• প্রচ্ছদ » ফিচার » শেষ সম্বল আড়াই শতাংশ জমি বিক্রি করে নৌকার প্রচারণা


শেষ সম্বল আড়াই শতাংশ জমি বিক্রি করে নৌকার প্রচারণা

জয়যাত্রা ডট কম : 22/11/2018

দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গার মধ্যপাড়া গ্রামের ছেলে মাসুদ রানা। ৭ বছর বয়সে পঙ্গু বাবাকে ঠেলা গাড়িতে বসিয়ে ঢাকায় সারাদিন ভিক্ষা করতেন। রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে আবার কখনো মসজিদে রাত কাটাতেন। বাড়ি টুঙ্গিপাড়া হলেও ঢাকায় থাকতেই বঙ্গবন্ধু আর শেখ হাসিনার প্রতি জন্ম নেয় ভালবাসা। বয়স ১৪/১৫ হলে পঙ্গু বাবাকে নিয়ে ঢাকা থেকে চলে আসে গ্রামের বাড়ী টুঙ্গিপাড়ায়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ভালবাসা অসীম। তাই আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের জয়ের জন্যে শেষ সম্বল বসত ভিটার জমি বিক্রি করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ছেলে মাসুদ রানা। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ভালবাসার পাগল হলেও এলাকার মানুষের কাছে তিনি এখন পাগলা মাসুদ নামে পরিচিত।

তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় মাসুদ রানা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামতের কাজ করেন তিনি। কৈশর বয়স থেকে তিনি সব ধরনের আওয়ামী লীগের মিছিল মিটিং এ হাজির হন। কোথায় আওয়ামী লীগের মিছিল মিটিং হলে সেখানে হাজির হয়ে স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে থাকেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি আজও আওয়ামী লীগের সব ধরনের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেশি জেলায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় নিজ খরচে স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে থাকেন।

অসুস্থ্য মায়ের প্রতি তার কোন খেয়াল নেই। দিনদিন বেড়েই চলেছে আওয়ামী প্রীতি। সংসারের প্রতি তার খেয়াল নেই। এ ধরনের কর্মকান্ডের ফলে তার স্ত্রী তাকে ফেলে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে চলে গেছে। তাতে তার কোন আফসোস নাই। কিন্তু পরিবার থেকে বিভিন্ন বাঁধা ও বোঝানো সত্বেও দমানো যায়নি তাকে। সর্বশেষ তার শেষ সম্বল আড়াই শতাংশ জমি, টেলিভিশন ও ফ্যান মাত্র এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন তার ভাই ঝন্টু ফকিরের কাছে। সেই টাকা দিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন তৈরি করে ও লিফলেট ছাপিয়ে বিতরণ করে শেখ হাসিনার পক্ষে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। তার চাওয়া শেখ হাসিনা যেন আবার জিতে ক্ষমতায় গিয়ে দেশের সেবা করতে পারেন।

এক নজর দেখতে প্রতিদিনই মাসুদের বাড়ীতে ভীড় করছে এলাকাবাসী। আবারো জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসলে শেখ হাসিনা তার প্রতি মাসুদের যে ভালবাসা তা মূল্যায়ন করবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

মাসুদ রানার ভাবী মাবিয়া বেগম জানান, কোথাও আওয়ামী লীগের কর্মকান্ডের কথা শুনলে তিনি সেখানে চলে যান। টাকা না থাকায় আমাদের কাছে আড়াই শতাংশ জমি বিক্রি করে দিয়েছে। সেই টাকা দিয়ে শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে।

মাসুদ রানা মা রেহানা বেগম জানান, আমি অসুস্থ হলেও মাসুদের সে দিকে কোন খেয়াল নেই। আমি নিষেধ করলে মাসুদ বলে শেখ হাসিনা আমার মা। আমি শেখ হাসিনার পক্ষে কাজ করব। ওর বাবার শেষ সম্বল জমি টুকু বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করছে। এখন কোথায় থাকব কি খাব তা জানা নেই। মাসুদের এমন কাজে তার বউ সন্তান নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। সবাই মাসুদকে এখন পাগল মাসুদ নামেই ডাকে। তবে ও বলে আমি বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পাগল।
এলাকাবাসী মাসুদ ফকির, হানিফ ফকির, মোস্তাক ফকির জানান, মাসুদের বাবাও ছিল আওয়ামী লীগ পাগল। বাবার কাছ থেকেই মাসুদ আওয়ামী লীগ প্রেমী হয়েছে। এখন তো জমি জমা বিক্রি করে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার পক্ষে প্রচারণা করছে। আমরা চাই শেখ হাসিনা মাসুদের প্রতি একটু সুনজর দিবেন।

মাসুদ রানা জানান, আমার সংসার করতে ভাল লাগে না। তবে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে আমার ভাল লাগে। বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কোন অনুষ্ঠান হচ্ছে শুনলে আমি ঘরে থাকতে পারি না। সেখানে আমার যেতেই হবে। এমনকি আমি সিটি নির্বাচনে বরিশালও গিয়েছিলাম। নিজ জমানো টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে এসেছি।

এমন কর্মকান্ডে আপনার স্ত্রী ছেড়ে চলে গেছে সবাই পাগল বলে ডাকে এতে আপনার খারাপ লাগে না এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ রানা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমার স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে চলে গেছে এতে আমার কোন কষ্ট নেই। কারণ আমি শেখ হাসিনাকে মা বলে ডাকি। সবাই আমাকে পাগল বললেও আমি বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পাগল।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ বাবুল শেখ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। মাসুদের মত প্রত্যেকটি মানুষের এমন দেশ প্রেম আর বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালবাসা থাকলে বাংলাদেশ আজ অনন্য স্থানে পৌঁছে যেত বলে মনে করেন তিনি।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019