পুরাকাটা-বরগুনা-বড়ইতলা মহাসড়কের কাজ শেষ হবে কবে

জয়যাত্রা ডট কম : 19/08/2019

এম আর অভি, বরগুনা প্রতিনিধি : গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজে ধীরগতি। পুরাকাটা-বরগুনা-বড়ইতলা মহাসড়কাংশের কাজ শেষ হবে কবে এমনটি প্রশ্ন সাধারণ মানুষের ।

বরগুনা জেলা শহরের সাথে খুলনা-কুয়াকাটা-পটুয়াখালী-পায়রাবন্দর-বরিশাল ও ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম পটুয়াখালী-আমতলী-বরগুনা-কাকচিড়া সড়ক। এ
সড়কের কিছু অংশ পুরাকাটা-বরগুনা-বড়ইতলা মহাসড়কের কাজ ধীরগতিতে চলায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। একে তো বর্ষা মৌসুম তার ওপর আবার খোড়াখুড়ি যেন মরার ওপর ক্ষরার ঘাঁ। উড়ছে বালু পড়ছে পথচারী, ড্রাইভার ও যাত্রীদের চোখে। রাস্তার বেহাল দশা থাকায় মাঝে মধ্যে ছোট খাটো র্দূঘটনাও হচ্ছে। সব মিলিয়ে যেন এক অশান্তি-অস্বস্তির মহাসড়ক এটি। অপরদিকে এ রাস্তাটি এতই সরু যে দুটি বাস পাশাপাশি ক্রোস করতে পারে না। র্দূঘটনার হুমকিতে থাকে গাড়ী ও গাড়ীর যাত্রীরা । আর এসব বিষয় নিয়ে তেমন মাথা ব্যাথা নেই বরগুনা সড়ক বিভাগের। টেন্ডার হলেও কিছু অংশের কাজ শুরু হয়নি এখনো।

২০১৮সালের মাঝামাঝি সময় গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ৩টি প্যাকেজে পটুয়াখালী-আমতলী-বরগুনা-কাকচিড়া মহাসড়ক অংশের ২০.৬৫ কিঃমি রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৩৩কোটি ৭০লাখ ১হাজার ২শত ৮২ টাকা ও ৪১কোটি ৫লাখ ৯৪হাজার ৬৫৫টাকা ব্যয়ে পুরাকাটা-বরগুনা-বড়ইতলা মহাসড়ক প্রশস্ত করণ পৃথক পৃথক ২টি কাজ পায় নলসিটি ঝালকাটির মো,মাফুজ খান লিমিটেড এবং বরিশালের ওহিদ কনস্ট্রাকশন ও মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ এবং ওরিয়েন্ট ট্রেডিং এন্ড বির্ল্ডাস । এদের মধ্যে নলসিটি ঝালকাটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো,মাফুজ খান লিমিটেড ইটবাড়িয়া থেকে টাউন হল পর্যন্ত ৬.৮০০কিঃমিঃ ২০১৯ সালের ৪ জুলাই কার্যাদেশ পেলেও আজ অবদি কাজ শুরু করেতে পারেনি ।

এ কারণে সড়কটিতে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণকে সীমাহীন র্দূভোগ পেহাতে হচ্ছে। ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর কাজটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অপরদিকে বরিশালের ওহিদ কনস্ট্রাকশন ও মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ এবং ওরিয়েন্ট ট্রেডিং এন্ড বির্ল্ডাস বড়ইতলা ফেরী ঘাট থেকে শহরে ক্রোক সুলিজ ও পুরাকাটা থেকে ইটবাড়িয়া পর্যন্ত ৯.২০ কিলোমিটার রাস্তা ২০১৮সালের ৯আগষ্ট কাজ শুরু করে অদ্য পর্যন্ত মাত্র ৩০ র্পাসেন্ট কাজ করেছে। কাজটি সমাপ্তির কথা রয়েছে ২০২০ সালের ৮জানুয়ারি। তবে প্রকল্পে কার্যাদেশ শুরু থেকে এ পর্যন্ত কাজের তেমন কোন অগ্রগতি নেই। আছে শুধু জনগণের ভোগান্তি আর ভোগান্তি। এছাড়া কাকচিড়া গুদিঘাটা থেকে বাইনচটকি ফেরীঘাট পর্যন্ত ৪.৮০০কিলো মিটার রাস্তার অংশের কাজটি পায় ওরিয়েন্ট ট্রেডিং এন্ড বির্ল্ডাস ও এমএম বির্ল্ডাস এন্ড এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ ।

