ঋণ খেলাপিদের শক্তি রাজনীতি

জয়যাত্রা ডট কম : 14/09/2018

জয়যাত্রা ডেস্ক:
জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি। যা জাতীয় বাজেটের এক চতুর্থাংশের বেশি। এ ঋণের ৪৩ শতাংশের মতো খেলাপি হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণ কেন বছরের পর বছর ধরে আদায় করা হয় না?

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মত হচ্ছে, অনেক ব্যাংক ঋণ দেওয়ার সময় ঝুঁকি পর্যালোচনা ছাড়াই তাদের আমানতের চেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে। পাশাপাশি ঋণ গ্রহীতাদের অনেকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বা প্রভাবশালী কারও সহায়তায় ঋণ পেয়েছে, যে কারণে তারা ঋণ ফেরত না দেওয়ার সুযোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ কর্মকর্তা বলেন, ‘কয়েকটি কারণে ঋণ খেলাপি হয়। একটা হলো পর্যাপ্ত “সিকিউরিটি” না নেওয়া, আরেকটি হলো দুর্বলভাবে সেটাকে মূল্যায়ন করা। আরও একটি কারণ আছে, তা হলো বাইরের চাপে কাজটি করা, এখানে রাজনীতি প্রধান কারণ।’

ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘অর্থাৎ যারা যখন ক্ষমতায় থাকেন, তাদের সমর্থিত লোকজন জোর করে ব্যাংক থেকে টাকা বের করে নিয়ে যায়। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মালিক যেহেতু সরকার, ফলে ওই ব্যাংকের রাজনৈতিক লোকজন যখন ক্ষমতা প্রয়োগ করে, সেটা সহ্য করার ক্ষমতা থাকে না। কারণ মালিকের পক্ষ থেকে চাপ আসলে তো কিছু করার নেই।’

সাবেক এই ব্যাংক কর্মকর্তার অভিমত, নিয়ম ভঙ্গের কারণে ঋণ খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের শাস্তি হয় না বলে প্রতি বছর এ ধরনের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বাড়ে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের প্রথমার্ধে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর অর্থ হচ্ছে ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার যে চল তার লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের মত হলো, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অনাদায়ী ঋণ আদায়ে কর্তৃপক্ষের ফলপ্রসূ কোনো উদ্যোগ নেই। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বই হলো অন্যান্য ব্যাংকে কী ধরনের ব্যবস্থাপনা চলছে, তা মনিটরিং করা। কারণ ব্যাংকগুলোর ভেতরে তা ব্যক্তি খাতের হোক কিংবা রাষ্ট্রীয় মালিকানার হোক, সেখানে অভ্যন্তরীণ সুশাসনের একটি বড় অভাব দেখা দিয়েছে।’

‘যার কারণে এই ঋণ ফেরত না দেওয়া বা জালিয়াতি এমন নানা ধরনের কার্যক্রম ঘটে যাচ্ছে। এসব দেখলে বোঝা যায় ঋণ ফেরত আনার জন্য যে ধরনের ব্যবস্থা দরকার ছিল তা আমরা করতে পারিনি।’

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অনাদায়ী ঋণ আদায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানাবিধ পদক্ষেপ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানান, এজন্য নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটরিং করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এসব ঋণের সাথে যারা জড়িত এবং যেসব নিয়ম মেনে ঋণ দেওয়ার কথা, তা মানা হয়েছে কিনা তা তদারক করে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, বিভিন্ন সময় তা করাও হচ্ছে। যেসব ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে।’

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে খেলাপি ঋণ আদায় করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এমন কোনো উদাহরণ বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মকর্তা দেখাতে পারেননি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019