বগুড়ার ঘোড়াধাপে কুকুরদের প্রতি অনাথ বালকের অগাধ ভালবাসা!!

জয়যাত্রা ডট কম : 21/07/2019

বগুড়া প্রতিনিধি : মা !! সে এক মধুর ডাক। মা হলো পৃথিবীর মধ্য অমূল্য ধন। যার মা আছে সে বড়ই ভাগ্যবান আর যার মা নেই সে দূর্ভাগাদের দলে। অনেকেই বলে থাকে, যার মা বেঁচে আছে তার দুনিয়াতে সব আছে, আর যা মা নেই তার কিছুই নেই। বলছি কপাল পোড়া এক নাবালক বালকের কথা! এইরকম এক হতভাগার তালিকায় জন্মের শুরুতেই যার নাম লেখা হয়েছে তার নাম হলো বাহাদুর বাদশা।

বয়স খুবজোড় ১১ বছর। নাম বাহাদুর বাদশা হলেও বাস্তবতার সাথে নেই নূন্যতম কোন মিল। এই বিশাল দুনিয়ায় সে একা। তার রাজত্বে সে রাজা। আর রাজকার্য পরিচালনার জন্য সে নিয়োগ দিয়ে রেখেছে মন্ত্রী, সেনাপতি আর সৈন্য। যারা বিনা বেতনে ও বিনা স্বার্থে বাহাদুর বাদশার রাজত্বের অংশিদার। এই বাহিনী হলো একটি কুকুরের দল। বগুড়া সদরের ঘোড়াধাপ বন্দর এলাকায় ৮/১০ টি কুকুর নিয়ে বাহাদুর বাদশার রাজত্ব। বাহাদুর বাদশা কুকুরদের কাছে একটি বিশস্ত মুখ। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদরের নুনগোলা ইউনিয়নের শশীবদনী পূর্বপাড়া এলাকার ফারুক পাগলা ও মালেকা পাগলীর ঘরে জন্ম বাহাদুরের। ফারুক ও মালেকা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় শিশুটির লালন পালন নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা।

পরে স্থানীয় কিছু মহিলার তত্বাবধানে লালন পালন হতে থাকে বাহাদুর। লোক মুখে শোনা যায়, সে কুকুরের দুগ্ধ পান করে তার শিশুকাল কাটিয়েছে। সেই জন্যই কুকুরদের সাথে তার এত নিবিড় সম্পর্ক। ক্ষুধা লাগলে সে মানুষজনের কাছে হাত পেতে টাকা চায়, অনেকে দয়া করে তাকে টাকা কিংবা খাবারও কিনে দেয়। সেই টাকা দিয়ে সে খাবার কিনে নিজে খায় আবার প্রাণীগুলোকেও খাওয়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা সৈকত আলম বলেন, বাহাদুর বাদশা এলাকার একটি পরিচিত মুখ। সে কুকুরদের সাথে খেলা করে, ঘুড়ে বেড়ায় এবং তাদের সাথেই নিভর্য়ে ঘুমিয়ে রাত কাটায়।

নুনগোলা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বিজয় এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, প্রায় ২ বছর আগে বাহাদুর বাদশার মা মালেকা পাগলী (৫০) অসুস্থ্যতার কারণে মারা যায়। সহায় সম্বলহীন শিশু বাহাদুরের কথা বিবেচনা করে ইউপি চেয়ারম্যান আলীম উদ্দীন এর নির্দেশে শশীবদনী এলাকার মতিয়ার রহমান মতির পরিচালিত মা হালিমা হাফেজিয়া মাদরাসায় আমরা বাহাদুর কে ভর্তি করিয়ে দেই। কিন্তু শিশুকাল থেকেই খাপছাড়া পরিবেশে বেড়ে ওঠা বাহাদুর বদ্ধ পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। বেশ কিছুদিন থাকার পরে সে চলে আসে মাদরাসা থেকে। মা হারা এই এতিম ছেলেটির সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আমরা সকলেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।

প্রানীদের কেউ আঘাত পেলে যেমন বাহাদুরের কষ্টের অন্ত নেই ঠিক তেমনই তাদের ভালো থাকা দেখলে তার সুখেরও সীমা থাকেনা। এভাবেই কুকুরদের সাথে হেসে খেলে আর কুনসুটি করে দিন চলে যাচ্ছে অনাথ বাহাদুরের। তবে এই নাবালক শিশুটির বেড়ে ওঠার জন্য সঠিক পরিচর্যা, পরিবেশ ও সুচিকিৎসা দরকার বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসী। প্রবাদ আছে, “জীবে দয়া করে যেজন, সেজন সেবিছে ঈশ্বর” এরই জলন্ত উদাহরণ মানসিক ভারসাম্যহীন দম্পতির নিস্পাপ বালক বাহাদুর বাদশা।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019