সকল শিক্ষকই অনুপিস্থিত প্রধান শিক্ষককে শোকজ 

জয়যাত্রা ডট কম : 04/09/2018

তোফায়েল আহমেদ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের ১৪৮ নং চর সাপড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে দপ্তরী কাম প্রহরী। চার শিক্ষকের সকলেই অনুপস্থিত থাকায় দপ্তরী নিজেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেন। গতকাল বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন। আজ বেলা ১১ টায় শিক্ষর্াীদের অভিভাবকদের সংগে সরেজমিন ঐ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের চার জন শিক্ষকের সকলেই অনুপস্থিত। একটি কক্ষে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির মোট ১৪ জন শিক্ষার্থী এক সংগে বসা । দপ্তরী কাম প্রহরী আব্দুল মোমিন মন্ডল ক্লাস নিচ্ছেন। তিনি জানান প্রধান শিক্ষক শেখর চন্দ্র ঘোষ স্কাউট ট্রেনিং এ শহরে গিয়েছেন। সহকারী শিক্ষক, মোঃ রাজিব পিটি আই প্রশিক্ষণে রয়েছেন, আবু সাঈদ ডেপুটেশনে পার্শ্ববর্তী স্কুলে ক্লাস নিতে গেছেন, অপর শিক্ষক শাহীন রেজা অফিসিয়াল কাজে শহরে গেছেন। সেজন্য তাকেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন এক বছর তিন মাস আগে তিনি এই স্কুলে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে যোগদান করেছেন। শিক্ষকরা অনুপস্থিত যোগদানের পর থেকে প্রায়ই তাকে এভাবে ক্লাস নিতে হয়। সকল শ্রেণির ছাত্র- ছাত্রীদের এক কক্ষে বসিয়ে কিভাবে পাঠ দান করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ছয় শ্রেনির ছাত্রদের হাজিরা নিতেই তার সময় চলে যায়।এর পর খুববেশী কিছু পড়ানো সম্ভব হয়না। স্থানীয় লোকজন ও অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, শুধু আজ নয়, ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এভাবে প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। কয়েকজন ছাত্র – ছাত্রী আসে। শিক্ষক না থাকায় ক্লাসের নামে দপ্তরী ছাত্র-ছাত্রীদের হাজিরা নিয়ে থাকে। দিনের পর দিন এমন অবস্থা চলতে থাকায় এই বিদ্যালয়ে ছাত্র- ছাত্রী সংখ্যা প্রায় শুণ্যের কোটায় পৌছেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে খাতা কলমে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাত্র ৩১ জন শিক্ষার্থীর নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে। অথচ এক সময় এই বিদ্যালয়ে দুই তিন’শ ছাত্র ছাত্রী পড়া লেখা করত। শিক্ষকদের এহেন দায়িত্বহীনতার কারনে ছাত্র-ছাত্রী কমতে কমতে বিদ্যালয়টিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাকরা অভিযোগ করে বলেন, ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি ও স্কুলে উপস্থিতির ব্যাপারে শিক্ষকদের কোন পদক্ষেপ নাই। অভিভাবক নুরে আলম নামের এক অভিভাবক বলেন, শিক্ষকদের কর্মস্থলে অনুপিস্থিতি ও এহেন কর্মকান্ডের কারনে অত্র এলাকার শিক্ষার্থীরা এই স্কুলে যেতে অনিহা প্রকাশ করে। তাছাড়া যে কয়জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয় তাড়াও স্বাভাবিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে অধিকাংশ ঝরে পড়ে। পঞ্চম শ্রেনির ছাত্র ফিরোজ আহমেদ জানায় প্রায়ই এই স্কুলের শিক্ষকরা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। শিক্ষক না থাকায় দপ্তরী আমাদের সব শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীকে এক কক্ষে বসিয়ে হাজিরা নেয়।এর পর কিছুক্ষন আলাপ আলোচনা করেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।সকল শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রী এক কক্ষে বসানোর কারনে সমস্যা আরও বেশী হয়।একই ধরনের কথা বলে চতুর্থ শ্রেনির ছাত্রী চায়না খাতুন, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র শাহীন সেখসহ অনেকে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আপেল মাহমুদ বলেন, শিক্ষকদের অনুপস্থিতির বিষয়টি জানার পর তিনি প্রধান শিক্ষক শেখর চন্দ্র ঘোষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং তিন কর্ম দিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019