ববি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ ॥ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

জয়যাত্রা ডট কম : 10/04/2019

বরিশাল প্রতিনিধি ॥ উপাচার্যের পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি লিখিত আকারে পাওয়ার দাবিতে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ভিসির পদত্যাগের কারণে গত কয়েকদিন থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধের কারণে চরম দুর্ভোগে পরতে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের নীচতলায় প্রধান ফটক আটকে অবস্থান করে। পরে বেলা ১১ টায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে উপাচার্যর পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভ শুরু করে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্যের পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি লিখিত আকারে না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালুর ঘোষনার চারদিন পরও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখান করে আন্দোলন কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধের কারনে বরিশাল থেকে পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা জেলার সাথে সড়কপথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সড়কের উভয়প্রান্তে শত শত যানবাহন আটকা পরে দীর্ঘ জটের সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পরতে হয়েছে।

এ রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী একাধিক যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ যাবত তিনবার মহাসড়ক অবরোধ করায় প্রতিবারই তাদের চরম দুর্ভোগে পরতে হয়েছে। মহাসড়ক অবরোধ না করার জন্য প্রশাসনের উচ্চমহল থেকে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়নি। তাই তারা (যাত্রীরা) শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধের ফলে ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই পেতে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে বিষয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপাচার্য ড. এসএম ইমামুল হক মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, এটা আমাদের কারও হাতে নেই। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে পদত্যাগ অথবা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার ছুটিতে যাওয়ার মতো কোন কারন নেই। আর উপাচার্যকে কেউ ছুটিতে পাঠাতে পারেন না। ছুটি নিতে হলে আমি নিজে ছুটি চাইবো, সেটি প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ছুটি আসবে। আর একটি হতে পারে রাষ্ট্রপতি আমাকে ডেকে বলবেন, তুমি ছুটি যাও। এছাড়া কারও কিছু করার এখতিয়ার নেই।

মেয়াদকাল বাড়বে কিনা এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, এটা আমি বলতে পারবো না, এটা প্রধানমন্ত্রীর বিষয়টি। আর মেয়াদকাল পর্যন্ত না থাকারও কোন সুযোগ নেই। কারোর হুমকিতে যদি আমাকে যদি রিজাইন করতে হয়, তাহলে বিষয়টি কি দাঁড়ায়। আমি এমন কিছু করিনি যে আমাকে হুমকির মুখে রিজাইন করতে হবে। ২৬ মার্চে আমার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। তার পরেও আমি যা বলেছি তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় প্রতিবাদ করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এসএম ইমামুল হক শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেয়। এর প্রতিবাদে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে জোরদার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের দু’দিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষনা ও শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হল না ছাড়ার ঘোষনা দিয়ে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা চলছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019