• প্রচ্ছদ » অন্যরকম » ডিএনসিসির ডা. মাহমুদার বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতসহ নানা অভিযোগ


ডিএনসিসির ডা. মাহমুদার বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতসহ নানা অভিযোগ

জয়যাত্রা ডট কম : 16/07/2019


নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সাবেক প্রোগ্রাম অফিসার ডা. মাহমুদা আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের সুনিদিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগে দীর্ঘদিন যাবৎ দাপটের সাথে নানা বিল ভাউচারে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত করে যাচ্ছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সরকারি অডিট রির্পোটে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডা. মাহমুদা আলী অডিট আপত্তির ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেননি। তবে সরেজমিন তদন্ত হলে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘আরবান প্রাইমারী হেল্থ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলীভারী প্রকল্প কার্যক্রমের আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট হিসেবে ডিএনসিসি অন্তভুক্ত রয়েছে’ । আর এই প্রকল্পের কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য ডিএনসিসির একজন সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব ও প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুল হাকিম মজুমদার- এনডিসির স্বাক্ষরিত ২০১৮ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠানো এক চিঠিতে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়, এই প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে ডিএনসিসির সহকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা আলী ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরমধ্যে শুধুমাত্র ২০১৬- ২০১৭ অর্থ বছরের ‘ (অডিটে) নিরীক্ষা প্রতিবেদনে পিআইইউ’ উল্লেখ করা হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) বিপরীতে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫৪ টাকার আপত্তি রয়েছে।

অডিট প্রতিবেদন পার্ট-এ প্যারা-৭ অনুযায়ী অনিয়মিতভাবে ব্যয়িত অর্থের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে। আর এ প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে ১ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ডিএনসিসিকে পত্র দেওয়া হয়।

প্রকল্প পরিচালকের ওই চিঠিতে বলা, বিশেষ কারণ ছাড়া সরকারি চাকরির বিধিমালায় একজন কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে ৩ বছর থাকার কথা। কিন্তু ডা. মাহমুদা আলী টানা ৫ বছর যাবৎ এই প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে কর্মরত।

ডিএনসিসির সুনাম অক্ষুন্ন রাখার লক্ষ্যে বর্তমান এই প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. মাহমুদা আলীর পরিবর্তে অন্য একজন দক্ষ সহকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রোগ্রাম অফিসার পদে নিয়োগের অনুরোধ জানানো হয়।

কিন্তু মন্ত্রণালয়ের এই চিঠির আলোকে ডা. মাহমুদার বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। এখনো ২ লাখ,৮৯ হাজার ৬৫৪ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়নি। তকে গত জুন মাসে ওই প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসারের পদ থেকে ডা. মাহমুদ আলীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ডা. মাহমুদা আলীর বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ তিনি ডিএনসিসির মিরপুর অঞ্চল ২ এর স্বাস্থ্য বিভাগটি দুর্নীতির আখড়া পরিনত করেছেন । তার নিয়ন্ত্রীত দালালদের কতৃত্ব জন্ম নিবন্ধন শাখাটি পরিচালিত হচ্ছে।

সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি শিশুদের জন্য ২৫ টাকা এবং বড়দের জন্য ৫০ টাকা। দালালরা একটা জন্ম নিবন্ধন করলে জনগণের কাছ থেকে ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা করে নেয়।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ডিএনসিসির সাধারণ কর্মচারী জানান, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে ২০০৬ সালে সহকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পদে যোগদানের পর থেকে চাকরির সুবাদে বর্তমানে কয়েক শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

তার বিরুদ্ধে জম্ম মৃত্যু- নিবন্ধন সনদে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগ চাকরির শুরু থেকেই রয়েছে। তিনি অফিসে হাজিরা দিয়েই সার্বক্ষনিক ডিএনসিসির নগরভবনে স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে নানা তদবিরে থাকেন ব্যস্ত। ফলে অফিসের ওয়াজেদ এবং অন্যান্য স্টাফদের মাধ্যমে সব নথিপত্র বাসায় নিয়ে যান।

ডিএনসিসির নামে ইউনেসেফের দেওয়া বরাদ্দ কৃত প্রকল্পের অর্থও লোপাট হচ্ছে। এসব বিষয়ে মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা , সচিব এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। কারণ ডা. মাহমুদা আলীকে কোনো প্রকল্পের দায়িত্বে রেখে তদন্ত করলে ওই তদন্ত নিরপেক্ষ হবে না বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ কর্মচারীরা।

এ ব্যাপারে ডা. মাহমুদা আলী বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত এসব অভিযোগ সত্য নয়। একটি মহল তার মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্য এসব অভিযোগ আনছেন।

তিনি ‘আরবান প্রাইমারী হেল্থ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলীভারী প্রকল্পের ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫৪ টাকা আত্মসাৎ ও সরকারি অডিট আপত্তি প্রসঙ্গে বলেন, এই অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

তবে সরকারের ফান্ডে টাকা জমা দিতে হয়নি। কিনা-কাটার বিল ভাউচার মিলিয়ে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

ডা. মাহমুদা আলী বলেন, ‘আরবান প্রাইমারী হেল্থ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলীভারী প্রকল্পের প্রোগাম অফিসারের দায়িত্ব থেকে তাকে জুন মাসে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। #




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019