শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবক

জয়যাত্রা ডট কম : 26/02/2019


: বিশ্বজিৎ কর্মকার :

শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবক, এই তিন মূল্যবান সম্পদ নিয়ে গড়ে ওঠে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীই নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু-আর এই কেন্দ্র বিন্দুকে বৃহত্তর বৃত্তে পরিণত করর কাজে প্রতিনিয়ত সাধনা করে চলেন শিক্ষক। শিক্ষকের সাধনা তখনই পরিপূর্ণতা পায় যখন অভিভাবক তার সমগ্র চিন্তা-চেতনা আগ্রহ নিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। তাই বলা যায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সফলতার শীর্ষে যেতে প্রয়োজন এই তিন শক্তির সম্মিলিত প্রয়াস। এর কোনটিকেই উপেক্ষা বা অবহেলা করার কোন অবকাশ নেই।

একটি শিশু বাবা-মায়ের হাত ধরে প্রবেশ করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সেখানে সে বাবা-মায়ের হাত ছেড়ে ধরে শিক্ষকের হাত। তখনই এই দুই হাতের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় পারস্পরিক সৌহার্দ ও সমঝোতার সম্পর্ক। এর আগে নিশ্চয়ই বাড়িতে চলে শিশুটির মানসিক প্রস্তুতির পর্ব- তখনই কচি মনে স্কুল- বাড়ি-শিক্ষক-বন্ধু এসব নিয়ে তৈরি হতে থাকে এক রূপকথার জগৎ,সকল আনন্দ উপকরণ নিয়ে, তাকে মাতিয়ে রাখবে পরবর্তী কালে। কার্যত দেখা যায় কালক্রমে শিশু তার বাবা-মায়ের চেয়ে শিক্ষকের দিক নির্দেশনাকেই বেশী গুরুত্ব দিতে থাকে। আর এই পর্যায়েই শুরু হয় শিক্ষকের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন মাহেন্দ্রক্ষণ।

বছর গড়িয়ে যেতে থাকে, শিশু ধীরে ধীরে অতিক্রম করতে থাকে তার বাল্য- কৈশোর। এই বয়সে স্বাভাবিক নিয়মেই তারা হয় অস্থির মতি, দুরন্ত এবং লেখাপড়ার প্রতি অমনোযোগী ও অনাগ্রহী। সবাই যে সে রকম হয় তা কিন্তু নয়। তবে প্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীই এই পর্যায়ে পড়ে। আর এরকম হবে না-ই বা কেন ? বর্তমানে বিজ্ঞানের উৎকর্ষের যুগে শিশুদের মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার মত বিষয়ের তো অভাব দেখা যায় না।

ঘরে ঘরে আজ কম্পিউটার, মোবাইল, ইন্টারনেট, টেলিভিশন তো অতি সাধারণ ব্যাপার। তার উপর পাড়ায় পাড়ায় সাইবার ক্যাফে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফাস্টফুড এর পশরা, দোকানে দোকানে হরেক ফ্যাশনের পোশাক। শৈশব-বাল্য-কৈশোর,আজ এসকলের চমক আর চটকদারিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। শিক্ষার সাধনা এখন তিক্ত ব্যাপার। শিক্ষক হিমশিম খাচ্ছেন তার আদরের শিক্ষার্থীকে শিক্ষাজগতের শৃঙ্খলার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে আর শিক্ষার্থী তার মন আর অপরিণত বুদ্ধি বিবেচনা নিয়ে পা বাড়াতে চাইছে ভুল ঠিকানায়।

