‘সাত বছরের মধ্যই বাংলাদেশ শিশুশ্রম মুক্ত হবে‌’

জয়যাত্রা ডট কম : 01/10/2018

মুহাম্মদ জাকির হোসাইন

বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রের মান উন্নয়নের জন্য কারখানা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো কাজের পরিবেশ তৈরিসহ বেশকিছু বিষয় নিয়ে কাজ করছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর’। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ডের নানা বিষয় নিয়ে জয়যাত্রার প্রতিবেদক ফিরোজ কবির শাওনের সাথে কথা বলেছেন কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার উপ-মহাপরিদর্শক মুহাম্মদ জাকির হোসাইন।

জয়যাত্রা: দেশের কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ নিয়ে আপনার মন্তব্য কি?

জাকির হোসাইন: কাজের পরিবেশের বিষয়ে এখন কারখানা মালিকদের মধ্যে বড় একটা পরিবর্তন এসেছে। অনেক কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আইনে যেভাবে বলা আছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান তার চেয়ে ভালো করছে। চাকরিজীবী মায়েদের বিষয়ে মাতৃত্বকালীন যে সুযোগ সুবিধার কথা বলা আছে তার চেয়ে এখন অনেক কারখানা ভালো করছে। কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা এখন এটা বুঝতে পেরেছে যে, কর্মপরিবেশ ভালো থাকলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। তাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে তারা ভালো কাজ করতে পারবে। এখন প্রতিটি গার্মেন্ট কারখানায় ফায়ার সেফটির ব্যবস্থা আছে। গার্মেন্টখাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে বায়ারদের কোনো প্রশ্ন তুলার মত অবস্থান নেই।

‘মালিক শ্রমিকদের মাঝে আগে একটা বিশাল দূরত্ব থাকত। এখন সেটা অনেক কমে গেছে। আগে শ্রমিকরা তাদের অধিকার নিয়ে কোথাও কথা বলতে পারতো না। এখন তারা তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলার বিভিন্ন প্লাটফর্ম পেয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটি কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন আছে। সেখানে তারা তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলে। নিয়ম অনুযায়ী এখন কারখানাগুলো প্রতিবছর তাদের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে থাকে।’

জয়যাত্রা: আমাদের দেশের কারখানায় গুড প্র্যাকটিস কেমন হয়?

জাকির হোসাইন: অভার টাইমে কাজ করালে মালিকরা বাধ্য তাদের শ্রমিকদের হালকা নাস্তা খাওয়াতে বা সমমূল্যের টাকা দিতে। এটা শ্রম নীতিমালায় বলা আছে। সব মালিকরা এটা পরিপালন করছে। এর পাশাপাশি অনেক মালিক তাদের শ্রমিকদের দুপুরে বা বিকেলের নাস্তা খাওয়াচ্ছেন। অনেক কারখানার মালিক তাদের শ্রমিকদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে থাকে। আবার কেউ আছেন যারা বছর শেষে তাদের শ্রমিকদের পরিহিত পোশাক সরবরাহ করছেন।

জয়যাত্রা: রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর গার্মেন্টস কারখানায় বড় একটা পরিবর্তন এসেছে এটা কীভাবে দেখছেন?

জাকির হোসাইন: রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর আমরা অনেকটাই শঙ্কিত ছিলাম। বিশেষ করে যখন একর্ড ও এলায়েন্সের মত সংগঠনগুলো আসল। আমাদের মধ্যে একটা ভাবনা কাজ করতো যে, অধিকাংশ কারখানা বাদ পড়ে যায় কিনা। কিন্তু পরে যখন আমরা পরিদর্শনে যাই তখন মাত্র ৩৯টি কারখানাকে রেড তালিকাভুক্ত করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিই। সেই সময়ে সব কারখানাকে আমরা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নিয়ে আসি। সেই ক্যাটাগরি অনুযায়ী তাদের উন্নতি করার বিষয়ে পরামর্শ দিই। সেই আলোকে তারা কাজ করে। এখন আমাদের দেশে বিশ্বের একনম্বর কারখানার তালিকায় বেশকিছু কারখানা রয়েছে। এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।

জয়যাত্রা: অনেক কারখানায় শিশুদের দিয়ে কাজ করানো হয়। বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?

জাকির হোসাইন: আমাদের দেশে শিশুশ্রম বড় একটা সমস্যা। এটা নিয়ে আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। আমরা এখন শিশুশ্রম নিয়ে খাতভিত্তিক কাজ করছি। গতবছর আমরা সিরামিক কারখানা, ট্যানারি কারখানা, প্লাস্টিক কারখায় কাজ করেছি। এখন আর এসব কারখানায় শিশুশ্রম নেই বললেই চলে। এ বছরে আমরা অ্যালুমিনিয়াম সেক্টরে, বেকারি, ওয়ার্কশপ, নির্মাণ সেক্টর এবং ইট ভাঙায় শিশুশ্রম বন্ধের বিষয়ে কাজ করছি। আগামী ২০২১ সাল নাগাদ ৩৮টি সেক্টরকে শিশুশ্রম মুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে শিশুশ্রম মুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা করতে পারব বলে আশা করছি।

জয়যাত্রা: কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কীভাবে কাজ করে?

জাকির হোসাইন: আমরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকি। শ্রমিকদের অভিযোগ নিয়েও কাজ করি। কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের কোনো শ্রমিক আমাদের এখানে অভিযোগ নিয়ে আসলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তার সমস্যার সমাধান করে থাকি। আমাদের অধিদপ্তরে যেকোনো শ্রমিক চাইলে অভিযোগ করতে পারেন। অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বরে, স্বশরীরে বা অনলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ করতে পারবেন।

‘লিখিত আকারে অভিযোগ করার ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক বা মহাপরিদর্শক বরাবর অধিদপ্তরের প্রধান অফিসের ঠিকানায় করতে হবে। প্রধান অফিসের ঠিকানা- ২৩-২৪, কারওয়ান বাজার ঢাকা-১২১৫। এছাড়া তাদের ওয়েবসাইটে অনলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ করা যায়। কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বরে অফিস চলাকালীন সময়ে যে কেউ অভিযোগ করতে পারবেন। হটলাইন হচ্ছে-০৮০০৪৪৫৫০০০।’

তিনি বলেন, আমরা এখন লিমা নামের একটি সফটওয়ার (পাইলট প্রকল্প হিসেবে আছে) ব্যবহার করছি। যখন কোনো কারখানায় যাবে তখন সেই কারখানায় আমরা যে ডাটা পিয়েছি তা সফটওয়ারে এন্টি দিলেই তা সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকের কাছে যাবে। এর জন্য আর নতুন করে চিঠি দেয়ার প্রয়োজন হবে না। তখন মালিক দেখবেন তার কারখানায় কি কি সমস্যা আছে।সেই আলোকে কাজ করবেন। শুধু তাই নয়, আমরা তাকে একটা সময় নির্ধারণ করে দেব, সেই সময়ের মধ্যে তাকে তার সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019