• প্রচ্ছদ » অন্যরকম » আগামী ২ বছরের মধ্যে গণপরিবহনে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে: মেয়র খোকন


আগামী ২ বছরের মধ্যে গণপরিবহনে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে: মেয়র খোকন

জয়যাত্রা ডট কম : 07/09/2019


নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে গণপরিবহনে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে পথচারীদের অসচেতনতায় ৯০ ভাগ দূর্ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন শহরে বিভিন্ন দূর্ঘটনা হচ্ছে, এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। এসব দূর্ঘটনায় অনেকে প্রাণ হারাচ্ছে। কেউবা হতাহত হচ্ছে। বর্তমান সরকার গণপরিবহন খাতের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আমাকে প্রধান করে কমিটি গঠন করেছে।
এ কমিটি নগরবাসীর কাছে দুই বছর সময় চেয়েছে। এ সময়ের মধ্যে রাজধানীর গণপরিবহনখাতের ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হবে।

শনিবার (৭ সেপ্টম্বর) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের কাউন্সিল হলে ‘গণপরিবহনের শৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন এসব কথা বলেন।

ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) পুরকৌশল বিভাগ এবং নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। আইইবির পুরকৌশল বিভাগের সভাপতি প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমানের সভাপত্বিতে গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, আইইবির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান, সম্মানী সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, পুরকৌশল বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম-বাংলাদেশের সভাপতি অমিতোষ পাল, সাধারণ সম্পাদক মতিন আব্দুল্লাহ প্রমুখ। গোলটেবিল বৈঠকের সঞ্চালনা করেন, আইইবির পুরকৌশল বিভাগে ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।

ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন আরো বলেন, ইতিমধ্যে গণপরিবহনের শৃঙ্খলা রক্ষায় ধানমন্ডি-নিউমার্কেট, এয়ারপোর্ট-গুলিস্তান এবং উত্তরা চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এরমধ্যে কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়ায় উত্তরা চক্রাকার বন্ধ করা হয়েছে। নতুন করে পুরান ঢাকায় চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হবে। এভাবে ধারাবাহিক একটু একটু পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে দুই বছরে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, বৈঠকে কয়েকটা প্রস্তাব এসেছে যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এরমধ্যে পরিবহন ব্যবস্থাকে ‘বিজনেস মডেলে’ রুপান্তর করতে হবে। একটা ব্যবসা বান্ধব পরিবহন তৈরি করা গেলে নগরীতে টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

এছাড়া বর্তমানে গনপরিবহনের মধ্যে বাসগুলোর পর্দা, গ্লাস, পাখাসহ আনুসাঙ্গিক কিছু কাজ করা গেলে মানুষ গনপরিবহন মুখি হবেন। আপনাদের ছোট ছোট কিছু উদ্যোগ বা পরামর্শ যা বাস্তবায়ন করা গেলে গণপরিবহন আরো সুন্দর হবে।

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, গত একদশকে নগরী যেভাবে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে, সে অনুযায়ি নগরের সেবাদাতা সংস্থাগুলো প্রবৃদ্ধি ঘটাতে সক্ষম হয়নি। যার ফলে যখন পরিবহনে সমস্যা দেখা দেয়, তখন তা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। আবার যখন মশা বাহিত রোগ দেখা দেয় তখন তা নিয়ন্ত্রন করতে হিমশিম খেতে হয়। তবে এখন সময় এসেছে সক্ষমতা বাড়ানোর এবং সমন্বয়হীনতা দূর করানোর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেবাদাতা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে এবং সমন্বয়হীনতা দূর করতে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি প্রকৌশলীদের ইলেকট্রিক গণপরিবহনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের আহবান জানান।

ঢাকা মহানগর উত্তর ট্রাফিকের ডিসি প্রবীর কুমার রায় বলেন, পথচারীদের অসচেতনতার কারণে ৯০ ভাগ দূর্ঘটনা ঘটছে। ফুটওভার ব্রিজ থাকার পরও নগরবাসী সেসব ব্যবহার করছে না।

এজন্য বনানীতে আমরা জনসেচতনতার জন্য একটি মডেল চালু করেছি। তিনি বলেন, কেউ যদি ওই সড়কে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে পায়ে হেঁটে সড়ক পারাপারের চেষ্টা করে; তবে তাকে এক ঘন্টা আটকে রাখা হয়। এসময় তাকে ৫ মিনিটের চেয়ে যে জীবনের মূল্য বেশি সে বিষয়ে বোঝানো হয় এবং ট্রাফিক আইনের গুরুত্ব বুঝিয়ে সচেতন করা হয়।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন বলেন, নগর গণপরিবহনের সমস্যা সমাধানে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা বা এসটিপি করা হলেও বিগত তার তেমন কোন বাস্তবায়ন নেই। ছাত্র আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী ৫-৬টি নির্দেশনা দিলেও তার কোন বাস্তবায়ন নেই।

তিনি বলেন, শহরে সিটি টার্মিনাল নেই। কেন্দ্রীয় ট্রাফিক সিস্টেম এখনো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। দেশে ভাল ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার বা ট্রাফিক ইকোনোমিস্ট নেই। গণপরিবহনের বিদ্যমান সমস্যা গুলোর সমাধান করতে হলে দূর্বলতাগুলোর সমাধান করে পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এবং আইইবির পুরকৌশল বিভাগের ভাইস- চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থার পরিচালনা, সরবরাহ ও আইনগত অনেক ক্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে। এ ক্রুটিগুলোর সমাধান করা ছাড়া পরিববহন ব্যবস্থার উন্নতি করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, আমাদের শহরের সড়ক যোগাযোগের নানান সমস্যা রয়েছে। বেশির ভাগ সড়ক উত্তর ও দক্ষিণ মুখি। একারণে পূর্ব-পশ্চিম মুখো চলাচলকারীরাও উত্তর-দক্ষিণমুখো সড়কে প্রবেশ করায় বিপত্তি ঘটছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ১৬ ভাগ প্রতিবন্ধী রয়েছে। তাদের কথা মাথায় রেখে আমরা তেমন কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারিনি। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে আমাদেরকে নানাবিধ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

রাজধানীর গণপরিবহন গবেষক প্রকৌশলী ড. আব্দুল আল মামুন বলেন, সিস্টেম ডেভেলপ করা গেলে ঢাকাশহরের গণপরিবহন পুরোপুরি শৃঙ্খলায় আনা সম্ভব হবে। এজন্য ‘বিজনেস মডেল’ গ্রহণ করে, তারই আলোকে ঢাকার গণপরিবহনগুলো কার্যকরভাবে গড়ে তুলতে হবে। # একে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019