অক্টোবরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছে না

জয়যাত্রা ডট কম : 11/10/2018

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে তথ্য জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। রেকর্ড সংখ্যক আবেদন হওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।এ কারণে অক্টোবরে পরীক্ষার আয়োজন হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সচিব আকরাম আল হোসেনের সভাপত্বিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সভায় পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানো, ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, ওএমআর ফরম ডিজাইন ও মূল্যায়ন, পরীক্ষার সময়সূচি, ফলাফল প্রক্রিয়াকরণও প্রকাশ এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের আসন বিন্যাসেরপদ্ধতি উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা হলেও পরীক্ষা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি।

সভায় উপস্থিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এফ এম মনজুর কাদির বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে সভায় সার্বিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু এবার ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২৪ লাখের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছে, সেহেতু আমাদের বড় ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন রয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানো, নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ পূর্বের ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো সংশোধন করে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করা। এ কারণে অক্টোবরে পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাবনা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

১ নভেম্বর থেকে সমাপনী-ইবতেদায়ি পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকবেন। পরীক্ষার পরে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়াতে এবার উপজেলা সদরের পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কেন্দ্র নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে দেয়া হয়েছে। তারা প্রতিটি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্র বৃদ্ধি ও পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সময় নির্ধারণ করবে। এরপর নিয়োগ পরীক্ষার সময় ঘোষণা করা হবে। একইসঙ্গে যদি সব জেলায় একসঙ্গে কেন্দ্র খালি না পাওয়া যায় তবে, কয়েকটি জেলায় সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হতে পারে বলেও জানান মনজুর কাদির।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এবার ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে ২৪ লাখ ১ হাজার ৫৯৭টি আবেদন হওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও প্রশ্নফাঁস রোধ করাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে পরীক্ষা পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হতে পারে।

সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৪ (পিইডিপি-৪) আওতাভুক্ত ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গত ৩০ জুলাই ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮’ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ১-৩০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়। সারাদেশ থেকে মোট ২৪ লাখ ১ হাজার ৫৯৭টি আবেদন এসেছে।

বর্তমানে সারাদেশে ৬৪ হাজার ৮২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১২ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে নতুন করে আরও ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পুরনো নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019