তাজিয়া মিছিলে কারবালার স্মরণে মাতম

জয়যাত্রা ডট কম : 10/09/2019


নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ মঙ্গলবার পবিত্র আশুরা। ফোরাত নদীর তীরে কারবালা ট্রাজেডি স্মরণে সকাল থেকে পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল বের করেছে শিয়া মুসলমানরা। দিনটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার কঠোর নিরপত্তার মধ্যা দিয়ে পুরান ঢাকার হোসেনী দালানের ইমামবাড়া থেকে আশুরার প্রধান তাজিয়া মিছিল শুরু হয়। হাজারো মানুষের ঢল নামা এ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকে কালো পাজামা-পাঞ্জাবি পরেছেন, আবার কেউ পরেছেন সাদা-কালো পোশাক। হাতে হাতে ঝালর দেওয়া লাল, কালো, সবুজ ঝাণ্ডা। বুক চাপড়ে, ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতমে কারাবালা ট্রাজেডিকে স্মরণ করছেন তারা। শোক মিছিলটি উর্দু রোড, লালবাগ গোর-এ-শহীদ মাজার, আজিমপুর, নিউ মার্কেট হয়ে ধানমণ্ডি ২ নম্বর সড়কের পশ্চিম প্রান্তে প্রতীকী ‘কারবালা’ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা।

হিজরি ৬১তম বর্ষের (৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) ১০ মহররম হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন। মুসলিম বিশ্ব বিশেষ করে শিয়া মুসলমানরা দিনটিকে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে পালন করে।

তাজিয়া মিছিলের পুরোভাগে কারবালার স্মরণে কালো চাঁদোয়ার নিচে কয়েকজন বহন করেন ইমাম হোসেনের (রা.) প্রতীকী কফিন। মিছিলের সামনে থাকে ইমাম হাসান ও ইমাম হোসেনের দুটি প্রতীকী ঘোড়া। এর মধ্যে দ্বিতীয় ঘোড়ার জিন থাকে রক্তে রাঙা।

২০১৫ সালে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির মধ্যে ইমামবাড়ায় জঙ্গি হামলা হয়। এ ঘটনার পর থেকে আশুরায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি বাড়ানো হয়। পুলিশ তাজিয়া মিছিলে ধারালো অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করে। ঐতিহ্য অনুযায়ী এর আগে তাজিয়া মিছিলে ছুরি, ধারালো অস্ত্র বহন করতেন যুবকেরা। তারা ইমাম হোসেনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্মরণে নিজের শরীরে আঘাত করে নিজেকে রক্তাক্ত করতেন।

পুরান ঢাকায় সোমবার থেকেই আশুরার প্রস্তুতি শুরু হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে ইমামবাড়া থেকে ধানমণ্ডি লেক পর্যন্ত রাস্তার পাশে অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। মিছিলের সামনে ও পেছনে গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপত্তা ঢাল। বিভিন্ন ভবনের ছাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। বকশীবাজার মোড়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের জলকামান ও সাজোয়া যান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় জানান, শুধু পুলিশ নয়, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও আছেন সাধারণ পোশাকে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, লালবাগ, পল্টন এবং মগবাজার এলাকা থেকেও তাজিয়া মিছিল বের করছেন শিয়া মতাদর্শে বিশ্বাসীরা। দেশের অন্যান্য জেলাতেও শোকের তাজিয়া মিছিলে বের হয়েছে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। এখানে হানাহানি, হিংসা, দ্বেষ বা বিভেদের কোনো স্থান নেই। ধর্মীয় উগ্রবাদ, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদসহ কুসংস্কারমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমাজে সত্য ও সুন্দরের আলো ছড়িয়ে দিতে পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা সকলের প্রেরণার উৎস হোক- এ প্রত্যাশা করি।

আর প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, আমি আশা করি, জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পবিত্র আশুরা হতে আমরা সকলে শিক্ষা নেব।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019