এবার ব্যালন ডি’অর মদ্রিচের

জয়যাত্রা ডট কম : 04/12/2018


জয়যাত্রা ডেস্কঃ
ডেভিড গিনোলা বিশেষ বক্তব্যের শুরুতে বলতে চাইলেন না, আবার বুঝিয়েও দিলেন পৃথিবীর কোনো কিছুই দীর্ঘস্থায়ী নয়! রাশিয়া বিশ্বকাপে সেরা ফুটবলারের পুরস্কার, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, উয়েফা বর্ষসেরা, ফিফা দ্য বেস্ট জয়ের পর এবার ব্যালন ডি’অর ২০১৮ জিতে নিলেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ। এক দশক ধরে চলে আসা রোনালদো ও মেসির অবিশ্বাস্য দ্বৈরথের ইতিও ঘটল এর মাধ্যমে।

রোনালদো ও মেসি আগামীতে আরও অনেক কিছুই কালের গর্ভে রাখবেন। সেটি পরে হবেক্ষণ। এবার সময় লুকা মদ্রিচের। দুই মহারথীকে পেছনে ফেলে গতকাল ব্যালন ডি’অর ২০১৮ (বর্ষসেরা ফুটবলার) জিতলেন ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলে জাগরণ এনে দেওয়া এই ফুটবলার। বেশ ঋজু, শান্ত ও শিশুসুলভ হাসি উপহার দিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন নতুন দিনের সূচনা এনে দেওয়া মদ্রিচ। সেরার দৌড়ে ছিলেন রোনালদো ও গ্রিজম্যান। মেসি হয়েছেন পঞ্চম! নারী ব্যালন ডি’অর জিতেছেন নরওয়ের ফরওয়ার্ড অ্যাডা হেগারবার্গ।

প্যারিসের গ্র্যান্ড হলে (লা গ্র্যান্ড প্যালেস) বিশ্ব ফুটবলের দুই নক্ষত্র রোনালদো ও মেসির চরণযুগল পড়েনি। হাজার বছর ধরে নির্ঘুম কাটিয়ে দেওয়া এই শহরে কাল ‘লুকা মদ্রিচের’ আলোয় আলোকিত ছিল। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়, এর পর ফিফা দ্য বেস্টের ট্রফিটি অর্জন। গতকাল ব্যালন ডি’অরও বগলদাবা করলেন ক্রোয়েশিয়ার এই ফুটবল মায়েস্ত্রো। এরই মাধ্যমে গত এক দশকের রোনালদো-মেসি দ্বৈরথের অবসান ঘটল।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেহায়েত কম নয়। ৩০ জনের বিশাল তালিকা থেকে মদ্রিচের নামটিই কেবল উজ্জ্বল। রোনালদো চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। মদ্রিচও এই শিরোপা পেয়েছেন। তবে ক্রোয়েশিয়ার এই ফুটবলার দেশকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। টানা দুবার ব্যালন ডি’অর পেয়েছেন রোনালদো। এবার আর হলো না হ্যাটট্রিক সিআরসেভেনের।

শীত বেশ জাকিয়ে বসেছে প্যারিসে। কালো রঙের বিশাল গাড়িতে করে যেতে যেতে সিন নদীকে এক ঝটকায় দেখে নিলেন লুকা মদ্রিচ। হয়তো খেয়াল করলেন, নয়তো নয়। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হৃদয়ের রক্তক্ষরণ কি আর নদীতে বয়ে চলে! অনেকটা অভিমানেই লন্ডনের ফিফা দ্য বেস্টের অনুষ্ঠানে যাননি সিআরসেভেন। আরেক মহাতারকা মেসিও ওপথ মাড়াননি। সেটি জানা বৈকি। গতকালও এই দুজনের পথ প্যারিসে মেলেনি।

গ্র্যান্ড প্যালেসে ঝকঝকে তকতকে সেট সাজানো হয়েছে। হাজারো আলোকচ্ছটায় লাল গালিচা বেশ দেখা যায়। হলরুমে অনুষ্ঠান শুরুর আগে অতিথিরা আসন গ্রহণ করেন। বিশ্বকাপের নায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে দেখা গেল বেশ হালকা মেজাজে আছেন। ব্যালন ডি’অর নিয়ে যে তার কোনো মাথা ব্যথা আছে, বোঝাই গেল না। বুফনকে কী একটা বলে হেসে গড়াগড়ি দেন। অবশ্য তিনি জিতেছেন অনূর্ধ্ব-২১ ব্যালন ডি’অর (সেরা তরুণ ফুটবলার)।

মদ্রিচের স্ত্রী ভ্যানজা বসনিকও সন্তানদের নিয়ে আপ্লুত। এমন চোখ ধাঁধানো অনুষ্ঠানে এসে বললেন, ধন্যবাদ। আমি এখানে আসতে পেরে খুশি। আমার জন্য অনেক সম্মানেরও বটে। ইতিহাস ও গৌরবান্বিত ইতিহাসের সাক্ষী আইফেল টাওয়ারে তখনো হলুদ রঙের আলোর দেখা পাওয়া যায়। বিজয়ী হওয়ার পরই সে দেশের খেলোয়াড়ের পতাকার রঙ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় গুস্তাভে আইফেলের কীর্তিতে।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপটি ফ্রান্স জিতেছিল। জিনেদিন জিদান সেবার ব্যালন ডি’অর জেতেন। ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকার সেবার দ্বিতীয় হন। এবার মদ্রিচ সে আক্ষেপে জল ঢেলে দিলেন। ক্রোয়েশিয়াকে গর্বে ভাসালেন তিনি। ২০০৭ সালে সর্বশেষ ব্রাজিলের কাকা ব্যালন ডি’অর জেতেন। এরপর একটি অধ্যায়ের সূচনা হয় ফুটবল বিশ্বে। আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের দুই জাদুকর তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আর কোনো ফুটবলারকে সুযোগ দেননি। এখনো এলএমটেন মানে মেসি ও সিআরসেভেনখ্যাত রোনালদোর সমান পাঁচটি করে ব্যালন ডি’অর (গত ১০ বছরে)। এমন দুরন্ত দ্বৈরথ অতীতে আর হয়নি। অদূর ভবিষ্যতেও এমন প্রতিযোগিতা দেখা যাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। রোনালদো ও মেসির এই লড়াইয়ের ইতি টেনে দিলেন মদ্রিচ। অনলাইন




সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মো. হাফিজউদ্দিন
সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019