পরীক্ষার্থীদের নকল সরবরাহের অপরাধে নড়াইলে শিক্ষক বরখাস্ত

জয়যাত্রা ডট কম : 11/02/2019

কাজী আশরাফ, নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলের লোহাগড়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নকল দিয়ে সহযোগিতা করার অপরাধে উপজেলার ইতনা স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ইতনা পরীক্ষা কেন্দ্রের হল সুপার শেখ মাহাবুবুর রহমানকে সামায়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত আরও দুই সহকারী শিক্ষক শিকদার মহব্বত হোসেন ও পিকুল শিকদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নকল দিয়ে সহযোগিতার সত্যতা ওই স্কুলের সিসি ফুটেজে থাকলেও ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি স্বার্থেন্বেশী মহল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইতনা স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির এক সদস্য বলেন, ২ ফেব্রুয়ারী এক যোগে দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক পর্যায়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ৫ ফেব্রুয়ারী আমাদের স্কুলে ইংরেজি ১ম পত্রের পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা চলার কিছু সময় পর পরীক্ষার্থীদেরকে নকল দিয়ে সহযোগীতা করছিলেন শেখ মাহাবুবুর রহমান। এসব কর্মকান্ড ধরা পড়ে ওই বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরায়। ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ৮ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডি এক জরুরী সভার আয়োজন করে এবং গভর্নিং বডির সভাপতি বাসুদেব ব্যানার্জির ও অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। এসময় নকল দিয়ে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অপরাধে আরও দুই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রসচিব ও ইতনা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেন, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীন শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারনে শেখ মাহাবুবুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তার প্রধান দুই সহযোগী শিকদার মহব্বত হোসেন এবং পিকুল শিকদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহীদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অন্য একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এর নিকট থেকে জানতে পেরেছি অভিযুক্ত শিক্ষককে পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহ করার অপরাধে সামায়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে মুঠফোনে তিনি বলেন, আমি ছুটিতে আছি।
বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি বাসুদেব ব্যানার্জির নিকট একাধিক বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫ ফেব্রুয়ারী পরীক্ষা চলার কিছু সময়ের মধ্যেই প্রশ্নপত্রর ফটোকপি ও সমাধান করে একই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও হল সুপার শেখ মাহাবুবুর রহমান সহকারী দুই শিক্ষকের সহায়তায় নিজেদের অধীন প্রাইভেট পড়ানো পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌছে দেয়। এসময় কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার এটিও সুব্রত বিশ্বাস ২০১ নং কক্ষে পরিদর্শনে যান। এবং পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রের উপর সঠিক উত্তর লেখা দেখতে পান এবং পরীক্ষা খাতা জব্দ করলেও কিছু সময় পর আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে শিক্ষার্থীদের আবার খাতা গুলি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ট্যাগ অফিসার সুব্রত বিশ্বাস বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রের উপর উত্তর লেখা দেখেছি। কিন্তু কেউ নকল হলে দিয়েছে কিনা তা আমি দেখি নাই।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019