দুর্নীতি ও জনগণকে হয়রানীর অভিযোগে দুদকের অভিযান

জয়যাত্রা ডট কম : 09/09/2019


নিজস্ব প্রতিবেদক :
দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট সারাদেশে ঘুষ,দুর্নীতি,জনগণকে হয়রানীর অভিযোগে ৫টি অভিযান পরিচালানা করেছে। এছাড়া ৩ জেলা প্রশাসক ও ৭ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চিঠি দিয়েছে। সোমবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক টিম এসব অভিযান চালান।

এরমধ্যে লক্ষীপুরে নামজারীর আবেদন নিস্পত্তির জন্য অবৈধভাবে অর্থ দাবীর অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে ১০৬ এ আগত এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী’র সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদের নেতৃত্বে লক্ষীপুর সদরের উত্তর জয়পুর ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করেন।

সরেজমিন অভিযানে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন কর্তৃক সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সংগৃহীত রেকর্ড ও তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, উল্লিখিত ভূমি অফিসে গত ২১/০৪/২০১৯ তারিখে ঢাকা’র তেজগাঁও কলেজের একজন অধ্যাপক নামজারির জন্য আবেদন করেন।

তিনি আরো জানান, অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা টাকা না দিলে বিপক্ষে রিপোর্ট দিবেন মর্মে ভয় দেখিয়ে আবেদনকারীর নিকত হতে অবৈধভাবে ৫০০০ টাকা গ্রহণ করেন, এবং আরও ৩০০০ টাকা দাবী করেন। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা’র সহকারী কমিশনার (ভূমি) গত ১১/০৬/২০১৯ তারিখে রেকর্ড সংশোধন করে আবেদনকারীকে খতিয়ান দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

কিন্তু অবশিষ্ট ৩০০০ টাকা না দেওয়ায় ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবেদনকারীর খতিয়ান আটকে রাখেন। প্রায় চার মাস ভোগান্তির পর আগস্টের শেষ সপ্তাহে আবেদনকারী ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরে এসে খতিয়ানটি পেতে সমর্থ হন।

অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন -এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করবে অভিযানকারী টিম।

দুদক কর্মকর্তা আরো জানান, এদিকে টাঙ্গাইল কাস্টমস অফিসের কর্মকর্তাগণ কর্তৃক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে অবৈধ অর্থ গ্রহণপূর্বক সরকারের রাজস্ব আদায়ে অবহেলার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করছে দুদক।

দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে অভিযোগ আসে, টাঙ্গাইল সদর এবং দেলদুয়ার উপজেলার প্রায় ৪৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অবৈধ অর্থের বিনিময়ে টাঙ্গাইল কাস্টমস অফিসের ইন্সপেক্টর-দের সাথে যোগসাজশ করে সরকারি কোষাগারে নামমাত্র রাজস্ব জমা দেন।

তৎপ্রেক্ষিতে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, টাঙ্গাইল -এর সহকারী পরিচালক মোঃ আতিকুল আলমের নেতৃত্বে গত ৮ সেপ্টেম্বর দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়। দুদক টিম বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পায়।

কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ গ্রহণের জন্য কাস্টমস ইন্সপেক্টরদের বিভিন্ন অংকের অর্থ প্রদান করেছেন মর্মে দুদক টিমের নিকট স্বীকার করেন।

দুদক টিমের পক্ষ হতে এ অনিয়মের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে ওয়াসা’র ক্রয়কার্যে অনিয়মের অভিযোগে, লক্ষ্মীপুর প্রধান ডাকঘরে সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশসহ মূলধন প্রদানে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে এবং পাবনার ঈশ্বরদী-তে রেলওয়ে কর্মচারীদের পোশাক ভাতার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে যথাক্রমে প্রধান কার্যালয়, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী ও সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পাবনা হতে ৩টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। # একে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019