আবাদ নিয়ে শংঙ্কা কৃষকের:প্রমত্তা তিস্তার পানি প্রাবাহ কমে আসছে

জয়যাত্রা ডট কম : 11/10/2018

রবিউল ইসলাম দুখ, রংপুর:প্রমত্তা তিস্তার পানিপ্রবাহ এখন অনেকটা কমে আসছে। ভারত তাদের গজলডোবা ব্যারাজের মাধ্যমে এক তরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নেয়ায় ভাটিতে তিস্তার বুকজুড়ে চর জেগে উঠা শুরু করেছে। তিস্তা পানি কমে আসায় বোরো আবাদ নিয়ে এবারও শঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মাঝে। এ কারনে বোরো মৌসুমে এ অঞ্চলে উৎপাদন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে কয়েকশত কোটি টাকা।

রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর চরের বাসিন্দা আমজাদ আলী(৫২) । তিস্তা পাড়েই তার ১০ বিঘা জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৬ বিঘাতেই ভূট্রা লাগিয়েছেন। তিনি জানান, আস্তে আস্তে তিস্তার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। সেচ দিতে কষ্ট হচ্ছে। আর কিছু দিন পর অন্যের শ্যালোর পানি নিয়ে সেচ দিতে হবে। খরচও বেশি পড়বে। এ জন্য তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ছে।

কাউনিয়ার গনাই চরের মোম্মদ আলী(৫৫) তিনি গতবার ৪ বিঘা জমি আবাদ করেছেন। গরু বিক্রি করে টাকা অগ্রিম দিয়ে সেচের ব্যবস্থা করেছেন। শ্যালো মালিক সেই সময় নেয় তিন হাজার টাকা। এবার আগে থেকেই টাকা বেশির কথা বলে আসছে। এতে করে দুশ্চিতায় পড়েছেন তিনি।

হয়বৎখাঁ চরের ফজল হোসেন, বয়সের ভারে নূ্যূজ হয়ে পড়েঠেছন। নদী পাড়েই তার বেড়ে ওঠা। সেই নদীর মুমূর্ষ অবস্থায় দেখে খুব পীড়িত হয়েছেন।
আযম খাঁ চরের ভবেশ রায় দিন মজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নদীতে পানি না থাকার কারনে তারও কষ্ট বেড়েছে।তার মত অনেক মানুষ আগের চেয়ে অনেক গরীব হয়ে গেছে। এ অঞ্চলের লাখো কৃষক ও জেলের আকুতি নদী না থাকলে বাঁচুম ক্যামনে।

যারা প্রতি বছরই পানি নিয়ে আন্দোলন করেন। তাদের একজন জেলা বাসদের সমন্বয়ক আব্দুল কুদ্দুস। তিনি জানান, তিস্তাকে বাঁচাতে হলে দরকার বাংলাদেশ সরকারের কঠোর অবস্থান এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,তিস্তায় পানি কম না থাকায় ছোট- বড় শতাধিক খেয়াঘাট বন্দরসহ নৌ যোগাযৌগের ক্ষেত্রে অচলবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের জন্য প্রয়োজন ৪ হাজার কিউসেক, সেখানে এখন ব্যারাজ এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার কিউসেক পানি।

তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের সম্প্রসারণ কর্মকর্ত রাফিউল বারী জানান, এবার বোরো মৌসুমে রংপুর, নীলফামারী ও দিনাজুপর জেলার ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধার‌্যণ করা হয়েছে।
বোরো আবাদের ভরা মৌসুমে তিস্তায় এ অবস্থা বিরাজ করলে বোরো উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকোশী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ব্যারাজে প্রকৃতপক্ষে পানির প্রয়োজন ২০ হাজার কিউসেক। মৌসুমের শুরুতেই খরস্রোতা তিস্তার নাব্য যেভাবে হ্রাস পাচ্ছে.তাতে আসন্ন রবি মৌসুমে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের সেচ কার্যক্রম চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে ।




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019