১২ এপ্রিল থেকে সব সিনেমা হল বন্ধ

জয়যাত্রা ডট কম : 13/03/2019

বিনোদন প্রতিবেদক : বিদেশি ছবি আমদানির নীতিমালা শিথিল করার পাশাপাশি দেশীয় ছবি নির্মাণ বাড়ানোর উদ্যোগ না নিলে ১২ এপ্রিল থেকে দেশের সব সিনেমা হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে হল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি। সরকার সমস্যার সমাধান না করা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও জানানো হয়।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বুধবার ‘সিনেমা হল বাঁচলেই চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচবে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন করে সমিতির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, সরকারের সুদৃষ্টি ও আমাদের দাবিগুলো না মানা হলে ১ মাস পর অর্থাৎ আগামী ১২ এপ্রিল থেকে দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সিনেমা হল চালানোর মত দেশে পর্যাপ্ত চলচ্চিত্র হচ্ছে না। যাও হচ্ছে তাতে মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় দর্শকরা সিনেমা দেখছে না। লোকসান গুণতে গুণতে হতাশ প্রযোজকেরা। অন্যদিকে আয় নিয়ে সন্তুষ্ট নন প্রেক্ষাগৃহের মালিকেরা। এছাড়া দেশের বাইরের ছবি প্রদর্শনেও রয়েছে কঠোর নিয়ম। তারপরও তাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে নানাবিধ শর্ত আর নিয়মকানুন। এভাবে বেশি দিন চলতে পারে না। লোকসান গুণতে গুণতে পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে।

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির পক্ষে লিখিত বিবৃতিতে বলেন, দেশের চলচ্চিত্রের দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠার উপায় নিয়ে আমরা তথ্যমন্ত্রী ও তথ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা কেউই প্রেক্ষাগৃহ বাঁচানো কিংবা দেশীয় সিনেমা নির্মাণ বাড়ানোর ব্যাপারে এবং উপমহাদেশীয় ছবি আমদানির বাধা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি। দেশের প্রেক্ষাগৃহ ১ হাজার ২৩৫ থেকে নেমে এখন ১৭৪-এ দাঁড়িয়েছে। সিনেমা নির্মাণও বছরে এখন ৩৫ থেকে ৪০ টির মতো। এত কিছুর পরও পরিচালক এবং শিল্পীরা তাদের আয় বন্ধ হয়ে যাবে, এই অজুহাতে উপমহাদেশীয় ছবি আমদানির বিরোধিতা করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, যখন থেকে আমরা উপমহাদেশীয় ছবি আমদানির দাবি করে আসছি, তখন থেকে আমাদের আশ্বস্ত করতে বলা হচ্ছে, ভালো পরিচালক আসছেন। আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্প ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তার উদাহরণ কি সিনেমা হলের সংখ্যা কমে ১৭৪ হওয়া? গত বছর দেশীয় ছবির নির্মাণ সংখ্যা ৩৫–এ নেমে আসা?

তিনি আরো বলেন, উচ্চহারের বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিক কর্মচারীর বেতনসহ অন্যান্য খরচের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকায় প্রতিটি সিনেমা হল মালিকদের লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪৭ বছরেও পরিচালক ও শিল্পীরা ছবির গুণগত মান উন্নত করতে পারেননি। অথচ এটা সত্য যে, পাকিস্তান আমলে ভারতীয় বাংলা, হিন্দি সিনেমা ও পাকিস্তানি উর্দু সিনেমার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের সিনেমা ব্যবসাসফল যেমন হয়েছে, তেমনি শিল্পমানও ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সহসভাপতি আমির হামজা, সাধারণ সম্পাদক কাজী শোয়েব রশীদ, উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, কার্যনির্বাহী সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন প্রমুখ।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019