• প্রচ্ছদ » জাতীয় » ১১ কোটি টাকার ইউরিয়া সার আত্মসাতের মামলায় বগুড়ায় ৩জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট


১১ কোটি টাকার ইউরিয়া সার আত্মসাতের মামলায় বগুড়ায় ৩জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

জয়যাত্রা ডট কম : 15/04/2019

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১১ কোটি ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪০১ টাকা মূল্যের ইউরিয়া সার আত্মসাতের মামলায় বগুড়ার সান্তাহার বাফার গুদামের সাবেক উপ-প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ও গুদাম ইনচার্জ মোঃ নবির উদ্দিন খানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান,
এই অনুমোদনের ফলে যে কোনো দিন সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হবে।

তিনি জানান, ২০১৭ সালে ২ অক্টোবর দুদকের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে আদমদীঘি (বগুড়া) থানা মামলা নং ০১ দায়ের করা হয়। পরে এই মামলাটি তদন্ত করেন দুদকের বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম ।

দুদকের তদন্তকালে দেখা যায়, পরিবহন ঠিকাদার আসামি মোঃ মশিউর রহমান খান এর প্রতিনিধি সান্তাহার বাফার গুদামে পরিবহনের নিমিত্তে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ১৫টি সরবরাহ চালানমূলে আমদানিকৃত মোট ৮৫০০ মে.টন ইউরিয়া সার গ্রহণ করেন।

গৃহীত সার তিনি সান্তাহার বাফার গুদামে পরিবহন করলে আসামি মোঃ নবির উদ্দিন খান, গুদাম ইনচার্জ, সান্তাহার ২০১৬ সালের ২ মার্চ থেকে ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিলের মধ্যে ১৫টি সরবরাহ চালান মূলে ৮৫০০ মে. টন সার গ্রহণপূর্বক সরবরাহ চালানে নিজ স্বাক্ষর করে উহার প্রাপ্তি স্বীকার করেন।

এসব সার প্রাপ্তির পর তিনি পরিবহন ঠিকাদার এর অনুকূলে নিজ স্বাক্ষরে ট্রাক চালান , সরবরাহ চালান, এমআরআর ও এমআরআর ইস্যুর প্রত্যয়ণপত্র (পাকা রশিদ) ইস্যু করেন। আসামি মোঃ নবির উদ্দিন খান পরিবহন ঠিকাদার মোঃ মশিউর রহমান খান কর্তৃক সরবরাহকৃত সমূদয় সার ট্রাক চালান, সরবরাহ চালান, এমআরআর ও এমআরআর ইস্যুর প্রত্যয়ণপত্র ইস্যুর প্রত্যয়ণপত্রে নিজেই স্বাক্ষর করে প্রাপ্তি স্বীকার করেছেন।

আসামি মোঃ নবীর উদ্দিন খান প্রাপ্ত সারের মধ্যে ৪৩৩৮.৯৫ মে. টন সার সান্তাহার বাফার গুদামে হিসাবভুক্ত করে অবশিষ্ট ৪১৬১.০৫ মে. টন সার গুদামের রেকর্ডপত্রের হিসাবভূক্ত না করেই সাবেক সহকারী হিসাব কর্মকর্তা, সান্তাহার মোঃ মাসুদুর রহমান এর স্বাক্ষর জাল করে পরিবহন ঠিকাদার মোঃ মশিউর রহমান খান এর অনূকুলে এম.আর.আর ক্রমিক নং ৩৫২৬৯ তারিখ: ১৩/৬/২০১৬খ্রি: মূলে ৩০০০ মে. টন এবং এম.আর.আর নং-৩৫২৭৫, তারিখ-২২/৬/২০১৬খ্রি: মুলে ১৫০০ মে. টন সারের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র প্রদান করেন।

এক্ষেত্রে পরিবহন ঠিকাদার মোঃ মশিউর রহমান খান কর্তৃক সরবরাহকৃত ৮৫০০ মে. টন সারের মধ্যে ৪১৬১.০৫ মে. টন সার গুদামের রেকর্ডপত্রের হিসাবভুক্ত না থাকায় পরিবহন ঠিকাদার মোঃ মশিউর রহমান খান পারস্পরিক যোগসাজশে উক্ত সার আত্মসাতে মোঃ নবীর উদ্দিন খানকে সহায়তা করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়।

আসামি (১) মোঃ নবির উদ্দিন খান (২) মোঃ মশিউর রহমান খান (৩) মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাজা, প্রোঃ মেসার্স রাজা এন্টারপ্রাইজ পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যক্তিস্বার্থে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জাল জালিয়াতি ও প্রতারণামূলকভাবে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে।
তারা গত ১৪/২/২০১৬ খ্রি: হতে ২২/৬/২০১৬ খ্রি: তারিখের মধ্যে পরিবহন ঠিকাদার কর্তৃক সরবরাহকৃত ৮৫০০ মে. টন সার প্রাপ্ত হয়ে সান্তাহার বাফার গুদামের মূল মজুদ বহিতে ৪৩৩৮.৯৫ মে. টন সার হিসাব ভুক্ত করে। আর অবশিষ্ট ৪১৬১.০৫ মে. টন সার সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রে হিসাবভুক্ত না করে উক্ত পরিমাণ সারের ভূতর্কি মূল্যসহ মোট ১১,০৩,৩৪,৪০১/-টাকা আত্মসাৎ করেন ।

এই অপরাধে দন্ড বিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/ ৪৭১/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সনের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আনইনের ৫(২) ধারায় চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুদক। # একে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019