• প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে রংপুরের আইটিসি উদ্যোক্তা মুনের সফলতার গল্প


ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে রংপুরের আইটিসি উদ্যোক্তা মুনের সফলতার গল্প

জয়যাত্রা ডট কম : 29/07/2019

রবিউল ইসলাম দুখু, রংপুর: বাল্যকাল থেকেই দারিদ্রোর সঙ্গে লড়াই করেন। কিন্ত কখনও আতœবিশ্বাস হারাননি । এক পর্যায়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অন-লাইন ও অফ-লাইন সেবা দিয়ে শুরু করেন উপার্জন । আতœবিশ্বাস আর পরিশ্রই যে একজন মানুষকে সাফল্য এনে দিতে পারে তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রংপুরের সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের আকতারুল ইসলামের ছেলে আরিফুজ্জামান মুন (৩০) । তিনিই একজন সফল আইটিসি উদ্যোক্তা।

মুন জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় তিনি। চরম দারিদ্রোর মধ্যেও পড়াশোনা চালান। এসএসির পর ২০০৬ সালে এইচএসসি পাস করেন। সিদ্ধান্ত নেন আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার। একই সালে কম্পিউটারের ওপর মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, ফটোসপসহ কয়েকটি প্রোগ্রামিং সফটওয়্যার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর বাড়ির পাশে বাজারের একটি ডিজিটাল ফটো স্টুডিওতে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে যেতে থাকেন। আর এটুআই কর্মসূচির আওতায় কম্পিউটারের ওপর আইসিটি, ইন্টারনেট ও ডিজিটালাইজড বিষয়ে কোর্স করেন।

তিনি বলেন, ২০১০ সালে অত্র ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে আবেদন করেন। সেখানে ডেক্সটপ ও চারটি ল্যাপটপ কম্পিউটার, ৫টি লেজার ও দু’টি কালার প্রিন্টার্স, দু’টি ডিজিটাল ক্যামেরা, একটি ভিডিও ক্যামেরা, অপটিক্যাল ফাইবার কানেকশন, প্রজেক্টর, পাওয়ার জেনারেটর, আইপিএস, সৌরবিদ্যুৎ, স্ক্যানার ও অন্যান্য উপকরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ৩৫ রকম সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত মোট ২৩০ জন শিক্ষিত যুবক ও যুব মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তারা বর্তমানে আয়মূলক কার্যক্রমে জড়িত রয়েছেন। এসব সেবা প্রদানে উপকরণ ক্রয়ে এটুআই কর্মসূচি শতকরা ৫০ ভাগ ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ৫০ ভাগ অর্থায়ন করেছেন। বর্তমানে এ ইউনিয়নের মাসিক পরিচালনা ব্যয় ২০ হাজার টাকা বাদ দিয়েও মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ৪০ -৫০ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, এখন তিনি আউট সোর্সিং ও অন্যান্য ডিজিটাল কার্যক্রমের ওপর মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে কাজ করে মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আয় করছেন। এই সময়ের মধ্যেই ২০১২ সালে তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে রসায়নে সম্মান ডিগ্রি লাভ করেন।

কেশবপুর গ্রামের মনোয়ারা বেগম বলেন, তার হারানো জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এ সেন্টার থেকে খুব সহজেই সংগ্রহ করতে পারছেন।
পালিচড়া গ্রামের আফরোজা বেগম জানান, তিনি সাত দিনের মধ্যেই এখানকার সেবার মাধ্যমে তার জমির পর্চা পেয়েছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা বলেন, মুনের পরিশ্রমে আজ সদ্যপুষ্করিনীর সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিমা জামান ববি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরিফুজ্জামান মুন বিশেষ ভূমিকা রাখছেন।
উল্লেখ্য-জেলায় মোট ৭৬টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার রয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019