কারাগারে আদালত সংবিধানের পরিপন্থী :মির্জা ফখরুল

জয়যাত্রা ডট কম : 04/09/2018


জয়যাত্রা ডেস্কঃ
পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বিচারালয় বসিয়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার কার্যক্রম শুরু করার সরকারের সিদ্ধান্ত সংবিধানের পরিপন্থীবলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিগগিরই রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার কথাও দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি সরকার একটা বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই প্রজ্ঞাপনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলা যেটা আলীয়া মাদ্রাসার মাঠে বিচারালয় তৈরি করে সেখানে বিচার করা হচ্ছিল। এখন আবার সেখান থেকে এটাকে ট্রান্সফার করে নিয়ে আসা হচ্ছে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে সেটা কাল (বুধবার) থেকে শুরু হবে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সরকারে এই সিদ্ধান্ত সংবিধান বিরোধী, সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংবিধানের আর্টিক্যাল ৩৫ (৩) ধারা মতে এই ধরনের মামলা প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হতে হবে। এখানে ক্যামেরা ট্রায়াল করার সুযোগ নেই। আমরা তাদের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেবার আহবান জানাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটি ক্যামেরা ট্রায়াল। আমরা রাজনৈতিকভাবে এ বিষয়টাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। দেশে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা সর্বোপরি তিনি একজন নাগরিক তার অধিকার হরণ করা হচ্ছে সংবিধান লঙ্ঘন করে। এর চেয়ে বড় অপরাধ কী হতে পারে। এটাকে কোনোভাবেই হালকা করে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়ে পরবর্তি কার্যক্রম ঘোষণা করবো।’

পরবর্তী কার্যক্রম কী হতে পারে জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি দেবো।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘অন্যায় ও বেআইনিভাবে উচ্চতর আদালতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হওয়ার পরও বিভিন্ন কাসাঁজির মধ্য দিয়ে তাকে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এই গণবিরোধী সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে দেশনেত্রীকে অন্যায়ভাবে হয়রানি এবং তাকে নির্যাতন করার উদ্দেশ্যে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করা এবং একদলীয় শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার হীন উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

সংবাদ সম্মেলনে সিআরপি’র ধারা ব্যাখ্যা করে সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, ‘একটি দেশ চলে সংবিধানের অধীনে। সংবিধানের অধীনে অন্যকোনো আইন নেই বাংলাদেশে। যারা মৌলিক অধিকারের কথা বলেন বা যে মূল সংবিধান ১৯৭২ সালের কথা বলেন সেই সংবিধান থেকে এখন পর্যন্ত অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করা হয় নাই। ৩৫ (৩) এ স্পষ্ট করে বলা আছে যেকোনো ফোজদরি মামলা এটা প্রকাশে হতে হবে। আজকে জেলখানা অভ্যন্তরে বিচার করার অর্থ হলো ক্যামেরা ট্রায়াল। এটা আমাদের সংবিধানের সম্মত নয়। সিআরপিএস’র ৩৫২ ধারাও একই কথা লেখা আছে, এই বিচার প্রকাশ্যে হতে হবে। এখন যেটা সরকার করছে এটা সম্পূর্ণভাবে সংবিধান পরিপন্থি।’

মওদুদ আরও বলেন, ‘আমরা এই ব্যাপারে কথা-বার্তা বলব, পর্যালোচনা করব এবং কোনো আইনি ব্যবস্থা করা যায় কি না সে ব্যাপারে চিন্তা করব।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ। অনলাইন




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019