ববি’তে পহেলা বৈশাখে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী কর্মসূচির ঘোষণা

জয়যাত্রা ডট কম : 13/04/2019

মনির হোসেন, বরিশাল ॥ ভিসির পদত্যাগ নয়তো পূর্ণ মেয়াদের ছুটির বিষয়ে লিখিত প্রাপ্তির দাবিতে অনড় থাকা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা শনিবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবাদী সংগীত পরিবেশ করেছেন।

অপরদিকে আজ ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে মহাসড়ক অবরোধসহ বড় ধরনের কোন কর্মসূচি ঘোষণা করেননি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা স্বাভাবিক কর্মসূচির পাশাপাশি আজ রবিবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করেছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম জানান, পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। আর সে কথা চিন্তা করেই আমরা বৈশাখ পালন পর্যন্ত নতুন কোনো কর্মসূচি দিতে চাচ্ছিনা। আমরা নিজেরাও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৈশাখ পালনের প্রস্তুতি নিয়েছি। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের সব শিক্ষার্থীদের দাবি (ভিসির পদত্যাগ) যেন নতুন বছরের প্রথমদিনেই ঘোষণা করা হয়। তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখে সকল শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের সকল শিক্ষার্থীদের দাবির কথা ফুটিয়ে তোলা হবে।

অপর শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন বলেন, ভিসির পদত্যাগ নয়তো পূর্ণ মেয়াদের ছুটির বিষয়ে লিখিত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের পথ থেকে আমরা পিছু হটবো না। আজ ১৯ দিন ধরে আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচি চলছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, গত ১১ এপ্রিল সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালনের সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পরেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে শেবাচিমে ভর্তি করা হয়েছে।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ভিসি বিরোধী আন্দোলন ॥ ববি’তে ‘ভিসি বিরোধী’ আন্দোলন চলছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে। এ দুই পক্ষই এখন ভিসি ড. এসএম ইমামুল হকের পদত্যাগের দাবী করছেন। শিক্ষক সমিতির নেতারা ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের নিচে বসে তাদের কর্মসূচী পালন করেছেন। শিক্ষার্থীরা টানা ১৯দিন ধরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। এরমধ্যে চারবার মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ভিসি ড. এসএম ইমামুল হক ১৫ দিন ছুটির জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদনপত্র প্রেরণ করলেও ওই আবেদনপত্রকে একটি আই ওয়াশ বলে দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল মাহামুদ রুমীকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করেছেন শিক্ষার্থীরা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা রয়েছে এবং তাদের আন্দোলনের সাথে আমরাও একাত্মতা প্রকাশ করেছি। তবে আমাদের আট দফা দাবী নিয়ে পৃথকভাবে অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছি। ভিসির কার্যক্রম শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে। এ থেকে আমরাও পরিত্রান চাই।

সূত্রমতে, ভিসি ইমামুল হক ঢাকায় অবস্থান করে বিভিন্নভাবে আন্দোলন বন্ধ করার তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচির সংবাদ যেন প্রকাশ না হয় সেজন্যও তদবির চলছে। এ তদবিরের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অনুসারি বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টানা ১৯দিনের অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপও নেই সংশ্লিষ্টদের। যেকারণে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাত্রা দিন দিন আরও কঠিনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে চারবার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও পুলিশের তেমন কোনো পদক্ষেপ ছিলোনা। এ ব্যাপারে মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ওসি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের জনদুর্ভোগের বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি।

উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আয়োজন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের না জানানোর কারণে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভিসি কটুক্তি করে “রাজাকারের বাচ্চা” বলায় আন্দোলন আরও বেগবান হয়। যা টানা ১৯দিন ধরে চলে আসছে। তবে এরমধ্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি, প্রশাসন ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের সাথে রুদ্ধদার বৈঠক করলেও সেই বৈঠক থেকে কোনো ফলাফল আসেনি।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019