টেস্ট ইতিহাসের সেরা জয় পেল বাংলাদেশ

জয়যাত্রা ডট কম : 03/12/2018

জয়যাত্রা ডেস্কঃ
২০০৯ এ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাটিতে ২-০ তে টেস্ট সিরিজ হারানোর পর অনেক উত্থান-পতন বাংলাদেশের। সাকিব বলছিলেন, সেবারের জয়ে আমাদের উন্নতির ধারা শুরু হয়েছিল। এবার ঘরের মাটিতে প্রথমবার র্যাংকিংয়ের ওপরের দল সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেস্ট সিরিজে ২-০তে হারানোর ব্যাখ্যা দিলেন অধিনায়ক সাকিব- উন্নতির ধারা অব্যাহত থাকার প্রতিফলন হিসেবে। আসলেই। ওয়ানডে, টি-২০-এর পর টেস্টেও উন্নতিতে এখন বাংলাদেশ। বদলে যাওয়া বাংলাদেশের বদলে গেছে জয়ের ব্যবধানও! ১৮ বছরের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে খেলে ১১১ টেস্ট। তাতে যে ১১ জয় ছিল, সেখানে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড নেই। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা বা ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোকে ওভাবেই জয়ে দেখতে অভ্যস্ত সবাই। এবার ওই কাতারে বাংলাদেশও। প্রথমবারের মতো ইনিংস ব্যবধানে জয় এলো। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ইনিংস ও ১৮৪ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে সাকিব, মিরাজ, মাহমুদুল্লাহরা। শুধু জয়ের ব্যবধানই নয়, উইকেট সংগ্রহেরও রেকর্ড গড়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। এক ম্যাচে বাংলাদেশ সেরা বোলিং ১২ উইকেট প্রাপ্তি যোগ ঘটেছে তার। চট্টগ্রাম টেস্টও তিন দিনেই জিতেছিল। কিন্তু ঢাকায়ও তেমনটা হবে বলে মনে হচ্ছিল না। কারণ বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করেছিল যখন ৫০৮ রান। তখন ক্যারিবিয়ানরাও খেলবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আগের দিন শেষ বিকেলে ঘটে গেল নাটকীয় সব ঘটনা। ব্যাটিংই করতে পারছিলেন না। দিন শেষে ৭৫ রানে নেই তাদের ৫ উইকেট। তখনই ম্যাচে আভাস মেলে অনেক কিছু। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কৃতী স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যানকেও প্রশ্ন ছিল, ম্যাচ চতুর্থ দিন পর্যন্ত যাবে কি না। তিনি দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন ব্যাটিংয়ে ফেরার।
গতকাল সকালে তার ছিটেফোঁটাও চোখে পড়েনি। লাঞ্চের আগে ৫১ মিনিট ব্যাটিং করে অলআউট ১১১ রানে। তিন দিনেই খেলা শেষ হতে চলেছে কি-না তখন থেকেই জল্পনা শুরু। বাংলাদেশ কখনো প্রতিপক্ষ দলকে ফলোঅন করেনি। প্রথম ইনিংসে ৩৯৭ রান লিড নিয়ে সাকিব দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং করার প্রয়োজনীয়তা মনে করেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফলোঅন করতে নেমেও পূর্বধারা অব্যাহত এবং লাঞ্চের আগেই হারিয়ে ফেলে চার উইকেট ৪৬ রানে। এরপর যা ঘটেছে তা ছিল উইকেট সংগ্রহের প্রতিযোগিতা। তাতে মেহেদি হাসান মিরাজই সর্বাগ্রে। সকালে তিনি নেন ৫ উইকেটের মধ্যে ৪টি। অর্থাৎ প্রথম ইনিংসে তার উইকেট সংগ্রহ দাঁড়ায় সাত, ৫৮ রানের বিনিময়ে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই একই অবস্থা। এবার নিলেন তিনি ৫ উইকেট। বাংলাদেশে টেস্টে