এখানেই শিক্ষকের মধ্যে দায়িত্ব কর্তব্যের কথা চলে আসে অভিভাবকের। শিক্ষিত বাবা-মা তাদের সন্তানকে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চান অবশ্যই। আর সেই কারণেই সন্তানকে তারা একটি ভাল স্কুলে ভর্তি করে তার উপযুক্তভাবে গড়ে ওঠার পথকে প্রশস্ত করতে চান। খুব ভাল কথা নিঃস›দেহে। সন্তানের সকল চাহিদা পূরণের জন্য তারা নিজেদের নিয়োজিত করেন সর্বকালের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ অর্থ উপার্জনের কাজ। এটাও নিঃসন্দেহে খুবই ভাল এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সন্তানের মঙ্গলের স্বার্থে তারা নিজেদের সকল আরাম আয়েশ বিসর্জন দিয়ে প্রায় দিনরাত বেঁধে ব্যাপৃত থাকেন এই পার্থিক উদ্দেশ্যে সাধনের কাজে। কিন্তু সংস্কৃতিতে একটি কথা আছে ‘অর্থমনর্তম’- অর্থেই সকল অনর্থের মূল।

আবার একথাও সর্বজন স্বীকৃত যে জীবনে অর্থ না থাকলে কিছুই করা যায় না বা পাওয়া যায় না। এই যে সন্তানের মঙ্গলের জন্য তাঁরা জীবনপাত করছেন এর সুফল তারা পাচ্ছেন কিনা সেটা কি মাঝে যাচাই করার চেষ্টা করেন। শুধু অর্থোপার্জনের কাজেই যে সকল অভিভাবক ব্যস্ত থাকেন তাও নয়। উচ্চাভিলাষও অনেক পারিবারিক পরিবেশ থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রাখে সময় সময়। বিশ^বিদ্যলয়ের শিক্ষক, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, গবেষক, শিল্পী এরা তাদের স্বস্ব ক্ষেত্রে অধিকতর সাফল্য অর্জনের অভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য, স্বাভাবিক ভাবেই সংসার-সন্তান এসবের প্রতি পূর্ণমাত্রায় মনোযোগ দিতে পারেন না। সংসার হয় তো গতানুগতিক নিয়মে গড়িয়ে চলে, কিন্তু নিজের রক্তকনিকা থেকে তৈরি সন্তানের জীবন কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ হয় সমূহভাবে।
আবার এই দুই শ্রেণির অভিভাবকের বাইরে আরও এক শ্রেণির অভিভাবক আছেন যেখানে মায়েরা পেশাজীবী বা উচ্চাভিলাষী কোনটাই নন, তারা নির্ভেজাল গৃহিনী। কিন্তু তাঁরাও মনে হয় ছেলেমেয়েকে স্কুলে ভর্তি করে পরম স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলে যাবেন আর চিন্তা নেই। স্কুলই তাদের সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে দেবে।

তাঁদের এ ভাবনা হয়তো অনেকাংশে যৌক্তিক, কিন্তু কথা তো একটাই। স্কুলে শিক্ষকের সংস্পর্শে তারা কতক্ষণ কাটায় ? বাড়িতে মাকে খেয়াল রাখতে হবে তাঁর ছেলেমেয়ের গতিবিধির দিকে, প্রতিদিন লেখাপড়া চালাতে তাকে থাকতে হবে তাদের পাশে, ছেলে মেয়েকে বুঝতে দিতে হবে তাদের ¯েœহময়ী কর্তব্যপরায়ন মায়ের আন্তরিকতার কথা! শিক্ষক সীমিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া, আচার আচরন, জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ সকল ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিতে পারেন, সেই অনুশীলনের ক্ষেত্রে কিন্তু শিক্ষাথীর ঘর আর পরিবার। এ কথা সকলকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

সাধারণ একজন মা সংসারেরসকল কাজ সম্পন্ন করে সন্তানকে তৈরি করে, নিজে তাঁরা কাজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দেন। বাবাও অবশ্যই মাকে সাহায্য করেন। সন্তানের কোন অভাব তারা রাখতে চান না। বাড়িতে কম্পিউটার, টেলিভিশন কিনে দিয়েছেন, ঘরে ইন্টারনেট সংযোগ করেছেন।              ( মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয় )।

বিশ্বজিৎ কর্মকার
সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার
মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019