• প্রচ্ছদ » আলোচিত » ‘১৬২৬৩’ নম্বরে ফোন করে বিনা ফিতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে ডাক্তারের পরামর্শ


‘১৬২৬৩’ নম্বরে ফোন করে বিনা ফিতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে ডাক্তারের পরামর্শ

জয়যাত্রা ডট কম : 15/05/2019


আবুল কাশেম:
রাজধানীতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নগরবাসীর ব্যাপক সচেতনতা এবং এসব রোগের জীবানুবাহী এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে হবে। কারণ এডিস মশা মানুষের জীবন নিয়ে টান দেয়। সরকারি ডাক্তারকে ‘১৬২৬৩’ নম্বরে ফোন করলে বিনা ফি তে পরামর্শ পাওয়া যাবে।

এডিস মশা আমাদের বাসা বাড়ি,অফিস আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহ্নত এসি,ফ্রিজ, ফুলের টপ, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্রে জমানো পানিতে ডিম পাড়ে। বলতে গেলে এডিস মশা সব সময় পরিস্কার ও স্বচ্ছ পাত্রে জমানো পানিতে ডিম পাড়ে। এই মশা একটি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বুধবার (১৫ মে) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কমিউনিটি সেন্টারে ‘ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বরের ভয়াবহতা এবং প্রতিরোধের বিষয়ে’ এক জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য পরিবেশন করা হয়।

ডিএনসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম ফকিরের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মমিনুর রহমান মামুন।

প্রদর্শনির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ ও এডিস বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. রাশিদুজ্জামান খান।

আরো বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমদাদুল হক, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা, উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান , কর কর্মকর্তা লিয়াকত আলী মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আজিজুন নেসা।

প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মমিনুর রহমান মামুন বলেন,ডিএনসিসির পক্ষ থেকে নগরীতে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে নগরবাসীর বাসা বাড়ির ভেতরে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা এবং পরিচ্ছন্নতার কাজটি সংশ্লিষ্ট নগরবাসীকেই করতে হবে। কারণ বাসা বাড়ির ভেতরে ডিএনসিসির লোকজন যেতে পারবে না। তাছাড়া ডিএনসিসির পর্যাপ্ত জনবল নেই।

প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, এডিস মশা নিয়ে আতঙ্কিত হবার কারণ নেই। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বাবদ ৩ শত টাকা লাগবে। এর বেশি কেউ নিলে ওই হাসপাতালের পরিচালক কিংবা সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ করতে পরামর্শ দিয়েছেন দিয়েছেন তিনি।

প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে একটু বেশি টাকা নিতে পারে। তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটা গাইড লাইন দেওয়া প্রয়োজন।

সেলিম ফকির বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নগরীর মসজিদের ইমামদেরকে জুমার খুতবার আগে এবং পরে ঘোষণা দিলে নগরবাসী বেশি সচেতন হবেন। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের প্রয়জিনীয় পরীক্ষা বাবদ ৩ শত টাকা হলে, বেসরকারি হাসপাতালে এক হাজার টাকার বেশি নেয়া উচিত হবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রাশিদুজ্জামান খান বলেন, ১০টি সরকারী হাসপতালে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য সরকার ওষুধ ও প্রয়োজনীয় উপকরন সরবরাহ করছেন।

তিনি বলেন, একবার কেউ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে দ্বিতীয় বার ওই ব্যক্তি আর চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হবেন না। কিন্তু ডেঙ্গুতে এক বার আক্রান্ত হলে পুনরায় আক্রান্ত হবার আশংকা থাকে। এমনকি দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রাশিদুজ্জামান খান বলেন, ১৯৬৪ সালে প্রথম বাংলাদেশের রাজশাহীতে ডেঙ্গু রোগের জীবানু বাহী এডিস মশা আসে। পরে ২০০০ সালে রাজধানী ঢাকায় ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ওই বছর ৯৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

তিনি বলেন, ২০০০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সরকারি রেকর্ড কেইস (রোগী) ১০ হাজার ১৪৮ টা। কিন্তু বাস্তবে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হবে এক লাখের বেশি।

তিনি বরেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১০ হাজার ম্যালেরিয়া রোগীর পেছনে ১০ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়েছে। ওইসব রোগী এখন সুস্থ্ আছেন। # একে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019