• প্রচ্ছদ » বিনোদন » গোপালঞ্জে মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা


গোপালঞ্জে মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

জয়যাত্রা ডট কম : 03/10/2018

দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : সারা দেশের ন্যায় এবারও গোপালগঞ্জ জেলায় ১১৮৭টি মন্দিরে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ সদরে ৩০৫টি, মুকসুদপুর ২৭৯টি, কাশিয়ানী ২৩৭টি, কোটালিপাড়া ২৮০টি ও টুঙ্গিপাড়া ৮৬টি মন্ডপে দুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

তাই জেলায় প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে জোর গতিতে। ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাষ্কর শিল্পীরা। নিখুত হাতের কারুকার্য দিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে প্রতিমা তৈরির শিল্পীদেরকে।

প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা বলছেন ১ মাস ধরে তারা প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন আর কয়েক দিনের মধ্যেই তৈরির কাজ শেষ হবে। তার পর থেকে শুরু হবে রং তুলির কাজ। অন্যদিকে প্রতিমা তৈরির পাশা পাশি প্রতিটি মন্ডপে চলছে গেট আর প্যান্ডেলের কাজ। সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা আগামী ১৪ই অক্টোবর মহাপঞ্চমী দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরের দিন মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা।

এবার দেবীর আগমন নৌকায় প্রস্থান হবে দোলনায় চড়ে। ধূপ, কাঁশা, ঘণ্টা আর ঢাকের তালে তালে শুরু হবে শারদীয় উৎসব। তাই শেষ সময়ে চলছে মা দেবী দূর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ। সুন্দর থেকে সুন্দরতর প্রতিমা তৈরি করতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন সম্প্রদায়ের পালেরা। সরেজমিনে সদরের কয়েকটি পূজা মন্ডপে গিয়ে দেখা গেছে, পালেরা প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা সকাল থেকে কাজ শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন। তাই পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করে থাকেন তারা।

প্রায় এক মাস আগে থেকেই প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু করা হয়েছে। এখন কোন কোন মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ের হাত, মাথা ও ফিনিশিং এর কাজ। তাছাড়া কিছু মন্ডপে বাঁশ, খড়, কাঠের ওপর মাটি দেয়ার কাজও এগিয়ে চলছে। সেই সঙ্গে কিছু কিছু মন্ডপে চলছে প্রতিমা গুলোতে রংয়ের কাজও। কয়েকজন পালের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার প্রতি সেট প্রতিমা তৈরিতে চল্লিশ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন তারা। তবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে তৈরি প্রতিমার চাহিদা বেশি বলে কারিগররা জানান। তারা বলেন, সিনিয়র পালেরা আকৃতি নির্ধারণ করে দেন। সহযোগী পালেরা পরে সম্পূর্ণ আকৃতি গড়েন। তবে চূড়ান্ত আকৃতি গড়েন সবচেয়ে অভিজ্ঞ সিনিয়র পাল। মূলত : তার হাতেই দেবী মূল আকৃতি লাভ করে।

গোপালগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডা: অসিত মল্লিক জানান, এবার দুর্গা পূজায় গোপালগঞ্জ জেলায় ১১৮৭টি মন্দিরে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে । এক সাপ্তাহের মধ্যে মন্ডপে দুর্গা প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হবে। এর পরেই শুরু হবে শিল্পীদের রং তুলির কাজ।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সার্কিট হাউজে দুর্গাপূজা সুষ্ঠ সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে একটি মতবিনিময় সভা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের অয়োজনে এ সভায় প্রতিটি পূজা মন্ডপের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সফলভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পূজা উদ্যাপন পরিষদ সব সময় কাজ করবে। তাছাড়া প্রতিটি পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে আনসার বিডিপির সদস্যসহ পুলিশের সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019