• প্রচ্ছদ » জাতীয় » ডিএনসিসিতে শুরু হচ্ছে হেল্পডেস্ক. টার্গেট রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও বহিরাগত দালাল তাড়ানো


ডিএনসিসিতে শুরু হচ্ছে হেল্পডেস্ক. টার্গেট রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও বহিরাগত দালাল তাড়ানো

জয়যাত্রা ডট কম : 20/09/2019


আবুল কাশেম:
সেবার মান বৃদ্ধি, ব্যবাসয়ীদের দ্রুত সেবা প্রদান এবং বহিরাগত দালাল ও টেন্ডল মুক্ত করার জন্য প্রতিটি আঞ্চলিক কার্যালয়ে রাজস্ব বিভাগে হেল্পডেস্ক বসাতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশেনের (ডিএনসিসি)। আর এই হেল্পডেস্ক চালু হলে ডিএনসিসির সেবার মান বাড়ার পাশাপাশি রাজস্ব আদায় অনেক বেড়ে যাবে এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানী অনেক কমে যাবে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।

ডিএনসিসির রাজস্ব বিভাগের বেশ কয়জন কর্মকর্তার সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানা যায়। তারা মনে করেন হেল্পডেস্ক বসালে সেবার মান বাড়বে এবং বহিরাগত দালালদের উৎপাত ও প্রতারণা কমে যাবে।

শুধু তাইনয়, বহিরাগত দালালদের চিহ্নিত করার জন্য ডিএনসিসির প্রত্যেক কর্মচারীকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ফিতাযুক্ত পরিচয়পত্র গলায় ঝুঁলিয়ে রাখার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে বহিরাগত দালালদের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি শুর হয়েছে ডিএনসিসির আঞ্চলিক রাজস্ব কার্যালয়গুলোতে।

এদিকে মেয়রের নির্দেশে গত দুই মাস যাবৎ এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা কাজের সহযোগিতার জন্য ডিএনসিসিতে চালু করা হয়েছে কন্টোল রুম। আর এই কন্টোল রুমে রোস্টার (তালিকা) অনুযায়ী প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে ডিইউটি করছেন রাজস্ব বিভাগের ৫৪ জন কর্মকর্তা। এরমধ্যে ট্রেডলাইসেন্স সুপারভাইজার, উপ কর কর্মকর্তা (ডিটিও), রেভিনিইউ সুপারভাইজার (আরএস), হিসাব সহকারী ও বিল ক্লার্ক রয়েছেন।

এরমধ্যে ১১ জন লাইসেন্স সুপারভাইজারও রয়েছেন। রাজস্ব বিভাগের ওই ৫৪ জনকে কেন্টাল রুমের ডিউটি থেকে অব্যাহতি দিয়ে দ্রুত আঞ্চলিক কার্যালয়ে স্ব স্ব টেবিলে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়েও ভাবচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থা চলতে থাকলে এবার রাজস্ব আদায় মারাত্নকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে এবং বাজেটে উল্লেখ করা রাজস্ব আদায়ের টার্গেট ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্খা রয়েছে।

এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই ডিএনসিসি আঞ্চলিক কার্যালয়ে রাজস্ব বিভাগের ট্রেড লাইসেন্স শাখায় দুইটি করে হেল্পডেস্ক বসাতে যাচ্ছেন। এই হেল্পডেস্কের কাজ হবে ব্যবসায়ীদের আবেদনপত্র গ্রহণ কারার পাশাপাশি সঠিক পরামর্শ দেওয়া। ফলে ব্যবসায়ীদের আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থা্কতে হবে না। নির্ধারিত তারিখে এসে লাইসেন্সের ফি জমা দিয়ে লাইসেন্স নিয়ে যাবেন। বহিরাগত দালালদের খপ্পড়ে পড়তে হবে না।

