রাতে মশা দিনে মাছি! ভোগান্তিতে নীলফামারী শহরবাসী

জয়যাত্রা ডট কম : 27/07/2019

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতার দাবিতে পক্ষকাল ব্যাপী পৌর সভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনর অবস্থানের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শহরবাসী। টানা কর্মবিরতির ফলে নীলফামারী জেলার ৪টি পৌরসভা এলাকার নাগরিকরা সবধরনের নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও পানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে থাকায় ভারী বর্ষনের ফলে ড্রেনের ময়লা পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে শহরের ওলিগলি অনেক এলাকা।

ওদিকে পৌর সভার সরবরাহকৃত পানির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলি পড়েছেন বিপাকে। অপরদিকে শহরের ড্রেনগুলি পরিস্কার না হওয়ায় বর্ষার পানি আর ড্রেনের ময়লা আবর্জনা আর মলমূত্রে একাকার অবস্থা শহরের বেশিরভাগ এলাকা। শুধু তাই নয় ময়লা আবর্জনার স্তুপ আর ডাস্টবিনগুলো ভর্তি হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশপাশ। এদিকে শহরের ড্রেনগুলিতে বাসা বেধেঁছে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা-মাছি। এ অবস্থায় মশাবাহিত নানান রোগে আক্তান্ত হচ্ছে শহরবাসী। এমনিতেই চলতি বছর জ্বর-সর্দ্দি-কাশি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশী। ওদিকে রাতে শহরে পথ চলা দায় হয়ে পড়েছে। সমস্ত সড়কবাতি বন্ধ থাকায় সন্ধ্যা হলেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢাকা পরা সড়কে ড্রেনের পানি, ময়লা আবর্জনা আর ভাসমান কুকুড়ের উৎপাতে পথচলা দায় হয়ে পড়েছে শহরবাসীর। কিন্তু এ সমস্যা থেকে উত্তরণে কারোই যেন কিছু করার নেই।

পৌরসভা কর্মকর্তা কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক উজ¦ল কাঞ্জিলাল জানান, রাস্তায় কুকুর মরে থাকলে কুকুরটি কেউ সরায় না, আমাদের পৌরসভার কর্মচারীদের সেটি অপসারণ করতে হয়। সড়ক, ডাস্টবিন, নর্দমা আমাদেরই পরিস্কার করতে হয় কিন্তু আমরা জীবন যাপন করি অত্যন্ত ঝুকিঁ নিয়ে। মাস গেলে ঠিকমত বেতন ভাতা পাই না। মাসের পর মাস বকেয়া। পরিবার পরিজন নিয়ে কি চলা যায়। সরকারী কোষাগার থেকে বেতন ভাতা, পেনশন প্রদানের দাবী বাস্তবায়ন না হলে ঢাকার রাজপথেই থাকবো।

নীলফামারী জেলা পৌরসভা কর্মকর্তা কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, নাগরিকদের কি না সেবা দেই আমরা। জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশন, ট্রেড লাইসেন্স, জমির পরিমাপ, সড়ক বাতিসহ অন্তত ৩০টি সেবা দেয় পৌরসভা। সরকারী ভাবে নিয়োগ, বদলী সবই হয় কিন্তু বেতন ভাতার বেলায় সমস্যা। বলা যায় অভুক্ত অবস্থায় জীবন যাপন করতে হয় আমাদের। পৌরসভার সে রকম আয় নেই যে সবাইকে বেতন দিতে পারবে। চাকরী শেষ হলে বছরের পর বছর ঘুরতে হয় পেনশনের টাকার জন্য।

এজন্য আমরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ভাতা প্রদানের দাবীতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছি আমরা কিন্তু সরকারের সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। রাজপথে নেমেছি যদি দাবী না মানা হয় তাহলে রাজপথেই থাকবো প্রয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেই ঈদের নামাজ আদায় করবো।

নীলফামারী পৌরসভা ছাড়াও জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা এবং সৈয়দপুর পৌরসভারও একই অবস্থা। গেল ১৪জুলাই থেকে রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দাবী আদায়ে অনশন কর্মসুচী পালন করছেন সারাদেশের পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীরা। সেখানে অংশ নিয়েছেন জেলার পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীরাও।
দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে জলঢাকা পৌরসভার মেয়র ফাহমিদ ফয়সল কমেট বলেন, শহরের সব নাগরিকগণ যে সমস্যায় পড়েছেন আমিও সেটিতে। আমার বাড়ির সামনের সড়কে ময়লা আবর্জনা সরানোর মত লোক নেই।

নর্দমা ভর্তি, বর্ষায় যেন বিদিকিচ্ছি অবস্থা। তারপরও আমি তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি এমনকি ঢাকায়ও দেখা করেছি।
বাংলাদেশ মিউনিসিপালিটি এ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের আন্দোলন যৌক্তিক মন্তব্য করে বলেন, একটি পৌরসভার পক্ষে নির্বিঘেœ বেতন ভাতা পরিশোধ করা অসম্ভব কর্মচারীদের কারণ এত আয় নেই পৌরসভার।

নাগরিক সেবার জন্য স্থানীয় সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌরসভা যত কাজ করে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান এতটা করে না অথচ এই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্ত কর্মচারীরা অবেহিলত বঞ্চিত। আমরা সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছি যাতে করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ভাতা ও পেনশন প্রদান করা হলে তারা স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করতে পারে। জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশা করি।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019