শিশু বান্ধব প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা

জয়যাত্রা ডট কম : 05/04/2019

: বিশ্বজিৎ কর্মকার:

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। প্রতিটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির সাথে জড়িয়ে আছে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের সমৃদ্ধি। তাই নাগরিক হিসাবে আমাদের উচিৎ শিশুর সু-স্বাস্থ্য শারীরিক বৃদ্ধির দিকে বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে তিনটি এবং তৃতীয় ও পক্ষম শ্রেণির জন্য ছয়টি করে বিষয়ে পাঠদান করা হয়ে থাকে। বিদ্যমান প্রতিটি বিষয়ে এক অধ্যায় সংযোজন করে বই নির্মাণ করা হয়েছে যে, বছরের শেষেও একটি শিশুর জন্য তা সম্পূর্ণ করা হয়েছে যে, বছরের শেষেও একটি শিশুর জন্য তা সম্পূর্ণ রূপে শেষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পড়াশুনার ফাঁকে শরীর চর্চা, খেলাধুলা, অভিনয়, নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তির মত মানসিক বিকাশে সহায়ক সহ শিক্ষা কার্যক্রম থেকে শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ এসবসহ শিক্ষা একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। তাই শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ শিশু বান্ধব কিনা তা বিশেষ ভাবে ভেবে দেখতে হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রখম শ্রেণি থেকে শুরু করে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশু শিক্ষার্থীরা ব্যাগ নিয়ে স্কুলে গমণ করে। প্রথম শ্রেণির শিশুর বই খাতাসহ মোট ব্যাগের ওজন প্রায় চার থেকে পাঁচ কেজি। যে শিশুটির বয়স মাত্র পাঁচ থেকে ছয় বছর। বইসহ ব্যাগে থাকে পানির বোতল এবং টিফিন বক্স। অনুরূপ দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বইসহ ব্যাগ ওজন করলে দেখা যায় প্রায় ছয় থেকে সাত কেজি। এই বাড়তি ওজনে একটি শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার সময় ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাবার অভ্যাস পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্য বই নির্মাণগত পরিবর্তন করা যেতে পারে। যাতে একটি শিশু ব্যাগ মুক্ত হয়ে স্কুলে যেতে পারে।
পদ্ধতি হল ঃ

১) সকল বিষয়ে বারটি অধ্যায় থাকবে। কোন কোন বিষয়ে অধ্যায় কমও থাকতে পারে। প্রথমে বাংলা, তারপরে ইংরেজী এবং অন্যান্য প্রতিটি বিষয়ের শুধুমাত্র প্রথম তিন থেকে চারটি অধ্যায় সংযোজিত করে একটি বই নির্মাণ করা। অর্ধাৎ একটি শিশু প্রথম চার মাসে যে পাঠ গ্রহণ করবে শুধু সেই প্রথমে সংযোজিত প্রতিটি বিষয়ের চারটি করে অধ্যায় সম্বলিত একটি বই নিয়ে স্কুলে যাবে। এভাবে প্রথম চার মাসের জন্য একটি বই নির্মাণ করা। ফলে বছরের মাঝে এবং শেষে যা অপঠিতব্য সেই বিষয় সম্বলিত বাড়তি বইয়ের ওজন একটি শিশুকে বহন করবে হবে না।

২) বইটি এমন ভাবে তৈরী করতে হবে যাতে শিক্ষার্থী পড়ে আনন্দ পায়। একের ভিতর অনেক বিষয়। বই মাত্র একটি। একটি মাত্র বই পড়ে শিশু শিক্ষার্থী প্রথম চার মাসে অবশ্যই আনন্দের সাথে পাঠ গ্রহণ করতে পারবে।
৩) বই এর ধরণ অনুযায়ী চার মাস পর পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। যা বর্তমানে চালু আছে।
৪) শিক্ষার্থী এমন ভাবে স্কুলে যাবে যেন তার কাঁধে কোন ব্যাগ না থাকে। ফলে একটি বই শিশুর শ্রেণির সব বিষয়ের প্রয়োজন মেটাতে পারবে।

৫) উক্ত একটি পাঠ্য বই নির্মাণ হবে চার মাসে। পরবর্তী চার মাসে একটি বই। শেষ চার মাসেও একটি বই পাঠ্য হলে কোন শিশুকেই ব্যাগ বহন করতে হবে না। বই এর ধরণ অনুযায়ী খাতার পরিমাণও কমানো যাবে। শ্রেণির পড়া শ্রেণি কক্ষেই শেষ করা সম্ভব হবে। নামে মাত্র কোচিং এ প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ হবে।

প্রশ্ন হলো তাহলে পানির বোতল ও টিফিন বক্স কিভাবে নেবে ? একজন শিক্ষার্থীকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যিনি সাথে যাবেন তাকে তা বহন করবে হবে। না হয় স্কুলের ক্যান্টিনে বিশুদ্ধ পানির ও নাস্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

আমরা সে দিনের অপেক্ষায় আছি যেদিন প্রতিটি শিশুর জন্য থাকবে একটি করে পিসি ট্যাব। তদব শিশুর হাতে বই নিয়ে স্কুলে যাওয়ার চর্চা হলে মননশীলতা নিয়ে বেড়ে ওঠার সহায়ক হবে।

প্রাথমিক শিক্ষাকে শিশু বান্ধব করার দায়িত্ব আমার আপনার সকলের।

( “এই লেখাটি লেখকের নিজস্ব মতামত” এর জন্য সম্পাদক দায়ী নহে।)

বিশ্বজিৎ কর্মকার
সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার
মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019