাংশ)-এর সমান। ২০১৭ সালে ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ খানাকে ঘুষ দিতে হয়েছে, যা ২০১৫ সালের তুলনায় ৮ দশমিক ৩ পয়েন্ট কম। তবে খানার হার কমলেও ঘুষ আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে। খানাপ্রতি বার্ষিক গড় ঘুষের পরিমাণ ২০১৫ সালের ৪ হাজার ৫৩৮ টাকা থেকে বেড়ে ২০১৭ সালে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৩০ টাকা।

জরিপ অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে কোনো না কোনোভাবে ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ খানা দুর্নীতির শিকার হয়েছে, পাসপোর্টে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ খানা, বিআরটিএতে ৬৫ দশমিক ৪ শতাংশ, বিচারিক সেবায় ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ, ভূমি সেবায় ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ, শিক্ষায় (সরকারি ও এমপিওভুক্ত) ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যসেবায় ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ খানা দুর্নীতির শিকার।

তবে শুধু ঘুষ বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ বিবেচনায় সেবা নিতে গিয়ে বিআরটিএ খাতে সর্বাধিক ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ খানা ঘুষের শিকার হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও পাসপোর্ট সেবায় ঘুষের শিকার হয়েছে যথাক্রমে ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ ও ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ খানা। তবে খাতওয়ারি হিসেবে বিভিন্ন খাতে খানাপ্রতি প্রদত্ত গড় ঘুষের পরিমাণ বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান পঞ্চম। ২০১৭ সালের খাতওয়ারি হিসেবে প্রতিটি খানা গ্যাস খাতে গড়ে ৩৩ হাজার ৮০৫ টাকা দিয়েছে (সর্বোচ্চ)। বিচারিক সেবা খাতে ১৬ হাজার ৩১৪ টাকা, বীমা খাতে ১৪ হাজার ৮৬৫ টাকা, ভূমিসেবা খাতে ১১ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা খাতে ৬ হাজার ৯৭২ টাকা ঘুষ দিয়েছে।

ঘুষ বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ প্রদানের মূল কারণ হিসেবে ৮৯ শতাংশ খানা বলেছে, ‘ঘুষ না দিলে কাক্সিক্ষত সেবা পাওয়া যায় না।’ ২০১৫ সালে এ কথা বলেছিল ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ খানা।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সেবা খাতে দুর্নীতিতে কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও সার্বিক তথ্য উদ্বেগজনক। যারা অনিয়ম করছে, তারা ঘুষকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করেছে। যারা দিচ্ছে তারা জীবনযাপনের অংশ করে নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশা করেছিলাম, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পর দুর্নীতি কমবে। কিন্তু যারা দুর্নীতি করে, তাদের জন্য বেতন বৃদ্ধি কোনো উপাদান নয়।’ সম্প্রতি মন্ত্রিসভা সরকারি কর্মচারী আইনের যে খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে, তাতে অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার না করার ধারাটির কারণে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনলাইন




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019