• প্রচ্ছদ » ফিচার » সৈয়দপুর বিমানবন্দর সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহন কার্যক্রম শুরু


সৈয়দপুর বিমানবন্দর সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহন কার্যক্রম শুরু

জয়যাত্রা ডট কম : 02/04/2019

ওবায়দুল ইসলাম নীলফামারী প্রতিনিধি ঃ ১৯৭৭ সালে এ বিমানবন্দরে প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করা হয়। ক্রমে ক্রমে এয়ারলাইন্স এবং সিভিল এভিয়েশনের কাছে এ বিমানবন্দরটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে পরিণত হয়। তবে ওই সময়ের সরকার বিমানবন্দরটি ৫ হাজার ফুটে উন্নীত করে। এর পাশাপাশি লাইট ল্যান্ডিং সিস্টেম থাকার ফলে এখানে দিন-রাতে বিমান চলাচল করতে পারে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে বিদেশি বিমান চলাচলে সহায়তা দিয়ে আসছে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়।

এছাড়া টার্মিনালের ভিআইপি লাউন্সকেও আধুনিক ও সম্প্রসারিত করা হয়। কিন্তু এ সকল উজ্জল সম্ভাবনা থাকা সত্বেও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করা হয়নি। সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থাকার পরও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত না করায় উত্তরের ৮ জেলার ব্যবসায়ী মহল ও উত্তরা ইপিজেডে হতাশা বিরাজ করছিলো। অথচ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরন এলাকা স্থাপিত হওয়ার সাথে সাথে এ বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিকমানে রুপান্তরিত করার বিষয়টিও উঠে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে। জানা যায় ১৯৮৮ সালে যখন দেশে ভয়াবহ বন্যা তখন দেশের সবক’টি বিমানবন্দর পানিতে তলিয়ে গেলেও মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছিলো সৈয়দপুর বিমানবন্দরটি।

এ কারণে সেই সময় বন্যা মুক্ত এ বিমানবন্দরটির গুরুত্ব অনুধাবন করে তৎকালিন সরকার এ বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। এদিকে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই সৈয়দপুর বিমানবন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যখন ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যায় তখন বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর জেলা ছাড়াও উত্তর জনপদের ২২ জেলার বিদেশি অতিথি, ট্যুরিস্ট এবং ভিআইপিদের আনা-নেয়ার সহায়তা দিয়ে আসছিলো এ বিমানবন্দরটি। সৈয়দপুরের সাথে দেশের আকাশ পথে এ বিমানবন্দর থেকে বিমান চলাচল শুরু করে। বেশ কয়েক বছর বিমান চলাচলের পর হঠাৎ করে লোকসান দেখিয়ে এ বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

এরই ফাকে স্থায়ীভাবে আকাশ পথে বন্ধ করে দেয়া হয় বিমান যোগাযোগ। সেই সময় চাকুরিচ্যুত হয় ৮ জন কর্মচারী। উল্লেখ্য বিগত মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে বন্দি বাঙালিদের শ্রমে এ বিমানবন্দর গড়ে ওঠে। বাঙালিদের রক্ত আর ঘাম মিশে আছে এ বিমানবন্দরের প্রতিটি ইট-সুরকি ও ধুলিকণায়। স্বাধীনতার পর আশির দশকে বিমান গেটওয়ে হিসেবে এর বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়। সেই থেকে বিমান নিয়মিত চলাচল করছে এ রুটে। মাঝে মাঝে ফ্লাইট সংখ্যা কমলেও বিমান যোগাযোগে ছেদ পড়েনি। প্রথমাবস্থায় প্রতিদিন বিমান চলাচল করলেও শেষের দিকে এসে ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে সপ্তাহে দুদিন করা হয়। সে সময় লোকসান থেকে বিমানকে বাঁচাতে কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন বিমানের ফ্লাইট। স্থায়ীভাবে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে সময় চাকুরিচ্যুত কর্মচারিরা আন্দোলন শুরু করেন। কিন্তু শেষমেস তাদের আন্দোলন কাজে লাগেনি।

