• প্রচ্ছদ » ফিচার » গোপালগঞ্জে স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও শেষ হয়নি ৪ মুক্তিযোদ্ধা হত্যার বিচার


গোপালগঞ্জে স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও শেষ হয়নি ৪ মুক্তিযোদ্ধা হত্যার বিচার

জয়যাত্রা ডট কম : 11/03/2019

দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের চার কমিউনিস্ট নেতা মুক্তিযুদ্ধে ৮ ও ৯ নং সেক্টরে কমিউনিস্ট পার্টি-ন্যাপ ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর প্রধান স্বমনয়কারী ওয়ালিউর রহমান লেবু , ন্যাপ নেতা ও জাতীয় সংসদের কোটালীপাড়া আসনের প্রার্থী কমলেশ বেদজ্ঞ, ছাত্র ইউনিয়নের নেতা বিষ্ণুপদ ও মানিকের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিলো গর্ত ১০ মার্চ রবিবার। ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার টুপুরিয়া ব্রিজের কাছে দিবালোকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে তাদেরকে হত্যা করা হয়।

দিবসটি পালন উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটি (সিপিবি) গোপালগঞ্জ জেলা কমিটি ও পরিবারের পক্ষ থেকে নিহত ৪ নেতার সমাধীতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এছাড়া বিচারের দাবীতে গোপালগঞ্জে মানববন্ধন করেছে তারা। মামলার বিবরণে জানা যায়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যাপ নেতা কমলেশ বেদজ্ঞ কোটালীপাড়া আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। ৩ দিন নির্বাচনী কাজ শেষে ১০ মার্চ সকালে কোটালীপাড়া উপজেলার সিকির বাজার থেকে নৌকায় করে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন। নৌকাটি টুপুরিয়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত মুক্তিযুদ্ধের ৮ ও ৯ নং সেক্টরের কমান্ডার ও কমিউনিস্ট পার্টি-ন্যাপ ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর প্রধান সমন্বয়কারী ওয়ালিউর রহমান লেবু , জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্তিাকারী ন্যাপ নেতা কমলেশ বেদজ্ঞ, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিষ্ণুপদ ও মানিককে রামদা, কোদাল, লোহার রড, ছ্যান দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। এদের সাথে থাকা বর্তমান জেলা কৃষকলীগ নেতা লুৎফর রহমান গঞ্জরকে মৃত ভেবে দুর্বিত্তরা ফেলে রেখে যায়। কিন্তু, ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান।

ওই ঘটনার পরদিন ১১ মার্চ তৎকালীন প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কাদেরের কাছে দেওয়া লুৎফর রহমানের ডায়িং ডিকলারেশন (জবানবন্দি) অনুযায়ী গোপালগঞ্জ থানায় একটি এফ.আই.আর (মামলা) করা হয় (মামলা নং-০৫, তাং-১১-০৩-৭৩, জিআর নং-৯৬/৭৩)। এ মামলায় মুত্তিযুদ্ধের হেমায়েত বাহিনী প্রধান হেমায়েত উদ্দিন বীর বীক্রমসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে বর্তমানে ৯ জন জীবিত রয়েছেন। মামলার প্রধান আসামি হেমায়েত উদ্দিনসহ ১২ আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন। ১৯৯৬ সালে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাইকোর্টের এক নির্দেশে মামলাটি আবারো চালু হয়। এর দুই বছর পর ১৯৯৮ সালের ৯ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্পেশাল ট্রাইবুনাল কেস নং-১/৮৬ প্রক্রিয়ায় মামলাটির বিচার কাজ শুরু করা হয়।

ওই বছরের ২৬ আগস্ট এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি হেমায়েত উদ্দিনসহ অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের (অপরাধ আমলে নেওয়া) শুনানির দিন ধার্য করা হলে শুনানি হয়। পরবর্তীতে আবারো স্থগিত হয়ে পড়ে মামলাটি। সর্বশেষ ২০১২ সালের ৩ এপ্রিল উচ্চ আদলতের নির্দেশে মামলাটির বিচার কাজ গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শুরু হয়। এসময় আদালত এমামলার আসামিদের অবস্থান, কে জীবিত রয়েছেন ও কে মারা গেছেন তার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তৎকালীন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

কিন্তু ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর উচ্চ আদালতের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধূরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে আসামিরা মামলাটি স্থগিতের আবেদন করেন। আদালত স্থগিত আদেশ দেন। দিবসটি পালন উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটি (সিপিবি) গোপালগঞ্জ জেলা কমিটি ও পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় মুক্তিযোদ্ধা কমরেড ওলিউর রহমান লেবু মিয়ার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার আড়পাড়ায় কবরে ও সকাল সাড়ে ৯ টায় গোপালগঞ্জ পৌর মহাশ্মশানে কমরেড কমলেশ বেদজ্ঞ, বিষ্ণুপদ ও মানিকের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পন, ফাতেহা পাঠ, দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনা হয়। পরে সকাল ১০ টায় জেলা শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের প্রেস ক্লাবের সামনে হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

নিহত মুক্তিযোদ্ধা কমলেশ বেদজ্ঞের মেয়ে সুতপা বেদজ্ঞ ক্ষোভ আর হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েতের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত আমার বাবাসহ চার মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে। দীর্ঘ বছর ধরে আসামি পক্ষ কৌশলে মামলাটির বিচার কাজ বন্ধ রাখে। বিগত ২০১২ সালে গোপালগঞ্জ জেলা জজ আদালতে মামলাটির বিচার কাজ শুরু হয়। ভেবে ছিলাম দীর্ঘ দিন পর হলেও বাবার হত্যাকারীদের বিচার হবে।

কিন্তু স্থগিত হওয়ায় আমরা বিচার পাচ্ছি না। কমিউনিস্ট পার্টি গোপালগঞ্জ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আবু হোসেন জানিয়েছেন, দীর্ঘ ৪৬টি বছর অতিবাহিত হলো কিন্তু, মামলার সাক্ষ্য গ্রহন পর্যন্ত হয়নি। এটাতো চোরাগোপ্তা কোন হত্যা নয় এটা প্রকাশ্য দিবালোকের ঘটনা। এর যথেষ্ট প্রমানও রয়েছে। আমাদের দাবী মামলাটি পুনরায় চালু করে বিচারকার্য সম্পন্ন করার।

মামলার আইনজীবী এ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদার জানিয়েছেন, স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে বিচার প্রার্থীরা সুপ্রিম কোটে লিফ টু আপিল করেন। আপিলের প্রেক্ষিতে মামলাটি পরিচালনার জন্য নিন্ম আদালতকে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু উচ্চ আদালত থেকে স্থাগিত হবার কারনে স্বাক্ষ্যগ্রহন হচ্ছে না। তবে মামলার প্রধান আসামি হেমায়েত উদ্দিন বীর বিক্রম মারা গেছেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019