২০১৮ সালের ১৭ ফ্রেরুয়ারী কাজ শুরু হয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০১৯ সালের ১৮ অক্টোবর। সড়ক বিভাগ প্রকল্পটির ৭০ র্পাসেন্ট কাজ সমাপ্ত হয়েছে এমনটি দাবী করলেও এখানে কাজে ধীরগতি পরিলক্ষিত হয়।

পুরাকাটা ইটবাড়িয়া এলাকার বেল্লাল প্রতিবেদককে জানায়, টাউন হল থেকে পুরাকাটা পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশা । এ রাস্তার যে অংশে কাজ করছে তা উচু নিচু বর্ষায় পানি জমে থাকে। গাড়ী ও যাত্রীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি। তাছাড়া এই রাস্তার পাশের সাধারণ জনগনের ঘর জরিপ করা হয় । রাস্তার পাশে যাদের ঘর আছে তাদের ছবি তুলে ব্যাংকে হিসাব খোলানো হয়েছে।ঘর সড়ানোর ক্ষতি পুরুন দেয়া হবে। কিন্তু আজও কেউ কোন ক্ষতি পুরুন পায়নি।

চরকলোনী এলাকার ড্রাইভার সবুজ ও চরকগাছিয়া গ্রামের রনি চৌধুরী বলেন রাস্তাটির যে খারাপ অবস্থা তা নিজ চোখে না দেখলে বুজবেন না। গাড়ী চালাতে কষ্ট হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফলতি কারণে কোরবানির সময়ও এ রাস্তাটির খারাপ অবস্থা। খোয়া বালু দিয়ে রোলার না দেয়ায় পানি জমা হয়। ফলে গাড়ী নিয়ে আমাদের র্দূভোগে পরতে হয়।
বড়ইতলা এলাকার জুয়েল ও ফেরীঘাট এলাকার রুবেল বলেন, ফেরীঘাট থেকে গাড়ী নিয়ে বরগুনা আসতে খুবই কষ্ট হয়। রোলার না দিয়ে রাস্তায় খোয়ায় ফেলে রাখে। অনেক জায়গায় খোয়া দেয়া হয়েছে নিন্ম মানের । তারা আরও জানায় ,মাঝে মধ্যে রাস্তায় পানি জমা হয় ,রাস্তা ভেঙ্গে নদীতে নেমে গেছে। যাত্রীরা র্দূঘটনায় পড়ে। রাস্তার পাশে ঘর ছিল ,ঘর সরালে ক্ষতি পুরুন দেয়া হবে কথা থাকলেও ক্ষতি পুরন দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

তবে এ প্রকল্প রুট লেভেল থেকে দেখাবাল করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী (এস ও) মো. রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে এ প্রকল্পের বিষয় কিছুই বলতে রাজি হয়নি। উল্টো প্রকল্প ব্যয়ের তথ্য প্রতিবেদক কোথায় পেয়েছি জানতে চেয়েছেন। পাশাপাশি তথ্য পেতে আবেদনের পরামর্শ দেয়।

বড়ইতলা ফেরীঘাট এলাকার মৎস্যজীবি নেতা আবদুল খালেক জানান, রাস্তা বেহাল দশা থাকায় এখানে প্রতিনিয়ত র্দূঘটনা ঘটছে । ঠিকাদার কোম্পানীর গাফলতির কারণে আজ রাস্তার এ খারাপ অবস্থা । রাস্তা খারাপ থাকায় আমাদের এলাকার কুডি খাঁ নামে এক ব্যক্তি র্দূঘটনায় পতিত হয়ে আজ পঙ্গু।

উপক’লীয় বন-বিভাগ পটুয়াখালী-বরগুনা রেঞ্জের রেঞ্জার মো. মতিয়ার রহমান মুঠোফোনে বলেন, রাস্তার পাশের গাছ আমাদের। কি কারণে সড়ক বিভাগ আমাদের না জানিয়ে তরিগড়ি করে হঠাৎ রাস্তা টেন্ডার দিয়েছে আমরা জানিনা । গাছের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সময় না দিয়ে ব্যাকুদিয়ে গাছ উঠিয়ে ফেলে রেখেছে এটা অন্যায় । তবে আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রেখেছি।

বরগুনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজে ধীরগতির কথা স্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, দরপত্র প্রক্রিয়াতে দেড়ি হওয়ায় কাজের অগ্রগতি হয়নি। তবে রাস্তার দু পাশের ঘর থাক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতি পুরুন বা জরিপের ব্যাপারে তার কিছুই জানা নেই এমনটি তিনি জানান।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019