• প্রচ্ছদ » ফিচার » বরগুনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ’ ১৬৮ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত : নাগরিকদের প্রশ্ন মশা নিধনের পর্যাপ্ত ঔষধ ছিটাবে কে


বরগুনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ’ ১৬৮ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত : নাগরিকদের প্রশ্ন মশা নিধনের পর্যাপ্ত ঔষধ ছিটাবে কে

জয়যাত্রা ডট কম : 20/08/2019

এম আর অভি,বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনায় বেড়েই চলছে ডেঙ্গুর প্রকোপ ইতিমধ্যে ১৬৮জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। বরগুনা পৌর-নাগরিকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন মশা নিধনের পর্যাপ্ত ঔষধ ছিটাবে কে ।

পৌর শহরের কোন কোন এলাকায় এ পযন্ত পৌরসভা কর্তৃক প্রথম বারের মত মাত্র ১দিন মশা নিধনের ঔষধ প্রয়োগ করা হয়েছে । হঠাৎ করে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পরেও পর্যাপ্ত ঔষধ প্রয়োগ না করায় পৌর নাগরিকদের মনে চাপা ক্ষোভ ও আতংক বিরাজ করছে এবং মশা নিধনের পর্যাপ্ত ঔষধ ছিটাবে কে পৌর-নাগরিকদের মনে এমন প্রশ্ন ।
অপরদিকে বরগুনা সদরের গৌরিচন্না লাকুরতলা গ্রামের তাওহীদ নামের এক শিশু ,পরীরর খাল গ্রামের আমেনা ও বরগুনা রাইফেলস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চরকলোনী এলাকার মজিবুর রহমান মোল্লা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু আতংক বাড়ছে।

বরগুনা পৌরসভার কনজারভেন্সী ইনেসপেক্টর সঞ্জিব এর কাছে মুঠোফোনে গত ৫/৬ বছরে পৌরসভা কর্তৃক মশা নিধনের ঔষধ কেন ছিটানো হয়নি এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের ২টি স্প্রে মেশিন একটি জেল খানায় দেয়া হয় । অপরটি মেশিনটি নষ্ট থাকায় মশা নিধনের ঔষধ ছিটানো হয়নি এবং ঔষধও ছিল না ।বর্তমানে ঔষধ আসছে ছিটানো হচ্ছে।

এ দিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বরগুনা শহরজুড়ে প্রশাসনের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চললেও বাতির নিচে অন্ধকার । বরগুনা পৌরসভার অফিস কার্যালয়ের প্রায় ৩শ গজের মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক সংলগ্ন মুরগী বাজারের পুরাতন টলের মধ্যে মশার অভায়রণ্য ঝোপ-ঝাড় ,ডাবের খোসা পরিস্কার করবে কে। দেখার কেউ নেই।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে এ হাসপাতালে আছে চরম চিকিৎসক সংকট ৪২টি পদে মাত্র ৯জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে বরগুনা ১শ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। রোগীতে টইটম্ভুর হাসপাতালের ফ্লের পর্যন্ত । তিল পরিমান ঠাই নেই হাসপাতালে। বিদু্যুৎ না থাকলে জেনারেটরের তেমন ব্যাবহার দেখা যায়না। চিকিৎসক জানলা দিয়ে প্রকৃতির আলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুকে পরিক্ষা-নিরিক্ষা করেন।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ পর্যন্ত ১৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করেন। এদের মধ্যে পুরুষ ১০২ ও মহিলা ৫২ ও শিশু ১৪ জন। এর মধ্য থেকে অন্তত ২৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে। অধিকাংশই রোগীই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি ঢাকা থেকে ফিরেছেন ।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, গত ৮ জুন থেকে জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসতে শুরু করে। এদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাদের ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালে ভর্তি করেন । এ পর্যন্ত চিকিৎসকরা হাসপাতালে ১৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা । কিন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ২৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ছাড়াও প্রতিদিন গড়ে ৫/৬ জন ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে আসতেছে। বর্তমানে বরগুনা আন্ধার মানিক ফাতিমা(১০)লাকুরতলা গ্রামের মোহসেনা-(১২) ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বাওয়ালকর গ্রামের নুসরাত (২) সুস্থ্য হওয়ায় তাকে শনিবার দুপুরে ছাড় পত্র দিয়েছে হাসপাতালের চিকিৎসক।

তবে পৌর নাগরিক ডা. গোলাম কবির , প্রতিবেদকে জানান ,পৌরসভা থেকে যে ঔষধ দেয়া হচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয় , কোন রকম অর্ধেকে দিয়ে চলে গেছে আর আসেনি , তিনি আরও বলেন বর্তমান মেয়রের দু টার্মে এর পূর্বে কোনদিন মশার ঔষধ দিতে আমার চোখে পড়েনি।

শহরে চা বিক্রেতা জেসমিন বেগম জানান, বর্তমানে মশার ঔষধ দিয়েছে এর আগে কোন দিন মশার ঔষধ দিতে দেখি নাই।
অন্বেষার নির্বাহী পরিচালক শামসুদ্দিন খান শানু বলেন,পৌরসভা কর্তৃক যে ঔষধ ছিটানো হচ্ছে তা র্পযাপ্ত নয়। তাছাড়া পুরো ক্রাস প্রগ্রাম না করলে এ ঔষধ ছিটানো কোন কাজে আসবে না । এর পূর্বে পৌর মেয়রকে বারবার বললেও তিনি মশা নিধনের কোন ঔষধ ছিটায়নি। অপরদিকে তিনি আরও জানান,যে ঔষধ ছিটানো দেখানো হচ্ছে সেটা জনগণের আই-ওয়াস ছাড়া আর কিছুই নয় ,আমরা মনে করছি।

মশা নিধন বিষয় বরগুনা পৌর মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ১৬ দিন যাবত ঔষধ ছিটাচ্ছি। ঔষধ প্রেয়োগ কার্যক্রম চলমান আছে । আমরা জেলা প্রশাসনের সাথে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান করেছি।পবিত্র ঈদুল-আযাহা উপলক্ষ্যে পৌরসভার সকল কর্মকর্ত্ াকর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছি। এদ্বারা বিভিন্ন জলাশয় বাসা বাড়ির আঙ্গিনায় ও ড্রেনে মশা নিধনের ঔষধ প্রেয়োগ করছি আশা করি ডেঙ্গু জ্বর থেকে বরগুনার মানুষ মুক্তি পাবে।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাফ হোসেন বলেন, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৮৬ জনকে আমরা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করেছি। এদের মধ্যে প্রথমে ৮জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি ঢাকা থেকে বরগুনা ফেরায় পরে স্থানীয় ভাবে সংক্রমিত হচ্ছে। তাদেরকে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। যাদের অবস্থা গুরুত্বর দেখি তাদের বরিশাল হাসপাতালে রেফার করা হয়।তবে হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট আছে স্বীকার করে ডেঙ্গু জ্বরের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরাণঞ্জাম আছে বলে দাবী করেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019