• প্রচ্ছদ » জাতীয় » ‘লাইফ সাপোর্ট না থাকাই ডিএনসিসির ড্রেন ক্লিনার খোরশেদের অকাল মৃত্যু’


‘লাইফ সাপোর্ট না থাকাই ডিএনসিসির ড্রেন ক্লিনার খোরশেদের অকাল মৃত্যু’

জয়যাত্রা ডট কম : 31/08/2019


আবুল কাশেম:
লাইফ সাপোর্ট ছাড়াই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে পূর্ণ ড্রেনের আর্বজনা পরিস্কার করতে হচ্ছে ক্লিনারদেরকে। ডিএনসিসির পক্ষ থেকে লাইফ সাপোর্ট সংক্রান্ত কোনো ধরনের উপকরণ দেওয়া হয়না।

এমনকি একটি মোটা রশিও কোমড়ে বেধে গভীর ও বড় ড্রেনে নামার আগে ক্লিনারদের দেওয়া হয় না। শুধুমাত্র খালি গায়ে শর্ট প্যান্ট (আন্ডার ওয়েল) পড়েই বিষাক্ত গ্যাস ও আর্বজনাপূর্ণ বড় বড় ড্রেনে নামতে বাধ্য করা হয় ক্লিনারদেরকে। লাইফ সাপোর্ট না থাকাই ড্রেন ক্লিনার খোরশেদ আলমের অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে জানান সংশ্লিষ্ট ক্লিনাররা।

এমনি মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, রাজধানীর মিরপুরে রাইনখোলা এলাকায় ১৮ থেকে ২২ ফুট গভীর ড্রেনের আর্বজনা পরিস্কার করতে গিয়ে ওই ড্রেনের ভেতরেই মারা যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ক্লিনার খোরশেদ আলম (৩৫)।

জানা যায়, শনিবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি গেটেছে। নিহতের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার ট্যাগারচর গ্রামে । তার সংসারে স্ত্রী, ৮ বছরের একটি ছেলে, ১০ বছরের একটি মেয়ে এবং বৃদ্ধ পিতা- মাতা রয়েছেন। তার পিতার নাম নুর মোহাম্মদ।

ক্লিনার খোরশেদ আলমের অকাল মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি আজ অসহায় হয়ে পড়েছে। রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের পাশে ক্লিনারদের কলোনীতে (বস্তি) পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জীবন যাপন করতে খোরশেদ আলম। তার মৃত্যুতে ডিএনসিসির ক্লিনারদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

ডিএনসিসির সাধারণ ক্লিনাররা প্রচন্ড খোভের সাথে এই প্রতিবেদককে জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ড্রেন ক্লিনারদের কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। লাইফ সাপোর্ট বলতে কিছুই নেই। ডিএনসিসির পক্ষ থেকে লাইফ সাপোর্ট সংক্রান্ত উপকরণ দেওয়া হয়না। এমনকি একটি মোটা রশিও কোমড়ে বেধে বড় ড্রেনে নামার জন্য ক্লিনারদের দেওয়া হয় না। শুধুমাত্র খালি গায়ে শর্ট প্যান্ট (আন্ডার ওয়েল) পড়েই বিষাক্ত আর্বজনাপূর্ণ বড় বড় ড্রেনে নামতে হয় ক্লিনারদের।

এখানেই শেষ নয়, বড় বড় ড্রেনগুলো হচ্ছে ঢাকা ওয়াসার। এসব ড্রেন সিটি করপোরেশনের না। এরপরও ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তাদের সাথে গোপন সম্পর্কের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওয়াসার ড্রেনের আর্বজনা ডিএনসিসির ক্লিনারদের দিয়ে পরিস্কার করিয়ে থাকেন।

তারা আরো জানান, ডিএনসিসির ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রাইনখোলা এলাকায় ২৮ থেকে ২২ ফুট গভীর বিষাক্ত গ্যাস ও আর্বজনাপূর্ণ ড্রেনটি ঢাকা ওয়াসার। এই ড্রেনটি অনেক পুরনো। অথচ এই ড্রেনটি পরিস্কার করতে কোন ধরনের লাইফ সাপোর্ট ছাড়াই অঞ্চল-২ এর সহকারী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ড্রেন ক্লিনার খোরশেদ আলমকে বাধ্য করেন। তাদের মৌখিক নির্দেশ এই ড্রেনটি পরিস্কার না করলে চাকরি থাকবে না।

পরে নিরুপায় হয়ে চাকরির মায়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই খোরশেদ আলম ড্রেনটি পরিস্কার করার জন্য নামেন। ড্রেনে নামার সাথে সাথে খোরশেদ আলম বিষাক্ত ময়লা পানিতে তলিয়ে যান এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এমনকি তার কোমড়ে একটি মোটা রশি পর্যন্ত বাধা ছিল না। পরে বহু কষ্টে তাকে ওই ড্রেন থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে ‘সোহরাওয়াদী হাসপাতালে’ নেওয়ার পর কর্মরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষাণা করেন।

এই বিষয়ে অঞ্চল ২ এর সহকারী প্রধান বর্জ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বাসুদের জানান, ঘটনার সময় তিনি এবং ওই ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক (সি আই ) উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া জোর করে ওই ড্রেনে ক্লিনার খোরশেদ আলমকে নামানোর প্রশ্নই আসে না। ড্রেন পরিস্কার করা তাদের দায়িত্ব। এসব অভিযোগ আমলে নেওয়ার মতো না।

এদিকে ক্লিনার খোরশেদ আলমের দূর্ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত চলে আসেন ডিএনসিসির প্রধান বর্জব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপটেন মঞজুর হোসেনসহ সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা এবং স্ক্যাভেঞ্জার অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেনসহ (ক্লিনার অ্যাসোসিয়েশনের) নেতা- কর্মীরা। তারা সোহরাওয়াদী হাসপাতালে ছুটে যান।

শুধু তাই নয়, মৃত খোরশেদ আলমের লাশ নিয়ে তারা মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের পাশে তার কোয়াটারের সামনে নিয়ে আসেন। বাদ মাগবির মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

এদিকে স্ক্যাভেঞ্জার অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, ডিএনসিসির প্রধান বর্জব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপটেন মঞজুর হোসেন স্যার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং ৪/৫ ঘন্টা সময় দিয়েছেন। আমাদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। যারফলে এই ঘটনায় কোনো ধরনের মামলায় যায়নি মৃত খোরশেদ আলমের পরিবারের সদস্যরা।

তবে এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির জন্য মাননীয় মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব এবং প্রধান বর্জব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা স্যারসহ সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা প্রয়োজন। সিটি করপোরেশনে একটা রেওয়াজ আছে কোনো ক্লিনার মারা গেলে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ওই পরিবার থেকে উপযুক্ত কাউকে চাকরি দেওয়ার কথাও রয়েছে।
কিন্তু ২০১৭ সাল থেকে এই রেওয়াজ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এই বিষয়ে তিনি সংশ্লিস্টদের কাছে আবেদন জানান। # একে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019