দুইবার ১০ বা ততোধিক উইকেট সংগ্রহে সাকিবের সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে এখন তিনি। দ্বিতীয় সেশনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়ে যায়। অবশ্য নিয়মানুসারে শেষ উইকেট ব্যাটিংয়ে থাকলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩০ মিনিট বাড়িয়ে দেন আম্পায়াররা, অল আউট হয় কি না সেটা দেখতে। ওই সময় পার হতে পারেনি। এবার অলআউট ২১৩ রানে। এতেই বাংলাদেশের ইতিহাসে ওই বড় জয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হার (সিলেট) দিয়ে শুরু করে শেরেবাংলায় জয়ে সিরিজ ড্র। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে জয়ের পর শেরেবাংলাতে সেটা অব্যাহত রেখে এবার সিরিজ জয়।
এ ম্যাচেই কেন, বাংলাদেশ দুই ম্যাচের সিরিজে কখনোই প্রেসারে ছিল না। প্রতিপক্ষ ব্রায়ান লারা, কার্ল হুপার, ভিভ রিচার্ডস, মাইকেল হোল্ডিংদের দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেটা যেন মনেই করেনি তারা। দু’টি ম্যাচেই ফ্রন্টফুটে থেকেই অসাধারণ এক সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। সফরকারীরা বাংলাদেশের বোলারদের সামনে কখনোই ঠিকমতো খেলতে পারেনি। হোম অ্যাডভান্টেজ পূর্ণভাবে কাজে লাগিয়েই বাংলাদেশ এ সাফল্য তুলে নিয়েছে সিরিজে। এর আগেও ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় আছে। তবে সেসব ছাড়িয়ে গেছে নিঃসন্দেহে এ সিরিজের সাফল্য। মেহেদি হাসান মিরাজ হয়েছেন ম্যাচসেরা। আর সাকিব নির্বাচিত হয়েছেন সিরিজ সেরা হিসেবে।
এ ম্যাচে প্রথম ব্যাটিং করে বাংলাদেশ পাঁচ শতাধিক রানের যে স্কোর সংগ্রহ করেছিল, তাতে ছিল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ১৩৮ রানের ইনিংস। সাকিবও সংগ্রহ করেছিলেন ৮০ রান। এ ছাড়া সাদমান ইসলামের ৭৬ ও লিটন দাসের দ্রুত ৫৪ রানের ওপর ভর করে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছিল ওই স্কোর। এরপর খেলতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ কেমন যেন নার্ভাস হয়ে যায় বাংলাদেশের স্পিনারদের বিপক্ষে। খেলতেই পারলেন না তাদের স্বাভাবিক খেলাটাও। এর আগেও বাংলাদেশে এসে অনেক ম্যাচ খেলেছে তারা। কিন্তু এতটা নার্ভাস আর কখনোই দেখা যায়নি তাদের। অবশ্য সিরিজ জয়ের এ ম্যাচে বাংলাদেশও চার স্পিন স্পেশালিস্ট দলভুক্ত করে। পেস বোলার ছিলেন না একজনও। এতে কিছুটা ভড়কে যায় তারা। যার প্রমাণ তাদের ব্যাটিং। দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদি নিয়েছেন পাঁচ উইকেট ৫৯ রানে। তাইজুল নিয়েছেন তিনটি। আগের ম্যাচে ভালো করা নাইম হাসান ও সাকিব নিয়েছেন একটি করে দ্বিতীয় ম্যাচে। উল্লেখ্য, এটা বাংলাদেশের চতুর্থ টেস্ট সিরিজ জয়। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২ বার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও ২ বার জিতল টিম বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ : ৫০৮, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১১ ও ২১৩ (ফলোঅন)
ফল : বাংলাদেশের ইনিংস ও ১৮৪ রানে জয়। সিরিজ : বাংলাদেশ ২-০তে জয়ী।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019