ঝিনাইদহে তিন কিলোমিটার রাস্তার অভাবে জনবিচ্ছিন্ন একটি গ্রাম

জয়যাত্রা ডট কম : 14/08/2019

রবিউল ইসলাম ,ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকা না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছে ঝিনাইদহ সদরের ঘোড়শাল গ্রামের অধিবাসিরা। কাচা রাস্তার কারণে বর্ষা মৌসমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় অন্তসত্তা মা ও স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ ঐ অঞ্চলের জনসাধারণের। ২৬, ৬২ এবং হাল রেকর্ডের ২৪ ফুট প্রশস্ত এই রাস্তাটি হ্যারিংবোন বা পাকাকরণ তো দুরের কথা মাটি দ্বারা প্রয়োজনীয় সংস্কার করার অভাবে বর্ষা মৌসুমে চলাচলের একেবারেই অযোগ্য থাকে প্রত্যেক বছরের ৩/৪ মাস। শুষ্ক মৌসুমেও রাস্তাটির কাদা শুকিয়ে থাকার কারনে চলাচল সহজতর হয়না তাই এই রাস্তাটির কারনে অভিসপ্ত জীবন যাপন করতে হচ্ছে এই জনপদের বাসিন্দাদেরকে।

মাত্র ৩ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের অভাবে বর্ষার মৌসুমে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে যায় ঝিনাইদহ সদরের ১৪নং ঘোড়শাল ইউনিয়নের খোদ ঘোড়শাল গ্রামের বাসিন্দাসহ প্রতিবেশি গ্রামগুলোর জনগণের। দীর্ঘদিন কোন সংস্কার না করায় এই কাচা রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমে একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। রাস্তার মাটি এঁটেল হওয়ায় এবং ট্রাক্টর ও পাওয়ার ট্রিলার চলাচল করায় পায়ে হেঁটে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে এই রাস্তা দিয়ে। বর্তমানে এই রাস্তায় স্থান ভেদে তিন থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত কাঁদা আছে। একটি দাখিল মাদ্রাসা ব্যতিত এই গ্রামে কোন মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই সেটাও কাচা রাস্তা সংলগ্ন। শুধু কাঁদার কারণে ইচ্ছা থাকলেও পার্শবর্তী স্কুলে বা কলেজে যেতে পারছে না এই গ্রামের ছাত্র ছাত্রীরা তাই বাধ্য হয়েই গ্রামের মাদ্রাসাতেই ভর্তি হতে হয়। এই মাদ্রাসার সামনেও হাঁটু সমান কাঁদা থাকার কারণে, কাঁদা মাড়িয়ে জুতা হাতে করে মাদ্রাসায় আসতে হয় বর্ষার মৌসুমে ছাত্রীরা একেবারেই ক্লাসে আসে না বলে জানায় মাদ্রাসার সহ সুপার। এই গ্রাম থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী তিন কিলোমিটার দুরে পাকা রাস্তা সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহি বানিয়াবহু মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সেখানে এই গ্রামের দুই একজন ছাত্র ভর্তি হয় বর্ষার মৌসুমে তাদের ক্লাস করা সম্ভব হয়না। ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানায় রাস্তায় অতিরিক্ত কাঁদার কারণে ছাত্র ছাত্রীরা আসতে পারে না দুই একজন যা আসে তারা লুঙ্গি পরে আসে তবে ছাত্রীরা একেবারেই আসতে পারে না।

বর্ষার মৌসুমে মাত্রাতিরিক্ত কাঁদার কারণে কোন ধরনের যানবাহনে এই রাস্তায় চলাচল সম্ভব নয়। তাই কোন আত্মীয় স্বজন এই গ্রামে আসতে চায় না। শুধু কাঁদার কারণে অনেকে এই গ্রামে ছেলেমেয়ে বিয়ে দিতে চায় না। গত মাসে মাগুরার আত্মীয়র বাড়িতে বাচ্চু মন্ডলের কন্যা খাদিজাকে দেখে বিয়ের প্রস্তাব দেয় মাগুরার এক প্রবাসী ছেলে। সেখান থেকেই ঠিক হয় বিয়ের দিন তারিখ। ২৬ জুলাই বাড়িতে চলে বিয়ের আয়োজন। মাগুরা থেকে বরসহ ৩০ জন বরযাত্রী আসে এই গ্রামে। বিয়ের গাড়ি এবং মটর সাইকেল গ্রাম থেকে তিন কিলোমিটার দুরে রেখে কাঁদা মাড়িয়ে মহিলা বরযাত্রীদের বিয়ের বাড়িতে আসা সম্ভব হয়না বলে বিয়ে ভেঙ্গে যায় খাদিজার ।

গভীর রাতে প্রসব বেদনা ওঠলে রাস্তায় কাঁদার কারণে যানবাহন না থাকায় কাধে করে কাঁদা পার করে নিয়ে যেতে অন্তসত্তা মা ও গর্ভের শিশুর মৃত্যু হয় এই গ্রামের আরেক বাসিন্দা আরব আলী মন্ডলের প্রথম স্ত্রীর। তার দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে সন্তান সম্ভভাবা। আরব আলী মন্ডলের অন্তসত্তা ২য় স্ত্রী বলে রাস্তায় তো অনেক কাঁদা চলাচল করা যায় না,আমার সব সময় ভয় হয় আমার আবার কি হয়।
একজন কৃষক জানায় এই রাস্তার উভয় পাশে “কুড়ির বিল” এবং “ভোতনের” বিল নামে দুইটি বহু ফসলী মাঠ রয়েছে কিন্তু আমরা পাট চাষ করতে পারি না এই রাস্তার কাঁদার কারণে। এই রাস্তা দিয়ে কোন অবস্থাতেই পাট বহন করা সম্ভব নয় তাই আমাদের গ্রামের কোন চাষী পাট চাষ করতে পারে না, পাটের মৌসুমে বিশাল এই মাঠ দুইটির শত শত বিঘা জমি পতিত পরে থাকে।
এই রাস্তা সংস্কার এবং পাকাকরণের ব্যাপারে ঘোড়শাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ নিলটন জানান,যে কোন কারণেই হোক রাস্তাটি পাকাঁ করা সম্ভব হয়নি, তবে আশা করি এই অর্থ বছরের মধ্যে মাননীয় এমপি’র সহযোগীতায় রাস্তাটি পাকা করা সম্ভব হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019