ওই সময় এ বিমানবন্দরটিতে সিভিল এভিয়েশন ও জেলা বিমান অফিসার মিলে মোট কর্মচারীর সংখ্যা ছিলো ১৩৫ জন। এর মধ্যে এভিয়েশন শাখায় ছিলো ৯৭ জন এবং জেলা বিমান অফিসে ছিলো ৩৮ জন। ওই অভিযোগ উঠেছিলো ঢাকা থেকে যে সকল কর্মকর্তা কর্মচারি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যোগ দিয়েছিলো মূলত তাদের কারণেই অযথা লোকসান দেখিয়ে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। তারা ঢাকায় চাকুরি করার ব্যাপারে ছিলো অতি আগ্রহী। তাদের সর্বনাশা খেলায় নিশ্চিত বন্ধ হয়ে যায় সৈয়দপুর-রাজশাহী-ঢাকা ফ্লাইট। সে থেকে দীর্ঘ কয়েক বছর সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সকল ব্যস্ততা স্তিমিত হয়ে যায়। সর্বত্র বিরাজ করে জনমানবহীন নিরবতা। উধাও হয়ে যায় বিমান উড্ডয়নের চিরচেনা দৃশ্য। এর ফাকে খোয়া যেতে থাকে রানওয়ের মূল্যবান যন্ত্রপাতি। কিন্তু থেমে থাকেনি সৈয়দপুরবাসী।

আন্দোলনের পর আন্দোলন চলতে থাকে বিমানবন্দর চালুর বিষয় নিয়ে। আন্দোলনের মুখে আবার সৈয়দপুর বিমানবন্দরটি চালু হয় ২০০৭ সালে। একই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত কারণে বন্ধ হয়ে যায় বিমান চলাচল। এরপর ২০০৯ সালের ৩১ জানুয়ারি বেসরকারি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ চলাচল শুরু করে। সেটিও একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর ২০১৩ সালের ২০ জুন পরবর্তী ইউনাইটে এয়ারওয়েজ চলাচল শুরু করে। সে থেকে আজ পর্যন্ত এখানে বিমান চলাচল করে আসছে। বর্তমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানসহ ৩ টি বেসরকারী কোম্পানীর এয়ারক্রাফট চলাচল করছে। প্রতিদিন এসব কোম্পানীর ১১টি ফ্লাইট উঠানামা করছে এখানে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের ২টি. ইউএস বাংলার ৫টি. নভোএয়ারের ৪টি। যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই কোম্পানীগুলো দিন দিন তাদের ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। তারপরও বেসরকারী কোম্পানীগুলোর টিকিট পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়েছে যাত্রীর চাপে।

সম্প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি পড়ে এ বিমানবন্দরটির দিকে। আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দরে রুপান্তরিত করতে এখানে শুরু হয় জমি অধিগ্রহণ কাজ। বিমানবন্দরে যেসকল জমি মালিকের জমি অধিগ্রহণ কাজ চলছে, যাদের বসতভিটা চলে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বাড়ি তৈরিসহ ৩ গুন অর্থ দেয়ার ঘোষণা এসেছে। কিন্তু কতিপয় স্বার্থান্বেষি মহল এ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ করতে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। বিমানবন্দর বিষয়ে কথা হয় বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক শাহীন আহমেদের সাথে তিনি বলেন আন্তর্জাতিকমানের এ বিমানবন্দরটি মর্যাদাসম্পন্ন হলে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।

বিমানবন্দরের জমি অধিগ্রহন কাজ নিয়ে কথা বলেন নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শাহীনুর আলম। তিনি বলেন, সরকারের নিয়মনীতি অনুযায়ী আমরা জমি অধিগ্রহণ কাজ শুরু করেছি। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম গোলাম কিবরিয়া বলেন, এ বিমানবন্দরটি পরিপূর্ণ হলে এ এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। সারাবিশ্বে সৈয়দপুরের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে। তাই সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সহযোগিতা করতে তিনি সৈয়দপুরবাসীকে আহ্বান জানান। উল্লেখ্য সে সময়ে বন্ধ বিমানবন্দরটি চালুর ব্যাপারে মহান সংসদে কথা বলেছিলেন সাংসদ কর্নেল এ এ (অব.) মারুফ সাকলান।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019