• প্রচ্ছদ » বিভাগীয় সংবাদ » আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১১৪টি গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, শহরে ঢুকছে পানি


আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১১৪টি গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, শহরে ঢুকছে পানি

জয়যাত্রা ডট কম : 16/07/2019

মোঃ নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ জেলার কয়েক জায়গায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। গাইবান্ধা শহরের আলাই নদীর পানি কুঠিপাড়া ও পূর্বপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ঢুকে পড়ায় জেলা শহরের পুরাতন বাজার, সবুজপাড়া ও ডেভিড কোম্পানীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে করে ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। ভেসে গেছে পুকুর ও মৎস্য প্রকল্পের মাছ।

বন্যার পানি শহরে প্রবেশ করায় উদ্বেগে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও দিন হাজিরারভিত্তিতে কাজ করা মানুষজন। অতিরিক্ত পানির ¯্রােতে তলিয়ে গেছে গাইবান্ধা-বালাসীঘাট সড়কটিও। জেলায় বন্যায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে অনেক এলাকায়। ঘরবাড়ী ডুবে যাওয়ায় মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন সড়কে। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে বন্যাকবলিতরা। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ৩২টি ইউনিয়নের ২২৪টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই লাখ ৮৭ হাজার ৯৬৬ জন মানুষ। কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯২ কিলোমিটার ও বাঁধ চার কিলোমিটার। বন্যার পানিতে কালভার্ট ধসে গেছে ছয়টি, ফসল নিমজ্জিত রয়েছে এক হাজার ২৪৬ হেক্টর ও ৩১৪টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯ হাজার ২৩০টি, আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১১৪টি। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ২০ হাজার ৭২৬ জন। প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করা রয়েছে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় ১৩০টি।

এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ অন্যান্য বাঁধের অনেকগুলো এলাকা। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি। ৪০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ও ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হচ্ছে জেলার বন্যাকবলিত মানুষদের মধ্যে।

গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র এ্যাড. শাহ্ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন গতকাল রাত ১২টায় বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে শহরে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছেন। এ ব্যাপারে মেয়র বলেন পৌর এলাকার বন্যা কবলিত মানুষগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাদেও মাঝে দুবেলা রান্না করা খাবার এবং একবেলা শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন বন্যার সর্বশেষ সংবাদ মনিটরিং করার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম নাম্বার ০১৭৯৭-৬৩৭৭৭৭।
বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কন্ট্রোল রুমে জানানোর জন্য পৌরবাসিকে অনুরোধ করা হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019