তবে ২টি কন্টোল রুমে ডিউটি করার জন্য বিকল্প জনবলের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। নতুন এই তালিকায় থাকছেন, ট্রাফিক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, সমাজ কল্যান , গবেষণা ও লাইব্রেরি পরিবেশ বিভাগের, স্বাস্থ্য বিভাগের ইপিআই শাখাসহ কম ব্যবস্তা সম্পন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের কন্টোল রুমে সীমিত আকারে ্উটি দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও ভাবছেন কর্তৃপক্ষ।

কারণ চলতি অর্থ বছরের প্রায় ৩ মাস চলে গেছে । ডিএনসিসির ইতোমধ্যে রাজস্ব আদায় অনেকটাই ঝুঁকিতে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে রাজস্ব আদায় অর্ধেকে নেমে আসার আশংকা রয়েছে।

খোজঁনিয়ে জানা যায, বর্তমানে ডিএনসিসির পুরনো ৩৬টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি আরো নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে নতুন করেন ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম একসাথে শুরু হয়েছে। আরএসব কাজে প্রতিদিন ডিএনসিসির পুরনো ৫টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে রাজস্ব বিভাগে গড়ে ৫/৬ শতাধিক লোক ভীড় করছেন। ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যবসায়ী এবং ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু রাজস্ব বিভাগের ট্রেড লাইসেন্স শাখায় দাঁয়িত্ব প্রাপ্ত ট্রেডলাইসেন্স সুপারভাইজার সংশ্লিষ্ট টেবিলে উপস্থিত না থাকায় ব্যবসায়ীরা নানা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন এবং বহিরাগত দালালদের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছেন। দালালরা অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছন এবং তারা সারাধরণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ফেলছেন।

আরো জানান যায়, আঞ্চলিক কার্যালয়ে অফিসচলাকালে ডিএনসিসির রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে বহিরাগত দালালরা ডিএনসিসির কর্মচারী পরিচয়ে চেয়ার টেবিলে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। আবার কখনো সংশ্লিষ্ট ট্রেডলাইসেন্স সুপারভাইজারদের উপস্থিতিতেই তারদের পাশে বসে কাজ করছেন এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এদিকে ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপ সচিব) মো. আবদুল হামিদ মিয়া ‘জয়যাত্রা ডটকমের এই প্রতিনিধিকে’ বলেন. ডিএনসিসির আঞ্চলিক রাজস্ব বিভাগের কার্যালয়ে বহিরাগত দালাল কিংবা টেন্ডলদের কোনো স্থান নেই। দালালদের ধরতে পারলে পুলিশে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে মাননীয় মেয়রের। ডিএনসিসিতে ঘুষ, দুর্নীতি , অনিয়ম , ব্যবসায়ীসহ জনগণকে হয়রানী সহ্য করা হবে না। ঘুষ দুর্নীতির এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরোট্রলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম মহোদয়।

প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বলেন, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির স্বাথে হেল্প ডেস্ক চালুর পাশাপাশি ডিএনসিসির কন্টোল রুমে ডিউটিরত রাজস্ব বিভাগের ওই ৫৪ জনকে দ্রুত আঞ্চলিক কার্যালয়ে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে। কারণ তাদেরকে স্বস্ব টেবিলে ফিরিয়ে না নিলে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ডিএনসিসির প্রতিটি আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রচন্ড ভীড় শুরু হয়েছে নগরবাসীর। এরমধ্যে ব্যবসায়ীসহ ট্যাক্স প্রদানকারী জনগণ নানা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন এই অভিযোগটি সত্য। যারফলে নগরবাসীকে দ্রুত সেবা প্রদানের জন্য বাস্তবমুখী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ কর হচ্ছে। # একে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক - তোফাজ্জল হোসেন
Mob : 01712 522087
ই- মেইল : [email protected]
Address : 125, New Kakrail Road, Shantinagar Plaza (5th Floor - B), Dhaka 1000
Tel : 88 02 8331019